সৃজনশীল

সোনার তরী কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর ২০২২

সোনার তরী কবি তার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর: ‘সোনার তরী’ কবিতায় মহাকালের কালস্রোতে সৃষ্টিকর্মের টিকে থাকার দিকটি উন্মোচিত হয়েছে। মৃত্যুকে কোনো মানুষই এড়িয়ে যেতে পারে না। মৃত্যুর করালগ্রাস তাকে স্পর্শ করবেই এমনটাই প্রকৃতির নিয়ম। মৃত্যুর মধ্যদিয়ে মানুষ তার শারীরিক অস্তিত্ব হারালেও তাঁর কৃতকর্মকে মৃত্যু স্পর্শ করতে পারে না। 
প্রতিদান কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

‘সোনার তরী’ কবিতায় কবি ব্যক্তিমানুষের চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে মৃত্যুকে চিহ্নিত করেছেন। তিনি মনে করেন, মহাকালের স্রোতে মানুষ হারিয়ে যায়। বেঁচে থাকে কেবল তাঁর সৃষ্টিকর্ম। আর তাই মহাকালের খেয়ায় মানুষের কর্মফল জায়গা পেলেও ব্যক্তিমানুষের স্থান সেখানে হয় না । ফলে একসময় তাঁকে অনিবার্যভাবেই মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে হয় 

সোনার তরী কবিতার মূলভাব হলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মৃত্যু সম্পর্কিত ভাবনা প্রকাশ পেয়েছে এ কবিতায়। বিশ্বের অন্যান্য লেখকের তুলনায় মৃত্যুভাবনার দিক থেকেও তিনি ছিলেন স্বতন্ত্র। বস্তুত, মৃত্যু তাঁর কাছে জীবনেরই আরেক রূপ। জন্মান্তরবাদে বিশ্বাসী কবির চোখে এক জন্ম থেকে অপর জন্মের যাত্রাপথই মৃত্যু। একইভাবে, “সোনার তরী’ কবিতাতেও কবি মৃত্যুকে দেখেছেন ব্যক্তিমানুষের অনিবার্য পরিণতি হিসেবে। তিনি মনে করেন, স্রোতধারায় মানুষের সৃষ্টিশীল ও সুকৃতিময় কর্ম টিকে গেলেও শিল্পস্রষ্টাকে মৃত্যুর কাছে আত্মসমর্পণ করতেই হয়।

সোনার তরী কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

যদি সোনার তরী কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর সার্চ করে থাকেন তাহলে আজকের পোস্টটি আপনার জন্য উপযুক্ত। আজকে সোনার তরী কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর জেনে নিতে পারবেন। তাহলে দেরি না করে শুরু করা যাক।

সৃজনশীল প্রশ্ন নম্বর ০১

বিখ্যাত চিত্রকর্ম মোনালিসা লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির শ্রেষ্ঠ শিল্প। যা আজও সারা বিশ্বে আজও সমান জনপ্রিয়।
ক. ‘খরপরশা’ শব্দের অর্থ কী?
খ. ‘চারিদিকে বাঁকা জল – চরণটিতে কীসের ইঙ্গিত রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের চিত্রকর্মটির মধ্য দিয়ে ‘সোনার তরী’ কবিতার কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? আলোচনা করো।
ঘ. ‘মোনালিসা’ চিত্রকর্মটিকে ‘সোনার তরী’ কবিতার ধানের সঙ্গে তুলনা করা কতটা যুক্তিযুক্ত? বিশ্লেষণ করো।

সৃজনশীল প্রশ্ন নম্বর ০১ এর উত্তর সমূহ

ক. ‘খরপরশা’ শব্দের অর্থ শানিত বা ধারালো বর্শা।
খ. ‘চারিদিকে বাঁকা জল’- চরণটির মধ্যদিয়ে বর্ষার জলস্রোতবেষ্টিত ছোটো জমিটুকুর বিলীন হওয়ার আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি ব্যক্ত হয়েছে।
‘সোনার তরী’ কবিতায় কবি নানা রূপক এবং দৃশ্যের অবতারণা ঘটিয়েছেন। উদ্ধৃত অংশের মধ্য দিয়ে তেমনই অসাধারণ একটি দৃশ্যকল্প তৈরি হয়েছে। কবিতায় ধানখেতটি ছোটো দ্বীপের মতো কল্পিত। তার চারপাশে ঘূর্ণায়মান স্রোতের উদ্দামতা। নদীর ‘বাঁকা জলস্রোত’ পরিবেষ্টিত ছোট্ট জমিটুকুর আশু বিলীন হওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে এ অংশে। এখানে বাঁকা জল কালস্রোতের প্রতীক।
গ. উদ্দীপকের চিত্রকর্মটির মধ্য দিয়ে ‘সোনার তরী’ কবিতায় প্রকাশিত সৃষ্টিকর্মের মহাকালের পঙক্তিতে স্থান পাওয়ার দিকটি ফুটে উঠেছে।
‘সোনার তরী’ কবিতায় মহাকালের কালস্রোতে সৃষ্টিকর্মের টিকে থাকার দিকটি উন্মোচিত হয়েছে। মৃত্যুকে কোনো মানুষই এড়িয়ে যেতে পারে না। মৃত্যুর করালগ্রাস তাকে স্পর্শ করবেই— এমনটাই প্রকৃতির নিয়ম। মৃত্যুর মধ্যদিয়ে মানুষ তার শারীরিক অস্তিত্ব হারালেও তাঁর কৃতকর্মকে মৃত্যু স্পর্শ করতে পারে না। উদ্দীপকের চিত্রটির ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি।
 উদ্দীপকে বিশ্বখ্যাত চিত্রশিল্পী লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির অমর সৃষ্টি ‘মোনালিসা’ চিত্রকর্মটিকে তুলে ধরা হয়েছে। শিল্পী এটি ১৫০৩ থেকে ১৫০৬ খ্রিস্টাব্দের মাঝামাঝি সময়ে এঁকেছিলেন। আজ থেকে পাঁচশ বছর আগে অঙ্কিত এ চিত্রকর্মটি আজও সারা বিশ্বের মানুষের কাছে সমান জনপ্রিয়। অর্থাৎ সময়ের চোরাস্রোতে ব্যক্তি লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির মৃত্যু হলেও তাঁর সৃষ্টিকর্ম হিসেবে ‘মোনালিসা’ চিত্রকর্মটি হারিয়ে যায়নি। একইভাবে, ‘সোনার তরী’ কবিতায় সোনার ধানের রূপকে কবি মানুষের কর্মফল তথা সৃষ্টিকর্মের অমরতার প্রসঙ্গটিকেই উপস্থাপন করেছেন । সেখানে তিনি দেখিয়েছেন, মহাকাল ব্যক্তি কৃষককে গ্রহণ না করলেও তাঁর উৎপাদিত সোনার ফসল তথা সৃষ্টিকর্মকে ঠিকই স্থান দিয়েছে। উদ্দীপকের চিত্রকর্মটি এ বিষয়েরই প্রামাণ্য দলিল। সে বিবেচনায় উদ্দীপকের চিত্রকর্মটির মধ্য দিয়ে কবিতায় প্রকাশিত সৃষ্টিকর্মের অমরতার দিকটিই ফটে উঠে
ঘ. ভাবার্থের দিক থেকে ‘মোনালিসা’ চিত্রকর্মটিকে ‘সোনার তরী’ কবিতার সোনার ধানের সঙ্গে তুলনা করা যায়
‘সোনার তরী’ একটি রূপকধর্মী কবিতা। এ কবিতায় কবি একটি গ্রামীণ চিত্রপটের আড়ালে এর ভাবসত্যকে উন্মোচন করেছেন। সেখানে মহাকাল মানুষের অস্তিত্ব বিলীন করে দিলেও তার কর্মকে যে যথাযথ মূল্যায়ন করে তার পরিচয় পাওয়া যায়। আলোচ্য কবিতাটিতে কৃষকের উৎপাদিত সোনার ধানই তার কর্মফল।
উদ্দীপকে প্রদত্ত ছবিটি বিশ্ববিখ্যাত চিত্রশিল্পী লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির অমর চিত্রকর্ম ‘মোনালিসা’। ১৫০৩-১৫০৬ খ্রিষ্টাব্দের মাঝামাঝি সময়ে ছবিটি তিনি এঁকেছিলেন। আর তিনি মৃত্যুবরণ করেছিলেন ১৫১০ সালে। শিল্পীর মৃত্যুর পর এখন পর্যন্ত পাঁচশ বছরেরও বেশি সময় কেটে গেছে। অথচ বহু শতাব্দী কেটে যাওয়ার পর আজও মানুষ এ শিল্পকর্মটি দেখে অভিভূত হয়। অর্থাৎ শিল্পস্রষ্টার মৃত্যুতেই তার সৃষ্টিকর্ম হারিয়ে যায় না। মহৎ শিল্পকর্ম টিকে থাকে যুগ থেকে যুগান্তরেও ।
‘সোনার তরী’ কবিতায় সৃষ্টিশীল মানুষের কৃতকর্মকে রূপক অর্থে ধান বলা হয়েছে। কবি মনে করেন, মানুষ তার সৃষ্টিশীল মহৎ কাজ তুলে দেয় মহাজগতের কাছে। কালের আবর্তে সেসব কাজ বিচার-বিশ্লেষিত হয় মহাকালের নিজস্ব মানদণ্ডে। সে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কাজ টিকে থাকে কালোত্তীর্ণ হয়ে। উদ্দীপকের ‘মোনালিসা’ চিত্রটি শিল্পী লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির তেমনই একটি সৃষ্টিশীল কাজ। কালপরিক্রমায় ব্যক্তি লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি মৃত্যুবরণ করেছেন ঠিক, তবে তাঁর শিল্পকর্ম ‘মোনালিসা’ এখনো টিকে আছে । আলোচ্য কবিতায় উল্লেখ্য ‘সোনার ধান’ হচ্ছে সেই কাজের রূপকবিশেষ। চিত্রকর্মটিকে ‘সোনার তরী’ কবিতার ধানের সঙ্গে তুলনা করা যৌক্তিক বলে প্রতীয়মান হয়। সে বিবেচনায় উদ্দীপকের ‘মোনালিসা’ চিত্রকর্মকে সোনার তরী কবিতার ধানের সঙ্গে তুলনা করা যৌক্তিক বলে মনে হয়।

সোনার তরী কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন নম্বর ০২

রবীন্দ্রনাথের ‘মৃত্যুভাবনা’ জীবনের আরেক নাম। জন্মজন্মান্তরের যাত্রাপথে পরমাত্মীয়ের মতো নতুন নতুন জীবনপথের অনুসন্ধান দান করে সে। মরণ কখনো তাই মহাকালের মিলনদৃত। কবির মানস সরোবরে অনুভতির বর্ণচ্ছটায় রহস্যময় আবরণ পড়ে বিশেষকে ছাড়িয়ে হয়ে উঠেছে নির্বিশেষ। আবার পরক্ষণেই নির্বিশেষ থেকে বিশেষের স্তরে নেমে এসে ব্যক্তিসত্তা নিয়ে উপস্থিত হয়েছে প্রণয়িনী রাধিকার শ্যামকৃষ্ণ হয়ে। পাশ্চাত্যের লেখকদের সঙ্গে ভাবনার মিল থাকা সত্ত্বেও অন্যসব ক্ষেত্রে যেমন, তেমনি মৃত্যুভাবনার ক্ষেত্রেও বিশ্বকবির মৃত্যুচেতনা একান্তভাবে একক।
ক. শূন্য নদীর তীরে কে পড়ে রইল?
খ. কবিতাটিতে মেঘে ঢাকা গ্রামের চিত্রকল্পের ভেতর দিয়ে প্রকৃতির কোন রূপটি প্রকাশিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো। 
গ. উদ্দীপকে ‘সোনার তরী’ কবিতার কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? তুলে ধরো।
ঘ. মৃত্যু নিয়ে উদ্দীপকের সঙ্গে ‘সোনার তরী’ কবিতার দৃষ্টিভঙ্গিগত পার্থক্য বিশ্লেষণ করো।

সৃজনশীল প্রশ্ন নম্বর ০২ এর উত্তর সমূহ

ক. শূন্য নদীর তীরে কৃষক পড়ে রইল।
খ. কবিতাটিতে মেঘে ঢাকা গ্রামের চিত্রকল্পের ভেতর দিয়ে বর্ষা প্রকৃতির রূপটি প্রকাশিত হয়েছে।
‘সোনার তরী’ কবিতায় গ্রামীণ চিত্রকল্পে ভর করে কবিতাটির মূলবক্তব্য উপস্থাপন করেছেন কবি। এরই ধারাবাহিকতায় কবিতাটিতে তিনি দূরের মেঘাচ্ছন্ন গ্রামের চিত্রপট উপস্থাপন করেছেন। সাধারণত বর্ষাকালেই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে। এই মেঘাচ্ছন্ন আকাশ মূলত ভারি বৃষ্টিপাতসহ দুর্যোগের ইঙ্গিতবাহী। এর মধ্য দিয়ে আলোচ্য কবিতায় বর্ষা-প্রকৃতির দুর্যোগময় রূপটিকেই উন্মোচন করা হয়েছে ।
গ. উদ্দীপকে ‘সোনার তরী’ কবিতার মৃত্যুভাবনার দিকটি ফুটে উঠেছে।
‘সোনার তরী’ কবিতায় কবি ব্যক্তিমানুষের চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে মৃত্যুকে চিহ্নিত করেছেন। তিনি মনে করেন, মহাকালের স্রোতে মানুষ হারিয়ে যায়। বেঁচে থাকে কেবল তাঁর সৃষ্টিকর্ম। আর তাই মহাকালের খেয়ায় মানুষের কর্মফল জায়গা পেলেও ব্যক্তিমানুষের স্থান সেখানে হয় না । ফলে একসময় তাঁকে অনিবার্যভাবেই মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে হয়  উদ্দীপকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মৃত্যু সম্পর্কিত ভাবনা প্রকাশ পেয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য লেখকের তুলনায় মৃত্যুভাবনার দিক থেকেও তিনি ছিলেন স্বতন্ত্র। বস্তুত, মৃত্যু তাঁর কাছে জীবনেরই আরেক রূপ। জন্মান্তরবাদে বিশ্বাসী কবির চোখে এক জন্ম থেকে অপর জন্মের যাত্রাপথই মৃত্যু। একইভাবে, “সোনার তরী’ কবিতাতেও কবি মৃত্যুকে দেখেছেন ব্যক্তিমানুষের অনিবার্য পরিণতি হিসেবে। তিনি মনে করেন, স্রোতধারায় মানুষের সৃষ্টিশীল ও সুকৃতিময় কর্ম টিকে গেলেও শিল্পস্রষ্টাকে মৃত্যুর কাছে আত্মসমর্পণ করতেই হয়। অর্থাৎ উদ্দীপক’ ও আলোচ্য কবিতা উভয়ক্ষেত্রেই মৃত্যুর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উঠে এসেছে। সে বিবেচনায় উদ্দীপকে ‘সোনার তরী’ কবিতায় প্রকাশিত মৃত্যুভাবনার দিকটিই প্রতিফলিত হয়েছে।
ঘ. উদ্দীপকে মৃত্যুকে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হলেও ‘সোনার তরী’ কবিতায় তা মানুষের চিরন্তন অসহায়ত্বের প্রতীক ।
‘সোনার তরী’ একটি রূপকধর্মী কবিতা। এ কবিতায় কবি ব্যক্তিমানুষের চিরন্তন অসহায়ত্বের দিকটিকে উন্মোচন করেছেন। কাল সচেতন কবি লক্ষ করেছেন, সময়ের স্রোতধারায় ব্যক্তিমানুষ হারিয়ে যায়, টিকে থাকে কেবল তাঁর মহৎ অর্জন। মহাকালের কাছে ব্যক্তিমানুষের এই অসহায়ত্বকেই তিনি রূপায়িত করেছেন আলোচ্য কবিতাটিতে।
উদ্দীপকে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুভাবনার বিষয়টি উপস্থাপিত হয়েছে। জন্মান্তরে বিশ্বাসী কবির কাছে মৃত্যু যেন নবজন্ম লাভের দ্বার। আর তাই মৃত্যু কখনো তাঁর কাছে শ্যামের মতোই প্রিয়, আবার কখনো বা পরমাত্মীয়ের মতো। শুধু তাই নয়, ক্ষেত্রবিশেষে মৃত্যুকে তিনি মহাকালের সাথে তাঁর যোগসূত্র হিসেবেও কল্পনা করেছেন। বিশ্বের অন্যান্য লেখকের সাথে এখানেই তাঁর পার্থক্য। তবে আলোচ্য কবিতায় মৃত্যুর বিষয়টি এসেছে মানুষের চিরন্তন অসহায়ত্ব হিসেবে।
‘সোনার তরী’ একটি রূপক কবিতা। এ কবিতায় বিরূপ পরিবেশে এক নিঃসঙ্গ কৃষকের বিপর্যস্ত অবস্থার মধ্য দিয়ে কবিতাটির ভাবসত্যকে উপস্থাপন করেছেন কবি। সেখানে বিপন্ন কৃষকের আদলে মূলত মৃত্যুর জন্য অপেক্ষমাণ শিল্পস্রষ্টার অসহায়ত্বকে তুলে ধরা হয়েছে। বস্তুত, মৃত্যু জীবনের চূড়ান্ত পরিণতি, এর কবল থেকে কারও রেহাই নেই। পক্ষান্তরে, উদ্দীপকে রবীন্দ্রনাথ মৃত্যুকে দেখেছেন ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে। আর তাই মৃত্যু তাঁর কাছে পরমাত্মীয়ের মতো কাঙ্ক্ষিত হয়ে উঠেছে। অর্থাৎ আলোচ্য কবিতাটিতে মৃত্যুর কাছে ব্যক্তিমানুষের অসহায়ত্বের দিক উপস্থাপন করলেও উদ্দীপকে রবীন্দ্রনাথের ভাবনায় মৃত্যু জীবনেরই অন্য নাম। উদ্দীপকের সঙ্গে ‘সোনার তরী’ কবিতার দৃষ্টিভঙ্গিগত পার্থক্য এখানেই।

সোনার তরী কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর 

সৃজনশীল প্রশ্ন নম্বর ০৩

 আলম সাহেবের পেশা কৃষিকাজ। কৃষিকাজ করে তিনি দুই ছেলেমেয়েকে উচ্চশিক্ষিত করে তুলেছেন। তাঁর দুই ছেলেমেয়েই এখন ভালো চাকরি করেন। তাঁরা বাবা-মাকে বেশ সুখেই রেখেছেন। আলম সাহেব মনে করেন, এ সুখ দুদিনের। তাঁকে এ সুন্দর ভুবন ছেড়ে একদিন চলে যেতে হবে। তার আগে ছেলেমেয়েদের সুখের ব্যবস্থা করে যেতে পেরেছেন, তাতেই তাঁর শান্তি
ক. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কত সালে জন্মগ্রহণ করেন? 
খ. ‘সোনার তরী’ কবিতায় ‘সোনার ধান’ প্রতীকে কবি কী
বুঝিয়েছেন? ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের আলম সাহেব ও ‘সোনার তরী’ কবিতার কৃষকের মধ্যে সাদৃশ্য নিরূপণ করো।
ঘ. মহাকালের নিষ্ঠুর করালগ্রাস মানুষকে নিক্ষেপ করে বিস্মৃতির অতল গর্ভে’ ‘সোনার তরী’ কবিতা ও উদ্দীপকের আলোকে উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।

সৃজনশীল প্রশ্ন নম্বর ০৩ এর উত্তর সমূহ

ক. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬১ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
খ. ‘সোনার তরী’ কবিতায় ‘সোনার ধান’ প্রতীকে কবি সৃষ্টিশীল মানুষের মহৎ কর্মকে বুঝিয়েছেন।
এ পৃথিবীতে সবকিছুই নশ্বর। অবিনশ্বর শুধু মানুষের মহৎ কীর্তি। মহাকালের চিরন্তন স্রোতে মানুষ তার অনিবার্য মৃত্যুকে এড়াতে পারে না। কেবল বেঁচে থাকে সোনার ফসল অর্থাৎ মানুষের মহান কীর্তি । কর্মফলরূপী সোনার ধান মহাকালের উদ্দেশে ধাবমান সোনার তরীতে স্থান পেলেও ব্যক্তিমানুষের সেখানে স্থান হয় না। মহাকালের নিষ্ঠুর করালগ্রাস মানুষকে ফেলে যায় বিস্মৃতি আর অবহেলার মধ্যে; শুধু গ্রহণ করে তার মহৎ কীর্তি— যাকে কবি ‘সোনার ধান’ বলে উপমিত করেছেন।
গ. জাগতিক কর্ম সুচারুরূপে সম্পন্ন করে অনিবার্য পরিণতির জন্য প্রতীক্ষার দিক থেকে উদ্দীপকের আলম সাহেব ও ‘সোনার তরী’ কবিতার মধ্যে সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়।
‘সোনার তরী’ কবিতায় একটি জলবেষ্টিত ধানখেতে সোনার ফসল নিয়ে অপেক্ষমাণ এক কৃষকের প্রতীকে জীবনের এক অমোঘ সত্যকে উন্মোচন করা হয়েছে। সেখানে দেখানো হয়েছে, মহাকালের তরণিতে মানুষের কীর্তিই শুধু ঠাঁই পায়, ব্যক্তি মানুষের কোনো স্থান সেখানে নেই। আর তাই মহৎ কর্ম সম্পাদনের মাধ্যমে জীবনকে সুকর্মময় করে তুলতে হবে, যেমনটি কবিতার কৃষকের ক্ষেত্রে ঘটেছে।
উদ্দীপকের আলম সাহেব কঠোর পরিশ্রম ও চেষ্টায় ছেলেমেয়েকে পড়াশোনা করিয়ে যোগ্য করে তুলেছেন। ছেলেমেয়েরা তাঁকে সুখে রাখলেও আসন্ন মৃত্যুর কথা স্মরণ করে তিনি মহাকালের শূন্যতায় বিলীন হওয়ার জন্য অপেক্ষমাণ। কেননা, তিনি জানেন মৃত্যুকে কেউ ঠেকাতে পারবে না। একইভাবে, ‘সোনার তরী’ কবিতার কৃষকও তাঁর কষ্টের ফসল সোনার ধান মহাকালের সোনার তরীতে তুলে দিয়ে অপূর্ণতার বেদনা নিয়ে আসন্ন ও অনিবার্য মৃত্যুর প্রতীক্ষায় প্রহর গুনছেন। আবার উভয়ক্ষেত্রেই তাঁরা তাঁদের জাগতিক দায়িত্ব ও কর্ম সম্পাদন করেছেন। এক্ষেত্রে কবিতার কৃষক যেমন সোনার ধান ফলিয়েছেন, তেমনি উদ্দীপকের আলম সাহেবও ছেলেমেয়েদের মানুষ করে নিজ কর্তব্য পালন করেছেন। এদিক থেকে তাঁদের মধ্যে সাদৃশ্য প্রতীয়মান হয় ।
ঘ. ‘সোনার তরী’ কবিতায় মানবজীবনের পরিণতি হিসেবে মৃত্যুর অনিবার্যতার দিকটি উঠে এসেছে।
কবিতায় নানা আশঙ্কা নিয়ে একলা নদীতীরে অপেক্ষমাণ এক কৃষক। বৈরী আবহাওয়ায় অপ্রত্যাশিতভাবেই তরী বেয়ে আসে এক মাঝি। কৃষকের অনুরোধে তাঁর ধানটুকু নিয়ে গেলেও কৃষককে নৌকায় আশ্রয় দেয় না সে। শূন্য নদীর তীরে অপূর্ণতার বেদনা নিয়ে কৃষক দাঁড়িয়ে থাকে একাকী। বস্তুত, জীবনের সমস্ত অর্জন মহাকালকে সমর্পণ করে প্রত্যেক মানুষকেই এভাবে একা চলে যেতে হয়।
উদ্দীপকের আলম সাহেব ছেলেমেয়েকে উচ্চশিক্ষিত করেছেন। মানুষের মতো মানুষ করে গড়ে তুলেছেন তাদের। সন্তানরাও তাঁকে যোগ্য সম্মান দিয়ে সুখে-শান্তিতে রেখেছেন। তবে আলম সাহেবের তাতে তৃপ্তি নেই। কেননা, তিনি জানেন এই সুখ স্থায়ী নয়; তাঁকে একদিন চলে যেতে হবে। সবকিছু ছেড়ে। আর তাই কবিতার কৃষকের মতো আলম সাহেবও পৃথিবী থেকে অচিরেই বিদায় নেওয়ার চিন্তায় মগ্ন ।
‘সোনার তরী’ কবিতায় প্রকাশিত ক্ষুরধারা নদীর এপার এবং ওপার মূলত জীবন-মৃত্যুরই প্রতীক। কর্মময় জীবনের সকল অর্জন ফেলে রেখে মানুষকে একদিন মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হয়। কবিতার অন্তরালে এ সত্যই ফুটে উঠেছে। একইভাবে উদ্দীপকের আলম সাহেব সুখে-শান্তিতে দিনাতিপাত করলেও তিনি জানেন এসব ক্ষণস্থায়ী। নশ্বর জীবনের অবসানের সঙ্গে সঙ্গে অন্য সবকিছুর মতো এই সুখ বিলাসেরও অবসান ঘটবে। তাই তিনি কবিতার কৃষকের ন্যায় আক্ষেপ না করে স্থিরচিত্ত হয়ে উপলব্ধি করেছেন জীবনের অনিবার্য পরিণতি মৃত্যুকে। অমরত্ব লাভ করা মানুষের চিরন্তন আকাঙ্ক্ষা হলেও তা কখনোই পূরণ হওয়ার নয়। একসময় প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে মানুষ মহাকালের অসীমতায় বিলীন হয়ে যায়। জীবনের এ দার্শনিক চেতনাই ফুটে উঠেছে উদ্দীপকের আলম সাহেবের মধ্যে, যা আলোচ্য কবিতারও মূল উপজীব্য। সে বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযথ।

সৃজনশীল প্রশ্ন নম্বর ০৪

জনৈক দরিদ্র লোককবি হরিপ্রসন্ন জীবনে অনেক লেখালেখি করেছেন; কিন্তু তাঁর একটা বইও ছাপার অক্ষরে প্রকাশ পায়নি, যা মৃত্যুর প্রহর গুনতে থাকা অশীতিপর হরিপ্রসন্নের সবচেয়ে বড়ো অতৃপ্তি আর দুঃখের কারণ। একদিন এ কষ্ট বুঝতে পেরে তাঁর অধ্যাপক ছেলে হরিপ্রসন্নের লেখা “গীতিকবিতা’র একটি মুদ্রিত সংকলন গ্রন্থ বের করে পিতার হাতে দেয়। বইটি পেয়ে বৃদ্ধ হরিপ্রসন্নের আনন্দের সীমা থাকে না।
ক. ‘খরপরশা’ শব্দের অর্থ কী?
খ. তরীটিকে কেন ‘সোনার তরী’ বলা হয়েছে?
গ. লোককবি হরিপ্রসন্নের ‘গীতিকবিতা’ গ্রন্থ আর কৃষকের ‘সোনার ধান’-এর মিল কোথায়?
ঘ. ‘বৃদ্ধ মারা যাবে, কিন্তু তার বইটি থেকে যাবে কালের তরীতে।’- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

সৃজনশীল প্রশ্ন নম্বর ০৪ এর উত্তর সমূহ

ক. 
খ. তরীটি মহামূল্যবান মহাকালের প্রতীক বলেই এটিকে সোনার তরী বলা হয়েছে।
‘সোনার তরী’ একটি রূপক কবিতা। কবিতাটিতে প্রতিটি অনুষঙ্গই রূপকায়িত। এর প্রতিটির আলাদা অর্থ রয়েছে। কবিতাটিতে তরী বলতে মহাকালকে বোঝানো হয়েছে। সময় অমূল্য, কোনো কিছু দিয়েই তার মূল্য নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। আর তাই কবিতাটিতে মহাকালরূপী তরীটিকে তাৎপর্যমণ্ডিত করে তুলতেই সেটিকে সোনার তরী বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
গ. ‘সোনার তরী’ কবিতায় উল্লেখ্য কৃষকের সারা জীবনের অর্জিত সম্পদ সোনার ধান, যার অনুরূপ হলো উদ্দীপকের লোককবি হরিপ্রসন্নের “গীতিকবিতা’।
‘সোনার তরী’ কবিতায় কবি একটি গ্রামীণ দৃশ্যপটে এক কৃষকের অসহায়ত্বকে কেন্দ্র করে এক গভীর জীবনদর্শনকে ব্যক্ত করেছেন। সেখানে কৃষকের একখানা ছোটো ধানখেতের চারপাশে প্রবল জলস্রোতের বিস্তার। এরই মাঝে সে তাঁর উৎপাদিত সোনার ধান নিয়ে নদীতীরে একাকী প্রতীক্ষমাণ। এই সোনার ধান প্রকৃতপক্ষে তাঁর সারা জীবনেরই কর্মফল, যা মহাকালের তরীতে ঠাঁই পেয়েছে।
উদ্দীপকে বর্ণিত দরিদ্র লোককবি হরিপ্রসন্ন ঘোষ সারা জীবন ধরে অনেক কবিতা লিখেছেন, কিন্তু সেগুলো কাব্যাকারে সংরক্ষণ করতে পারেননি। আর তাই তাঁর অধ্যাপক ছেলে যখন তাঁর গীতিকবিতাগুলো গ্রন্থ আকারে প্রকাশ করল, তখন হরিপ্রসন্ন গ্রন্থটি হাতে পেয়ে যেন মহা আনন্দ উপভোগ করলেন। ‘সোনার তরী’ কবিতায় কৃষকের উৎপাদিত সোনার ধান প্রতীক মাত্র, যা তার কর্মফলকেই ইঙ্গিত করে। এক্ষেত্রে এ কবিতায় কৃষকের পরিশ্রমে উৎপাদিত সোনার ধান যেমন তাঁর কর্মের ফসল, তেমনি প্রকাশিত গ্রন্থটিও হরিপ্রসন্নের সারা জীবনের কর্মের ফসল। এদিক থেকে উদ্দীপকের লোককবি হরিপ্রসন্নের ‘গীতিকবিতা’ গ্রন্থ আর কৃষকের ‘সোনার ধান’-এর মিল পরিলক্ষিত হয়।
ঘ. ‘সোনার তরী’ কবিতায় মানুষের মহৎ সৃষ্টিকর্মের মহাকালের কালস্রোতে টিকে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে।
‘সোনার তরী’ কবিতায় কবি জীবনের এক অমোঘ সত্যকে উন্মোচন করেছেন। তিনি মনে করেন, নশ্বর এ পৃথিবীতে কালপরিক্রমায় ব্যক্তিমানুষ একসময় হারিয়ে যায়; কিন্তু তার কীর্তিকে মৃত্যু স্পর্শ করতে পারে না। আর তাই ব্যক্তি কবির মৃত্যুতেও তাঁর সৃষ্টিকর্ম হারিয়ে যাবে না। মহাকালের কালস্রোতে তা টিকে থাকবে যুগ যুগ ধরে ।
উদ্দীপকে হরিপ্রসন্ন নামের এক লোককবির কথা বলা হয়েছে। সারা জীবন ধরে কবিতা লিখলেও নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে তিনি এসব কবিতার সংকলন বের করতে পারেননি। এজন্য তাঁর মনে আক্ষেপের অন্ত ছিল না। অবশেষে তাঁর অধ্যাপক ছেলে বাবার এই মনঃকষ্ট লাঘব করতে কবিতাগুলো গ্রন্থাকারে বের করে। গ্রন্থ আকারে নিজ সৃষ্টিকর্মকে দেখে বৃদ্ধ হরিপ্রসন্নের যেন আনন্দের সীমা থাকে না। এ গ্রন্থখানি থেকে যাবে, হরিপ্রসন্ন হয়তো কৃষকের মতোই একদিন হারিয়ে যাবে কালের গর্ভে।
আলোচ্য কবিতায় অন্তলীন হয়ে আছে গভীর এক জীবনদর্শন। আর তা হলো— মানুষ তার অনিবার্য মৃত্যুকে এড়াতে পারে না, কেবল বেঁচে থাকে তার কর্ম। এ কারণেই কবিতাটিতে দেখা যায়, মহাকালরূপী মাঝি কৃষকের কর্মফল সোনার ধান নৌকায় তুলে নেয় ঠিকই; ব্যক্তি কৃষকের সেখানে স্থান হয় না। একইভাবে, মৃত্যুর প্রহর গুনতে থাকা উদ্দীপকের হরিপ্রসন্ন একদিন মহাকালের কালগর্ভে হারিয়ে যাবেন, কিন্তু কর্মফল হিসেবে বেঁচে থাকবে তার গীতিকবিতা। বস্তুত কমই মানুষকে অমর করে তুলতে পারে, যেমনটি আলোচ্য কবিতায় পরিলক্ষিত হয়। সে বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযথ ।

সৃজনশীল প্রশ্ন নম্বর ০৫

কুসংস্কারাচ্ছন্ন সমাজে বাঙালি নারীদের যিনি অন্ধকারের ব্যূহ ভেদ করে আলোর পথে উদাত্ত আহ্বান জানান, তিনি হলেন বাঙালি মুসলিম নারী জাগরণের পথিকৃৎ রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন। সমাজ সংস্কারের উদ্দেশ্যেই তিনি কলম ধরেছিলেন। সংস্কারের সে চেষ্টাই তাঁকে প্রতিষ্ঠিত করেছে তীক্ষ্ণ ঋজু গদ্য লেখক এবং সমাজসচেতন সাহসী সাহিত্যিক হিসেবে। তিনি আজ আমাদের মধ্যে নেই, কিন্তু তাঁর কতকর্মের জন্য আজও আমরা তাঁকে স্মরণ করি।
ক. থরে বিথরে’ শব্দগুচ্ছের অর্থ কী?
খ. যাহা ছিল নিয়ে গেল সোনার তরী’- কথাটির মাধ্যমে কবি কী বুঝিয়েছেন?
গ. উদ্দীপকের কোন দিকটির সঙ্গে ‘সোনার তরী’ কবিতার সাদৃশ্য আছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘রোকেয়াকে স্মরণ করি তাঁর কৃতকর্মের জন্য’— ‘সোনার তরী’ কবিতার আলোকে উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।

সোনার তরী কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

সৃজনশীল প্রশ্ন নম্বর ০৫ এর উত্তর সমূহ

ক. থরে বিথরে’ শব্দগুচ্ছের অর্থ— স্তরে স্তরে ।
খ. প্রশ্নোক্ত চরণটিতে কৃষকের সমগ্র অর্জন হিসেবে সোনার ধান মহাকালের তরীতে সমর্পণ এবং সেখানে তাঁর স্থান না পাওয়ার বেদনাবোধ প্রকাশিত হয়েছে।
আলোচ্য কবিতায় কবি তাঁর উপলব্ধিজাত এক গভীর জীবনদর্শনকে তুলে ধরেছেন। মহাকাল মানুষের কর্মফলকে ধারণ করে, ব্যক্তিমানুষ সেখানে স্থান পায় না। আর তাই মহাকালরূপ মাঝি কৃষকের উৎপাদিত সমস্ত ফসল নিয়ে যায়; কিন্তু কৃষককে গ্রহণ করে না। ফলে অপূর্ণতার বেদনা নিয়ে কৃষককে অপেক্ষা করতে হয় মহাকালের স্রোতে বিলীন হওয়ার জন্য । প্রশ্নোক্ত চরণটির মধ্য দিয়ে কৃষকের কর্মফলরূপী সোনার ধান মহাকালের তরীতে সমর্পণ এবং অপূর্ণতার বেদনাবোধের দিকটি ফুটে উঠেছে।
গ. উদ্দীপকের রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের সাহিত্যকর্মের টিকে যাওয়ার দিকটির সঙ্গে ‘সোনার তরী’ কবিতার অন্তর্ভাবনার মিল রয়েছে।
‘সোনার তরী’ কবিতায় নিঃসঙ্গ কৃষকের জীবনের পরিণতির মধ্যদিয়ে ব্যক্তিমানুষের অনিবার্য পরিণতিকে নির্দেশ করেছেন কবি। কবিতার ছোটো খেতের মতোই মানুষের কর্মক্ষেত্র এই পৃথিবী। এখানে সারা জীবন মানুষকে কাজের পেছনে ছুটতে হয় এবং এ কাজই শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে; ব্যক্তিমানুষ নয়। আলোচ্য কবিতায় সোনার তরী বহমান সময়ের প্রতীক, যেখানে শুধু মানুষের কর্মফলস্বরূপ সোনার ধানই টিকে থাকে, ব্যক্তিমানুষ নয়।
উদ্দীপকে নারী জাগরণের অগ্রদূত রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের কথা বলা হয়েছে। সমাজ সংস্কারের উদ্দেশ্যে কলম ধরেছিলেন তিনি। বাঙালি মুসলিম নারীদের অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে তাঁর লেখা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বিশ্লেষণধর্মী এই লেখাই তাঁকে সমাজসচেতন সাহিত্যিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। রোকেয়া আজ বেঁচে নেই, কিন্তু আমরা তাঁর সাহিত্যকর্মের জন্য আজও তাঁকে স্মরণ করি । এ কৃতকর্মকেই আলোচ্য কবিতায় সোনার ধান বলে অভিহিত করা হয়েছে এবং এটিই কালের প্রবাহে টিকে থাকে। উদ্দীপকের রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের কৃতকর্ম হিসেবে তাঁর সাহিত্যকর্ম টিকে যাওয়ার এই প্রসঙ্গটিই আলোচ্য কবিতার সঙ্গে এর মিল নির্দেশ করে।
ঘ. ব্যক্তিমানুষের কৃতকর্মই যে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে তা ‘সোনার তরী’ র কবিতা ও উদ্দীপকটিতে ফুটে উঠেছে।
ল ‘সোনার তরী’ কবিতায় কবি একজন কৃষকের রূপকল্পে ব্যক্তিমানুষের র কর্মপরিণতির দিকটি ফুটিয়ে তুলেছেন। সেখানে দ্বীপের মতো একটি ধানখেতে রাশি রাশি সোনার ধান নিয়ে অপেক্ষমাণ একজন নিঃসঙ্গ ও বিপন্ন কৃষক। এমন সময় তরী বেয়ে এক মাঝি চলে যেতে থাকলে কৃষক তাকে ডেকে তরী কূলে ভেড়াতে বলেন এবং তাঁর উৎপাদিত সোনার ধান। নৌকায় তুলে নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান। মাঝি কৃষকের ফসল তরীতে তুলে নিলেও ব্যক্তি কৃষককে সে গ্রহণ করে না।
উদ্দীপকে মহীয়সী নারী রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের কথা বর্ণিত হয়েছে। বাংলার মুসলিম নারীদের শিক্ষিত করে তোলার ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। শুধু তা-ই নয়, নিজ লেখনীর মাধ্যমে তিনি মানুষকে সচেতন করে তোলেন এবং সমাজ সংস্কারেও ভূমিকা রাখেন। এমন জনকল্যাণমুখী কর্মকাণ্ডের জন্য তিনি আজও স্মরণীয়। কর্মই তাঁকে মানুষের মনে বাঁচিয়ে রেখেছে। বস্তুত মহাকাল মানুষের কীর্তিকে গ্রহণ করে, কিন্তু শরীরী মানুষ বিলীন হয়ে যায় কালের গর্ভে।
“সোনার তরী’ একটি রূপকধর্মী কবিতা। এখানে একটি গ্রামীণ চিত্রপটে বিপন্ন এক কৃষকের বাস্তবতাকে উপজীব্য করে কবিতার ভাবসত্যকে উন্মোচন করেছেন। আর তা হলো কালের প্রবাহে মানুষের মহৎ কর্মই কেবল টিকে থাকে; ব্যক্তিমানুষ নয়। তাকে অনিবার্যভাবে মহাকালের কালস্রোতে হারিয়ে যেতে হয়। উদ্দীপকের রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের ক্ষেত্রেও এমনটি পরিলক্ষিত হয়। নারীদের অন্ধকার প্রকোষ্ঠ থেকে আলোর পথে আসার প্রথম উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি। তাঁর লেখা আজও দিকনির্দেশনা দিচ্ছে অবহেলিত ও বঞ্চিত নারীসমাজকে। আর তাই রোকেয়া বেঁচে না থাকলেও আজও আমরা তাঁকে স্মরণ করি তাঁর কৃতকর্মের জন্য। সে বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযথ ।

সৃজনশীল প্রশ্ন নম্বর ০৬

 ‘আজি অন্ধকার দিবা, বৃষ্টি ঝরঝার, দুরন্ত পবন তার অরণ্য উদ্যত বাহু করে হাহাকার বিদ্যুৎ দিতেছে উঁকি ছিঁড়ি মেঘভার খরতর বক্র হাসি শুন্যে বরষিয়া
ক. ‘সোনার তরী’ কবিতায় কোন ঋতুর কথা আছে?
খ. ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই— ছোটো সে তরী’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
গ. উদ্দীপকে চিত্রিত প্রকৃতি ‘সোনার তরী’ কবিতায় বর্ণিত পরিবেশের সঙ্গে কীভাবে সম্পর্কিত? ব্যাখ্যা করো। 
ঘ. উদ্দীপকটি ‘সোনার তরী’ কবিতাকে কতটুকু উপস্থাপন করতে পেরেছে? বিশ্লেষণ কর।

সৃজনশীল প্রশ্ন নম্বর ০৬ এর উত্তর সমূহ

ক. ‘সোনার তরী’ কবিতায় বর্ষা ঋতুর কথা আছে।
খ. প্রশ্নোক্ত চরণটিতে মহাকালের প্রতীক সোনার তরীতে মানুষের কর্মের মা স্থান হলেও সেখানে ব্যক্তিমানুষের যে স্থান হয় না, সে বিষয়টিই ফুটে উঠেছে।
ব্যক্তিমানুষের মৃত্যু অনিবার্য; তাকে রোধ করা সম্ভব নয়। কিন্তু ব্যক্তির = কর্মফল বা অর্জনকে মৃত্যু স্পর্শ করতে পারে না। আর তাই সোনার তরীতে কেবল কৃষকের সোনার ধানই ঠাঁই পায়, কিন্তু ব্যক্তিকৃষককে অপূর্ণতার বেদনা নিয়ে অপেক্ষা করতে হয় অনিবার্যভাবে মহাকালের স্রোতে বিলীন হওয়ার জন্য। মানুষ তার কর্মকে রেখে যায়, মানুষের স্থান হয় না এ নশ্বর পৃথিবীতে। প্রশ্নোক্ত চরণটিতে ঠাঁই নাই কথাটির মাধ্যমে জীবনের এই অমোঘ সত্যটিকেই তুলে ধরা হয়েছে।
গ. উদ্দীপকে চিত্রিত প্রকৃতি বর্ষার রুদ্ররূপটি তুলে ধরার সূত্রে ‘সোনার তরী’ কবিতার বৈরী পরিবেশের সঙ্গে সম্পর্কিত।
‘সোনার তরী’ কবিতায় কবি বর্ষার রুদ্রমূর্তির বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন। একখানি ছোটো খেতকে কেন্দ্র করে নিঃসঙ্গ কৃষকের আশঙ্কা আর তাঁর চারপাশজুড়ে ধারালো বর্শার মতো জলস্রোতের বিস্তার, খেতটির আশু বিলীয়মান অবস্থা, আকাশে ঘনঘোর মেঘের গর্জন— এ সবকিছু মিলে কবিতাটিতে বাংলায় বর্ষার আগ্রাসী রূপটিই প্রতিভাত হয়। উদ্দীপকের কবিতাংশেও এমনই এক চিত্র উপস্থাপিত হয়েছে।
উদ্দীপকের কবিতাংশে বর্ষার এক ভয়ংকর রূপ তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বৃষ্টির আগমনের সঙ্গে সঙ্গে চারপাশে অন্ধকারও নেমে এসেছে। দুরন্ত বাতাসের তোড়ে বন-জঙ্গল যেন শির উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকতে পারছে না। আকাশে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে বারবার। উদ্দীপকের কবিতাংশের মতো ‘সোনার তরী’ কবিতাতেও বর্ষার এমন দুরন্ত রূপ ফুটে উঠেছে। সেখানে বর্ষার কোনো এক সকালের চিত্রকল্প উপস্থাপন করা হয়েছে। আকাশে মেঘ গর্জন করছে। ধানখেতের চারদিক ভরে গেছে বর্ষার জলে। চারপাশে বাঁকা জল এমনভাবে খেলা করছে, যেন অল্প সময়ের মধ্যেই খেতটিকে ভাসিয়ে নেবে। এমন বৈরী পরিবেশে রাশি রাশি ধান নিয়ে অপেক্ষা করছেন এক কৃষক। অর্থাৎ আলোচ্য কবিতা এবং উদ্দীপকের কবিতাংশ উভয় ক্ষেত্রেই বাংলায় বর্ষার রুদ্ররূপের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে। এভাবেই আলোচ্য কবিতার সঙ্গে উদ্দীপকটি সম্পর্কিত হয়ে ওঠে।
ঘ. উদ্দীপকটি কেবল বর্ষার চিত্র তুলে ধরার কারণে ‘সোনার তরী’ কবিতার মূলভাবকে সম্পূর্ণ উপস্থাপন করতে পারেনি।
‘সোনার তরী’ কবিতায় কবি গ্রামীণ আবহে বর্ষার বিরূপ রূপটিকে তুলে ধরেছেন। এছাড়া কবিতাটিতে ধান কেটে অপেক্ষমাণ এক নিঃসঙ্গ কৃষকের পরিণতির মধ্যদিয়ে মানবজীবনের একটি গূঢ় সত্যকে উন্মোচন করেছেন। আর তা হলো— মহাকাল শুধু মানুষের কর্মকেই গ্রহণ করে; ব্যক্তিমানুষকে নয়। অন্তর্নিহিত এ ভাবনাই আলোচ্য কবিতার মূল সুর। উদ্দীপকের কবিতাংশে একটি বর্ষণমুখর দিনের বিবরণ দেওয়া হয়েছে। সেখানে বৃষ্টির আগমনের সঙ্গে সঙ্গে অন্ধকারও নেমে আসে ধরণিতে। বাতাসের প্রবল বেগে বন-বীথিকা যেন নুয়ে পড়েছে। আকাশে ঝলকানি দিচ্ছে বিদ্যুতের আলোকচ্ছটা। এভাবে আলোচ্য কবিতাংশটিতে বর্ষার একটি নিরেট চিত্র অঙ্কিত হয়েছে। তবে আলোচ্য কবিতাটিতে বর্ষার চিত্র বর্ণিত হলেও তা ঘনীভূত হয়েছে একটি দার্শনিক চেতনাকে ঘিরে। উদ্দীপকের কবিতাংশে এ বিষয়ের উল্লেখ নেই ।
‘সোনার তরী’ কবিতায় বর্ষাকালীন গ্রামীণ পটভূমিতে এক কৃষকের রূপকে কবিতার ভাবসত্যকে উপস্থাপন করেছেন করি। সেখানে শ্রাবণের এক সকালে একজন কৃষক তাঁর উৎপাদিত রাশি রাশি ধান নিয়ে অপেক্ষমাণ থাকেন। কিছু সময় বাদে তাঁর অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগমন হয় এক অচেনা মাঝির। মাঝি কৃষকের সমস্ত ধান নৌকায় তুলে নিলেও সেখানে কৃষকের জায়গা হয় না। এ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে যে দার্শনিক চেতনা ব্যক্ত হয়েছে তা হলো- এ নশ্বর পৃথিবী মানুষের মহৎ সৃষ্টিকর্মকে গ্রহণ করে; মানুষকে নয়। ‘সোনার তরী’ কবিতার এই ভাবসত্যটি উদ্দীপকের কবিতাংশে প্রতিফলিত হয়নি। সেখানে কেবল আলোচ্য কবিতায় উঠে আসা বর্ষার চিত্রই প্রতিফলিত হয়েছে। সেদিক বিবেচনায় উদ্দীপকের কবিতাংশটি এ কবিতার মূলভাবকে আংশিক প্রতিফলিত করে; সম্পূর্ণ নয় ।

সৃজনশীল প্রশ্ন নম্বর ০৭

বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। প্রেম ও দ্রোহের কবি নজরুল তাঁর লেখনীর মাধ্যমে বাঙালিকে সত্য ও সুন্দরের পথে উদ্বুদ্ধ করেছেন চিরকাল। তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন ১৯৭৬ সালে। অথচ এখনো তিনি বাঙালি জাতির কাছে বিদ্রোহের প্রতীক। তাঁর কবিতা ও গান এখনো বাঙালির প্রতিদিনের শক্তির উৎস। এভাবেই তিনি মরেও অমর হয়ে আছেন আমাদের মাঝে
ক. ‘শূন্য নদীর তীরে’- মাত্রাবৃত্ত ছন্দে কত মাত্রা?
খ. দেখে যেন মনে হয় চিনি উহারে’- বুঝিয়ে লেখো
গ. উদ্দীপকে ‘সোনার তরী’ কবিতার কোন দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘কীর্তিমানের মৃত্যু নেই’— উদ্দীপক ও ‘সোনার তরী’ কবিতার আলোকে উক্তিটির তাৎপর্য বিচার করো ।

সৃজনশীল প্রশ্ন নম্বর ০৭ এর উত্তর সমূহ

ক. ‘শূন্য নদীর তীরে’- মাত্রাবৃত্ত ছন্দে ৮ মাত্রা।
খ. ধান কেটে অপেক্ষমাণ কৃষকের সামনে এক মাঝির আগমন হলে প্রথম দেখায় মাঝিকে তার পরিচিত বলে মনে হয়।
আলোচ্য কবিতায় বর্ষার বৈরী পরিবেশে বিপদাপন্ন এক কৃষককে কেন্দ্র করে কবিতাটির ভাবসত্যকে ফুটিয়ে তুলেছেন কবি। সেখানে সোনার ধানরূপী কর্মফল নিয়ে কৃষক অপেক্ষমাণ। চারদিকে বর্ষার ক্ষুরধারা পানি ঘুরে ঘুরে খেলা করছে, যেন মুহুর্তেই ভাসিয়ে নেবে তাঁর ছোটো খেতটিকে। এমনই আশঙ্কাজনক পরিস্থিতিতে হঠাৎ সেখানে এক মাঝির আগমন হয়। মহাকালের প্রতীক এই মাঝিকে ব্যক্তি কৃষকের পরিচিত বলে মনে হতে থাকে। প্রশ্নোক্ত চরণটিতে এ বিষয়টিই ফুটে উঠেছে।

সোনার তরী কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

গ. উদ্দীপকে ‘সোনার তরী’ কবিতার কর্মফলের অমরতার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
‘সোনার তরী’ কবিতায় রূপকের আশ্রয়ে মানবজীবনের গূঢ় দর্শন
প্রকাশিত হয়েছে। এ কবিতায় বাহ্যরূপে বর্ষার হিংস্র স্রোত পরিবেষ্টিত ধানখেতে রাশি রাশি সোনার ধান নিয়ে অপেক্ষা করেন এক কৃষক। একসময় ভরা পালে সোনার তরী বেয়ে চলে যেতে থাকা এক মাঝিকে ধানগুলো নিয়ে যাওয়ার জন্য কাতর অনুনয় করেন তিনি। মাঝি তাঁর ধানগুলো তরীতে তুলে নেয়; কিন্তু ব্যক্তিকৃষকের সেখানে স্থান হয় না। উদ্দীপকে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি কাজী নজরুল ইসলামের কথা বলা হয়েছে। নিজ লেখনীর মাধ্যমে বাঙালি জাতিকে সত্য ও সুন্দরের পথে চলার প্রেরণা দিয়েছেন তিনি। অন্যায় ও অসাম্যের বিরুদ্ধে তিনি আমাদের প্রেরণার বাতিঘর। সংগত কারণেই বাঙালির মনের মণিকোঠায় আসন লাভ করেছেন তিনি। আজও বাঙালিরা তাঁকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে। অর্থাৎ ব্যক্তি নজরুলের মৃত্যু হলেও তাঁর সৃষ্টিকর্মের বিনাশ হয়নি। আলোচ্য ‘সোনার তরী’ কবিতাতেও কবি ব্যক্তি মানুষের মৃত্যুর বিপরীতে মহাকালের কালস্রোতে কর্মফলের টিকে যাওয়ার কথা বলেছেন, যা উদ্দীপকে উল্লিখিত কবি নজরুলের জীবন ও কর্মের মধ্যদিয়ে প্রমাণিত হয়েছে। সে বিবেচনায় উদ্দীপকটিতে আলোচ্য কবিতায় বিধাত কর্মফলের অমরতার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
কবি নজরুল বেঁচে না থাকলেও বেঁচে আছে তাঁর কর্ম। বাংলা ভাষায় বিদ্রোহ, সাম্য ও অধিকারের কথা লিখে সাহিত্যের মাধ্যমে তিনি আজও প্রেরণা জোগান সাধারণ মানুষের অন্তরে। তাঁর কবিতা ও গান এখনো আমাদের শক্তি দেয়, সাহস জোগায়। যেকোনো সংগ্রামে-সমরে তাঁকে আমরা স্মরণ করি। উদ্দীপকে এ ভাবটি ব্যক্ত হওয়ায় বলা যায় যে, আলোচ্য কবিতার অন্তর্নিহিত জীবনদর্শন উদ্দীপকে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। এখানে বহমান সময়ের প্রতীক। সময় পরিক্রমায় ব্যক্তিমানুষ একদিন পৃথিবী থেকে হারিয়ে যায়; শুধু টিকে থাকে তার সোনার ধান বা কর্মফল।
ঘ. মহৎ কীর্তিই যে মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে, উদ্দীপক ও ‘সোনার তরী’ কবিতায় এ বিষয়টিই বিশেষভাবে ফুটে উঠেছে।
‘সোনার তরী’ কবিতার মূলকথা হলো, মানুষ টিকে থাকে তার কর্মের মাধ্যমে। তাছাড়া পৃথিবীতে মানুষ শুধু নিজের জন্য আসেনি। সমাজ ও উত্তর প্রজন্মের প্রতিও তার কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। মহান ব্যক্তিরা সে কর্তব্যবোধ থেকেই মানুষের জন্য রেখে গেছেন মহৎ কীর্তি। এসব কীর্তিই তাঁদের মানুষের মনে বাঁচিয়ে রেখেছে। উদ্দীপকে উল্লিখিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম তেমনই একজন যুগোত্তীর্ণ কবি ও সাহিত্যিক।
উদ্দীপকে উল্লেখ্য কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের জাতীয় কবি। তিনি তাঁর লেখনীর মাধ্যমে মানুষকে অধিকারসচেতন করে তুলেছেন । জাতির লক্ষ্যে রচিত তাঁর দ্রোহের বাণী বাঙালিকে শ্রেণিসংগ্রাম ও স্বাধিকার আন্দোলনে প্রেরণা জুগিয়েছে। তাঁর কবিতা ও গান এখনো বাঙালির আত্মপ্রেরণার উৎস। মহৎ কর্মের জন্যই আজও বাঙালি জাতি তাঁকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে। আলোচ্য কবিতায় রূপকের আহ্বান এি মহৎ কর্মের অমরতার এ দিকটিকেই ফুটিয়ে তুলেছেন –
‘সোনার তরী’ কবিতায় বৈরী পরিবেশে এক কৃষকের রূপকে এক গ জীবনদর্শন ফুটিয়ে তুলেছেন কবি। তিনি মনে করেন, মহাকালের শ্রোে ব্যক্তিমানুষ বা কবিতার কৃষক হারিয়ে যাবেন ঠিকই, কিন্তু বেঁচে থাকবে তাঁর সোনার ধান বা কর্মফল। কবিতায় নির্দেশিত এ কর্মফল প্রকৃ উদ্দীপকে বর্ণিত কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিকর্মের ইঙ্গিতবাহী। মহাকালের স্রোতে ব্যক্তি নজরুল হারিয়ে গেছেন ঠিকই; কিন্তু তাঁর কীর্তির মৃত্যু হয়নি। সৃষ্টিকর্মের ভেতর দিয়েই অমরত্ব পেয়েছেন তিনি। আলোচ্য কবিতার অন্তরালেও সৃষ্টিকর্মের অমরতার এ দিকটিই প্রকাশিত হয়েছে। সে বিবেচনায় প্রশ্নোত্ত মন্তব্যটি যথাযথ।

সৃজনশীল প্রশ্ন নম্বর ০৮

 মাহবুব সাহেব গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে এসেছেন কদিনের জন্য । ভরা বর্ষায় বিলের পাশের সবুজ ধানখেতে নিজেই নৌকা বেয়ে বেড়াতে বেরিয়েছেন, সঙ্গে দুই ছেলেমেয়ে। আকাশে কালো মেঘ, অদূরে নদীর বুক পানিতে একাকার। এমন পরিবেশে মাহবুর সাহেদের মনে পড়ল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সোনার তরী’ কবিতাটি। ছেলেমেয়ের মুখের দিকে হাসিমুখে তাকিয়ে পঁচিশ বছর আগে পড়া কবিতাটি নির্ভুল আবৃত্তি করলেন তিনি ।
ক. ‘সোনার তরী’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
খ. ‘সোনার তরী’ কবিতায় কৃষকের অসহায় অবস্থার মধ্য দিয়ে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
গ. গ্রামের প্রাকৃতিক পরিবেশে বেড়াতে গিয়ে উদ্দীপকের মাহবু সাহেবের ‘সোনার তরী’ কবিতাটি মনে পড়ার প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরো।
ঘ. “উদ্দীপক ও ‘সোনার তরী’ কবিতায় বর্ষার চিরন্তন রূপটিই চোখে পড়ে”- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

সৃজনশীল প্রশ্ন নম্বর ০৮ এর উত্তর সমূহ

ক. ‘সোনার তরী’ কবিতাটি ‘সোনার তরী’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
খ.  আলোচ্য কবিতাটিতে কৃষকের অসহায়ত্বের মধ্য দিয়ে কবি ব্যক্তি মানুষের চিরন্তন ও অনিবার্য বিপন্ন অস্তিত্বকেই বুঝিয়েছেন।
“সোনার তরী’ কবিতায় দুর্যোগঘন পরিবেশে একজন কৃষকের সংকটাপন্ন অবস্থা দেখানো হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে এটি মানুষের অনিবার্য পরিণতি মৃত্যুরই অন্য রূপ। বস্তুত, মানুষ পৃথিবীতে চিরকাল বেঁচে থাকতে চায় । কিন্তু তা সম্ভব নয়; তাকে অনিবার্য পরিণতি হিসেবে মৃত্যুবরণ করতেই হয়। আলোচ্য কবিতায় মহাকালের তরীতে স্থান না পাওয়া কৃষকের বিপন্ন অবস্থার মধ্যদিয়ে নিয়তির কাছে ব্যক্তি মানুষের এই চিরন্তন অসহায়ত্বের দিকটিই প্রকাশিত হয়েছে।

সোনার তরী কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

গ. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘সোনার তরী’ কবিতায় বর্ষায় গ্রামীণ জনপদের চিরাচরিত দৃশ্য প্রকাশিত হয়েছে। এ কারণে গ্রামের প্রাকৃতিক পরিবেশে বেড়াতে এসে উদ্দীপকের মাহবুব সাহেবের ‘সোনার তরী’ কবিতাটি মনে পড়েছে।
‘সোনার তরী’ কবিতার শুরুতেই বর্ষার সরব উপস্থিতি দেখা যায়। মেঘমেদুর বর্ষার আগমনে নদীর জল তীব্র বেগে বয়ে চলেছে। সেখানে বহু কষ্টে উৎপাদিত ধান নিয়ে অপেক্ষা করছেন এক কৃষক। তার প্রত্যাশা, একজন মাঝি এসে তাঁকে তাঁর সোনার ধানসমেত নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেবে।
উদ্দীপকের মাহবুব সাহেব বর্ষায় গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে বিলের পাশের ধানখেতে নিজেই নৌকা বেয়ে যাচ্ছিলেন। বর্ষা-প্রকৃতির চিরন্তন এ রূপ দেখে তিনি অভিভূত। তাঁর মনে পড়ে যায় ‘সোনার তরী’ কবিতার কথা। কারণ এ কবিতাটিতেও ভরা বর্ষার বর্ণনা রয়েছে। সেখানে দ্বীপের চারপাশে ক্ষুরের মতো ধারালো স্রোত খেলা করছে। এর মধ্যে একজন কৃষক ধান নিয়ে নিরাপদ স্থানে পৌঁছার পথ খুঁজছে। শেষ পর্যন্ত একজন মাঝির নৌকায় কৃষকের সোনার ধানের স্থান হলেও তাঁর স্থান হয়নি। এভাবে কবিতাটিতে এক গভীর জীবনদর্শন প্রকাশিত হয়ে চিরায়ত বর্ষার রূপকে কেন্দ্র করে। সংগত কারণেই গ্রামের প্রাকৃতিক পরিবেশে বেড়াতে বেরিয়ে মাহবুব সাহেবের উদ্ধৃত কবিতাটি মনে পড়ার বিষয়টি প্রাসঙ্গিক।
ঘ. সোনার তরী’ কবিতায় বাংলায় বর্ষার এক অনন্যসাধারণ রূপকল্প ফুটে উঠেছে।
‘সোনার তরী’ কবিতায় কবি রূপকের মধ্যদিয়ে মানুষের জীবনের এক দার্শনিক চেতনার রূপায়ণ ঘটিয়েছেন। এর পটভূমি হিসেবে কবি ধানখেত, নদী ও বর্ষার জলধারাকে বেছে নিয়েছেন। ঘন বর্ষায় কৃষক রাশি রাশি ধান কেটে খেতে অপেক্ষা করছেন। ধানখেতটি দ্বীপের মতো এবং এর চারপাশে বর্ষার তীক্ষ্ণ-ক্ষুরধারা স্রোত খেলা করছে। এ সবকিছু মিলে কবিতাটিতে বর্ষা-প্রকৃতির চিরন্তন রূপটিই ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকে গ্রামবাংলার বর্ষার চিরন্তন সৌন্দর্যের দিকটি প্রতিভাত হয়। বর্ষার দিনে’ মাহবুব সাহেব তাঁর পরিবারের সঙ্গে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে এসেছেন। গ্রামীণ পরিবেশে ছেলেমেয়েকে সঙ্গে নিয়ে তিনি বেরিয়ে পড়েন বিল ঘুরে দেখতে। সেখানে নৌকায় করে যাওয়ার সময় জলবেষ্টিত ধানখেত এবং পাশের বিলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হন তিনি। তাঁর মনে পড়ে যায় বহুকাল আগে পড়া রবীন্দ্রনাথের ‘সোনার তরী’ কবিতার কথা।
‘সোনার তরী’ কবিতায় বর্ষা-প্রকৃতির এক অনিন্দ্যসুন্দর রূপ ফুটে উঠেছে। একখানি ছোটো খেত আর তার চারপাশে বর্ষার ভরা নদীর জলে বিস্তার যেন বাংলার বর্ষা প্রকৃতির চিরন্তন রূপ। সংগত কারণেই এর সঙ্গে উদ্দীপকের মাহবুব সাহেবের দেখা গ্রামীণ পটভূমির ঐক্য রয়েছে। সেখানে মাহবুব সাহেব বর্ষার বিলের পাশে জলমগ্ন সবুজ ধানখেত দেখে মুগ্ধ হন। দুই ছেলেমেয়েকে সঙ্গে করে নৌকায় বেড়াতে গিয়ে তাঁর চোখে ধরা পড়ে গ্রামীণ প্রকৃতিতে বর্ষার এক মোহনীয় রূপ। আলোচ্য কবিতাটিতেও গ্রামীণ, চিত্রকল্পে ভর করে কবি বর্ষার এমন রূপের বর্ণনা দিয়েছেন। সেদিক বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযথ ।
আশা করি আজকে সোনার তরী কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর পড়ে উপকৃত হয়েছেন। প্রশ্ন গুলো ভালো করে পড়লে পূর্ণ নম্বর পেতে পারেন। সোনার তরী কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর ভালো লাগলে কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button