অপরাধখুলনাসারাদেশ

যশোরে খেয়াঘাটের দূরঅবস্থা, চরম ভোগান্তিতে পথযাত্রীরা

যশোরের অভয়নগর উপজেলার ৮নং সিদ্ধিপাশা ইউনিয়নের সোনাতলা বাজার খেয়াঘাট খুবই ঝুঁকিপূর্ন অবস্থা রয়েছে।
প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী, মোটরসাইকেল,ছোটো এবং মাঝারি যানবাহন, কাঁচামাল বোঝাই মালগাড়ি গাড়ী পারাপার হয় এই ঘাট দিয়ে,দীর্ঘদিন ধরে ঘাটটির বেহাল দশা,ধ্বসে পড়েছে ঘাটের অর্ধেকটা। সাধারণ জনগণের প্রশ্ন আর কতটা ঝুকিপূর্ণ হলে সংস্কার করা হবে খেয়াঘাটটি । দিনের বেলায় যেখানে পারাপারে চরমভোগান্তিতে পড়ছে পথযাত্রীরা, সেখানে রাতের বেলায় পারাপার যে আরো ঝুকিপূর্ণ তা নিঃসন্দেহে বলা যায়।

 

এই ঘাট দিয়ে প্রতিদিন পার হচ্ছে স্কুল, মাদ্রাসা কলেজ এর ছাত্র ছাত্রী সহ নানান শ্রেনী-পেশার হাজারো মানুষ, ঘাট সংস্কারে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের কোনো উদ্যোগ না থাকায় ভোগান্তিতে রয়েছে যাত্রী ও সাধারণ জনগণ। ধসে পড়া ঘাটের রডগুলো বেরিয়ে রয়েছে, যা পথযাত্রীদের জন্য অতি বিপদজনক। এই রডের ফাঁকে পা পড়লে যে কোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

এছাড়া রাতের বেলায় নেই ঘাটে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা। ঘাটের একাধিক ট্রলার চালক জানান, পারাপার হওয়ার সময় প্রায়ই বিপদজনক অবস্থায় পড়েন যাত্রীরা।

 

ট্রলারে,নৌকাতে উঠতে- নামতে যারা ভোগান্তিতে পড়েন তাদের অধিকাংশ বৃদ্ধ, নারী কিংবা শিশু।সরজমিনে দেখা গেছে , উপজেলার সিদ্ধিপাশা ইউনিয়নসহ, নড়াইলর কালিয়া উপজেলার পিরোলি ইউনিয়নের, লোকজনের পরাপার হয়ে থাকে এই ঘাট দিয়ে।এই খেয়াঘাট শীতকালীন সময় থেকে পানি কমে যাওয়ায় ভাটার সময় ঘাটের খেয়াগুলো তাদের গন্তব্যস্থানে পৌঁছাতে পারে না ফলে কাদা পানিতে নামতে হয় যাত্রীদের, যে কারণে ট্রলারে উঠা নামা খুবই কষ্টসাধ্য হয়ে গেছে। নড়াইল থেকে আসা জাহাঙ্গীর নামে একজন যাত্রী জানান,আমার বাড়ি রঘুনাথপুর এই ঘাট পার হওয়ার সময় প্রায়ই ভোগান্তিতে পড়ি।

 

কখন যে পা ফসকে ভিতরে পড়ে যায় বলতে পারি না,এটা নতুন করে নির্মান করা উচিৎ।
লোহাগড়ার উদ্দেশ্যে খেয়া পার হওয়া এক নারী বলেন,আমার সঙ্গে বাচ্চা ও প্রয়োজনীয় কাপড়ের ব্যাগ সহ অন্যান্য জিনিস পত্র আছে,কেউ সাহায্য না করলে ট্রলারে ওঠা যায় না এবং ট্রলারে খুব ঝুঁকি তে উঠতে হয়।

 

স্থানীয় এক নারী যাত্রী বলেন, আমাদের পারাপারের একটি মাত্র ঘাট । এই ঘাট দিয়ে বৃদ্ধ ও অসুস্থ এবং সন্তান সম্ভবনা মা-বোনরা পরাপার হতে পারে না,দ্রুত এই সমস্যা দূরীকরণের জন্য এলাকাবাসী সিদ্ধিপাশা ইউনিয়নের চেয়ারম্যানসহ উপজেলা প্রশাসন ও ঘাট কতৃপক্ষকে আহ্বান জানান। এতে করে এলাকাবাসী সহ সকল যাত্রী সাধারণ র্নিবিঘ্নে পারাপার হতে পারবে এবং সাধারণ জনগণ এলাকাবাসী ঘাট পারাপার নিয়ে কোন সমস্যায় পড়বে না।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button