অপরাধআইন ও বিচারচট্টগ্রামসারাদেশ

লক্ষ্মীপুরের ইয়াবা নিয়ে গ্রেপ্তার ইউপি সদস্য-গ্রাম পুলিশকে বরখাস্ত

লক্ষ্মীপুর জেলাতে প্রায় আড়াই কোটি টাকার ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান (সদস্য) মনির হোসেন সজিব ও গ্রাম পুলিশ সদস্য মো. ইব্রাহিমকে বরখাস্তের সুপারিশ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ জানুয়ারি) বিকেলে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরান হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ইউএনও ইমরান হোসেন বলেন, মাদকদ্রব্য আইনে ইউপি সদস্য সজিব ও গ্রাম পুলিশ সদস্য ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এই ঘটনাটি ন্যাক্কারজনক। তাদেরকে বরখাস্তের জন্য জেলা প্রশাসকসহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোসলেহ উদ্দিন বলেন, ৮৫ হাজার ২০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার মনির, ইব্রাহিম ও আমির হোসেনের বিরুদ্ধে র‌্যাবের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়। তাদেরকে বৃহস্পতিবার সকালে লক্ষ্মীপুর আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। বর্তমানে তারা কারাগারে রয়েছে। লক্ষ্মীপুর জেলাতে এটিই মাদকের সবচেয়ে বড় চালান ছিল। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে বিরুদ্ধে রিমান্ডের আবেদন করা হবে।

গ্রেপ্তার মনির সদর উপজেলার চররমনী মোহন ইউনিয়ন পরিষদের ৯নং ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) ও ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম-আহবায়ক। তিনি লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আলমগীর হোসেনের ভাগিনা। এছাড়া ইব্রাহিম একই ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ সদস্য ও আমির ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য।

পুলিশ জানায়, বুধবার (৪ জানুয়ারি) বিকেলে র‌্যাব-১১ এর নোয়াখালী ক্যাম্পের নায়েব সুবেদার (ডিএডি) মো. নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে গ্রেপ্তার ৩জনসহ ৫ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পলাতক আসামিরা হলেন আবদুর রহমান ও বাহাদুর মাঝি। ২০নং চররমনী ইউনিয়নের মধ্য চররমনী গ্রামের মনিরের বাড়িতে মাদকদ্রব্য রেখে বিক্রির গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (৩ জানুয়ারি) রাত ৩ টার দিকে র‌্যাব-১১ নোয়াখালী ক্যাম্প ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। এই সময় মনির, ইব্রাহিম ও আমিরকে আটক করে র‌্যাব। তাদের কাছ থেকে ৪৩৬টি এয়ারটাইট প্যাকেট ভর্তি ৮৫ হাজার ২০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। ৩০০ টাকা দরে এর মূল্য ২ কোটি ৫৫ লাখ ছয় হাজার টাকা। পরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে র‌্যাব গ্রেপ্তারকৃতদের সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করে।

সদর উপজেলা যুুবলীগের আহবায়ক তাফাজ্জল হোসেন চৌধুরী টিটু বলেন, আমাদের জেলা কমিটি নেই। মনির ও আমিরের বিরুদ্ধে মামলার এজাহার আমরা চট্টগ্রাম বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মশিউর রহমান চপলের কাছে পাঠিয়েছে। তিনি কেন্দ্রের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত দিলেই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button