ধর্ম

মাহে রমজানের দ্বিতীয় দশ দিন মাগফিরাতের

হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকীরহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস রমজানুল মোবারক চলছে । আজ থেকে শুরু হলো মাগফিরাতের দশক । মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার দ্বিতীয় ১০ দিনকে বলা হয় মাগফিরাতের দশক । অর্থাৎ ১১ থেকে ২০ রোজা পর্যন্ত মাগফিরাত, যার অর্থ ক্ষমা । রাসূলুল্লাহ( সা.) বলেছেন, ‘ রমজানের প্রথম ১০ দিন রহমতের, দ্বিতীয় ১০ দিন মাগফিরাত লাভের এবং তৃতীয় ১০ দিন জাহান্নাম থেকে মুক্তিলাভের । ’( মিশকাত) এ মাসে যখন একজন রোজাদার সারা বছরের নেকি ও পুণ্যের ঘাটতি পূরণের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা- সাধনা চালিয়ে যান এবং মাগফিরাতের ১০ দিনও অতিবাহিত করেন, তখন আল্লাহ তার গুনাহ- খাতা মাফ করে দেন । মাহে রমজানের প্রতি দিন- রাতেই অনেক মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়া হয় এবং দোয়া কবুল হয় । রাসূলুল্লাহ( সা.) বলেছেন, ‘ মাহে রমজানের প্রতি রাতেই একজন ফেরেশতা ঘোষণা করতে থাকেন, ‘ হে পুণ্য অন্বেষণকারী! অগ্রসর হও । হে পাপাচারী! থামো, চোখ খোলো । ’ তিনি আবার ঘোষণা করেন, ‘ ক্ষমাপ্রার্থীকে ক্ষমা করা হবে । অনুতপ্তের অনুতাপ গ্রহণ করা হবে । প্রার্থনাকারীর প্রার্থনা কবুল করা হবে । ’

এ মাসে আল্লাহর দরবারে মাগফিরাত কামনা করলে, গরিব- দুঃখীদের প্রতি দান- সদকার পরিমাণ বাড়িয়ে দিলে, নিজে সব ধরনের খারাপ কাজ পরিহার করলে, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য ইবাদত- বন্দেগি, জিকির- আসকার, তাসবিহ- তাহলিল, কোরআন তিলাওয়াত ও দোয়া- ইস্তেগফার করলে, মহান আল্লাহ তা অবশ্যই কবুল করেন । রাসূলুল্লাহ( সা.) বলেছেন, ‘ এ মাসে চারটি কাজ অবশ্যকরণীয় । দুটি কাজ এমন যে, তার দ্বারা তোমাদের প্রতিপালক সন্তুষ্ট হন । অবশিষ্ট দুটি এমন, যা ছাড়া তোমাদের কোনো গত্যন্তর নেই । এই চারটির মধ্যে একটি হলো কালেমায়ে শাহাদাত পাঠ করা, দ্বিতীয়টি হলো অধিক পরিমাণে ইস্তেগফার বা ক্ষমা প্রার্থনা করা । এ দুটি কাজ আল্লাহর দরবারে অতি পছন্দনীয় । তৃতীয় ও চতুর্থ হলো জান্নাত লাভের আশা করা ও জাহান্নাম থেকে পরিত্রাণের প্রার্থনা করা । এ দুটি এমন বিষয়, যা তোমাদের জন্য একান্ত প্রয়োজন । ’( ইবনে খুজাইমা)

মাতৃগর্ভ থেকে মানুষ যেভাবে নিষ্পাপ অবস্থায় ভূমিষ্ঠ হয়, মাহে রমজানের ৩০ দিন যথাযথভাবে রোজা পালন করলে তেমন নিষ্কলুষ হয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে । এসব মুমিন বান্দার মাগফিরাত ও নাজাতপ্রাপ্তি সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ( সা.) বলেছেন, ‘ যারা রমজানের চাঁদের প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত রোজা রেখেছে, তারা সেদিনের মতোই নিষ্পাপ হয়ে যাবে, যেদিন তাদের মাতা তাদের নিষ্পাপরূপে জন্ম দিয়েছেন । ’ তিনি আরও বলেছেন, ‘ যে ব্যক্তি রমজান মাস পেয়ে নিষ্পাপ হতে পারল না, তার মতো হতভাগ্য এই জগতে আর কেউ নেই । ’ সিয়াম সাধনার মধ্যে কোনোরকম ভুলত্রুটি হয়ে গেলে তৎক্ষণাৎ তওবা ও ইস্তেগফার করে নিজেদের সংশোধন করে নেওয়া দরকার । আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘ আর তিনিই( আল্লাহ) তার বান্দাদের তওবা কবুল করেন এবং পাপগুলো ক্ষমা করে দেন । ’( সূরা আশ শুরা ১৫)

অতএব, মুমিন বান্দাদের উচিত, মাগফিরাতের দশকটি আমল- ইবাদত, প্রার্থনা- মোনাজাতে কাটিয়ে আল্লাহ তায়ালার ক্ষমালাভে ধন্য হওয়া, মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে আমল করার তৌফিক দান করুন আল্লাহুম্মা আমিন ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button