খুলনাদুর্ঘটনাসারাদেশ

সুইসাইড নোট লিখে মাদ্রাসা ছাত্রের আত্মহত্যা

 

সোমবার বিকালে সদর উপজেলার বসুন্দিয়া বাজারের বসুন্দিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় এলাকায় এই দুঃখজনক ঘটনা ঘটে। মৃত নাজমুস সাকিব বসুন্দিয়া এলাকার বাসিন্দা এবং গাইদগাছি দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মোঃ রফিকুল ইসলামের ছেলে।

সুইসাইড নোটে নাজমুস সাকিব লিখেছে, তার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ি নয়! এমনকি তার লাশটা যেন কোন প্রকার কাটা ছেঁড়া করানো না হয়।সেই অনুরোধ করে গেছেন তিনি। ইসলামী শরিয়তে তাকে যেন দাফন করা হয় সেই অনুরোধটিও করেছেন গেছেন মৃত নাজমুস সাকিব।

স্থানীয় ইউপি সদস্য শওকত জাহান সুপ্ত গণমাধ্যম কর্মীদের জানিয়েছেন, নাজমুস সাকিব পদ্মবিলা ফাজিল মাদ্রাসায় আলিম শ্রেণিতে লেখাপড়া করতেন। বাড়ির পাশে বসুন্দিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলছিল, তার ছোট বোনকে নিয়ে স্কুলে যান সাকিবের মা। তার বাবা মাওলানা রফিকুল ইসলাম বাড়ির বাইরে ছিলেন। বিকেল ৫টার দিকে বাড়িতে আসেন সাকিবের মা। তার মা এসময় ঘরের দরজা খোলা রয়েছে। ঘরে সিলিং ফ্যানের সাথে গামছা দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলে আছে তার ছেলে নাজমুস সাকিব। বিষয়টি দেখেই চিৎকার দেন তার মা। এরপরে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকা সাকিবের গলার গামছা কেটে নামানো হয়। কিন্তু এরই মধ্যে সাকিব মারা গেছেন বলে উপস্থিত লোকজন দেখতে পায়। খবর পেয়ে তার বাবা মাওলানা রফিকুল ইসলামও বাড়িতে আসেন। কিন্তু তাদের পরিবার নেমে আসে অশ্রুসিক্ত এক শোকের ছায়া। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে কান্নাকাটি করতে করতে তার মা ও বাবাসহ পরিবারের লোকজনে প্রলাপ করতে থাকেন। এরপরে খবর পেয়ে চলে আসেন বসুন্দয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম খান রাসেল, ইউপি সদস্য শওকত জাহান সুপ্ত, ইমরান হোসেন মিলন এবং বসুন্দিয়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই কামরুজ্জামান।
এরই মধ্যে বিছানায় পাওয়া যায় নাজমুস সাকিবের আপন হাতে লেখা একটি সুইসাইড নোট। ওই নোটে লেখা আছে যে আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ি নয়। আমি কারো উপর দোষ দিয়ে আত্মহত্যা করছিনা। আমার কাছে এই সন্দেহ মূলক দুনিয়া আর ভাল লাগছেনা। তাই আমি আমার নিজের সাই ট এই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে অনেক দূরে চলে যাচ্ছি। মৃত্যুর আগে আরো বলেছেন কোন কিছু না জেনে কারো উপর সন্দেহ করে তার উপর দোষ চাপিয়ে দেবেন না। ওই নোটে তিনি দাবি করেছেন তার লাশটি যেন ময়না তদন্ত বা কাটাছেড়া এবং মামলা করবেন না। প্রচলিত ইসলামি নিয়ম অনুযায়ী তার লাশটি দাফনের জন্য অনুরোধ করেছেন নাজমুস সাকিব।
ইউপি সদস্য সুপ্ত আরো জানিয়েছেন, দুই বছর আগেও একবার সাকিব আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। কিছুটা মানসিক সমস্যা রয়েছে বলে তার পিতা মাওলানা রফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা করিয়েছেন তার।
বসুন্দিয়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই কামরুজ্জামান বলেছেন, এদিন এই ঘটনার পরে উর্দ্ধতন মহলের সাথে আলোচনা করে ময়না তদন্ত ছাড়াই তার লাশ দাফনের অনুমতি দেয়া হয়েছে।
বসুন্দিয়া ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম খান রাসেল বলেছেন, মর্মান্তিক এই মৃত্যুর পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মৃত নাজমুস সাকিবের রূহের মাগফেরাত ও তার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে। সোমবার বেলা ১১টায় জানাজা শেষে সাকিবের লাশ দাফন করা হবে বলেও জানা যায়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button