অন্যান্য

মানব কল্যাণে বিজ্ঞান রচনা ২০ পয়েন্ট

মানব কল্যাণে বিজ্ঞান রচনা ২০ পয়েন্ট: মানবতার কল্যাণে বিজ্ঞানের অবদান অনন্য। বিজ্ঞান মানুষের জীবনকে সহজ থেকে সহজতার করে তুলেছে। মানবকল্যাণে বিজ্ঞানের ভূমিকা অপরিসীম। যদি মানব কল্যাণে বিজ্ঞান রচনার ২০ টি পয়েন্ট খুঁজে থাকেন তাহলে আজকের আর্টিকেলটি আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আজকে আপনি মানব কল্যাণে বিজ্ঞান রচনার ২০ টি পয়েন্ট সহ জানতে পারবেন।

মানব কল্যাণে বিজ্ঞান রচনা ২০ পয়েন্ট

প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা মানব কল্যাণের বিজ্ঞান রচনাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মানব কল্যাণে বিজ্ঞান রচনা টি বিভিন্ন বোর্ড পরীক্ষায় বারবার আসে। তবে মানব কল্যাণে বিজ্ঞান রচনায় পূর্ণ নম্বর পেতে হলে মানব কল্যাণে বিজ্ঞান রচনার ২০ টি পয়েন্ট  ভালোভাবে লিখতে হবে। আজকে আমরা খুব ভালো ভাবে মানব কল্যাণে বিজ্ঞান রচনার ২০ টি পয়েন্ট পড়ব। মানব কল্যাণে বিজ্ঞান রচনা ২০০ শব্দ এর চেয়ে একটু বড় লিখতে হবে পূর্ণ নম্বর পেতে।

মানব কল্যাণে বিজ্ঞান রচনা ২০ পয়েন্ট

মানব কল্যাণে বিজ্ঞান রচনা ২০ টি পয়েন্ট সমূহ: ভূমিকা, বিজ্ঞানের অবদানসমূহ, বিজ্ঞানের আবিষ্কার সমূহ, দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞানের ভূমিকা, ক্যালকুলেটর, ছাপাখানা, বিদ্যুৎ,  টেলিফোন, বৈদ্যুতিক বাতি, কম্পিউটার, টেলিভিশন, বিমান, এয়ারকন্ডিশন, ক্রেডিট কার্ড, ডিজিটাল ক্যামেরা, ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব, অটোমোবাইল, মোবাইল ফোন বা স্মার্টফোন, এটিএম, রেফ্রিজারেটর, ই-কমার্স, গৃহস্থলী কাজে বিজ্ঞান, শিক্ষা ব্যবস্থায় বিজ্ঞানের ভূমিকা, চিকিৎসা ক্ষেত্রে বিজ্ঞান, কর্মস্থল ও পরিবহন ক্ষেত্রে বিজ্ঞান, কৃষি ও শিল্পের প্রসারে বিজ্ঞান, বিজ্ঞানের অকল্যাণকর দিকসমূহ, উপসংহার 
ভূমিকা: আধুনিক যুগকে বলা হয় বিজ্ঞানের যুগ। এর অন্যতম কারণ বিজ্ঞানের অভাবনীয় সাফল্য ও আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সাথে এর ওতপ্রোত সম্পর্ক। বিজ্ঞান মানুষের জীবনে এনেছে গতিময়তা, সমস্ত পৃথিবীকে এনে দিয়েছে হাতের মুঠোয়, জীবনযাত্রাকে করেছে সহজ। বিজ্ঞান সভ্যতার অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করেছে। আধুনিক বিজ্ঞান শুধু শিল্প ও বাণিজ্য ক্ষেত্রেই নয়, মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় এনেছে অভাবনীয় পরিবর্তন। দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আমরা বিজ্ঞানের ব্যবহার করে চলেছি।
বিজ্ঞানের অবদানসমূহ: বিজ্ঞান মানুষের সনাতন ধ্যানধারণা ও চিন্তা চেতনার পরিবর্তন ঘটিয়ে মানুষের জীবনকে উন্নীত করেছে এক নতুন উচ্চতায়। সভ্যতার ঊষালগ্নের সেই নিরীহ মানুষ আজ বিশেষ জ্ঞান ও অদম্য শক্তির অধিকারী। বিজ্ঞানচর্চার মাধ্যমে জেম্স ওয়াট স্টিম ইঞ্জিন ও জর্জ স্টিভেন্স রেলগাড়ি আবিষ্কার করেছেন। জন লেজি বেয়ারড,ফার্ণসয়রত এবং জরিকিন টেলিভিশন আবিষ্কার করেছেন। বিদ্যুৎ, আণবিক শক্তি, মহাকাশ গবেষণা, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি প্রভৃতি বিজ্ঞানের বিস্ময়কর আবিষ্কার। বিজ্ঞান মানুষকে জল, স্থল, নভোমণ্ডল জয় করার সুযোগ করে দিয়েছে। আর্কিমিডিস, কোপার্নিকাস, গ্যালিলিও, নিউটন, আইনস্টাইন প্রমুখ মহান বিজ্ঞানীদের অক্লান্ত শ্রমে মানুষ আধুনিক যুগে উন্নীত হওয়ার সুযোগ পেয়েছে।
দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞানের ভূমিকা: আমাদের দৈনন্দিন জীবন যাত্রাকে জালের মতো আবৃত করে আছে বিজ্ঞান। বিজ্ঞান ছাড়া আমরা এক মুহূর্তও চলতে পারি না। প্রতিদিন সকালে ধোঁয়া ওঠা চায়ের সাথে হাতে সংবাদপত্র না পেলে পুরো পৃথিবী থেকে আমরা নিজেদের বিচ্ছিন্ন মনে করি। টেলিভিশনের পর্দায় আমরা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ঘটে যাওয়া অসংখ্য ঘটনার জীবন্ত ভিডিও চিত্র দেখতে পারি। টেলিফোনের মাধ্যমে পৃথিবীর একপ্রান্তে বসে মুহূর্তের মধ্যেই অন্যপ্রান্তে যোগাযোগ করতে পারি। কৃষি কাজ, বাড়িঘর নির্মাণ, পরিধেয় বস্ত্র ও ওষুধপত্র তৈরি, খনিজ পদার্থ উত্তোলন ও ব্যবহার উপযোগী করে তোলা প্রভৃতি ক্ষেত্রে বিজ্ঞানের প্রয়োজনীয়তা অনিবার্য ।
বিজ্ঞানের আবিষ্কার সমূহ: বিজ্ঞান যেমন জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করেছে তেমনি আমাদের জীবনকে করেছে অনেক সহজ এবং গতিশীল। প্রতিদিন আমরা বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে থাকি। মূলত এর সবই বিজ্ঞানের আবিষ্কার। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে বহুল ব্যবহৃত এমন কিছু শ্রেষ্ঠ আবিষ্কার নিচে তুলে ধরা হলো
ছাপাখানা: বইপুস্তক বা কোনো তথ্য ছাপার কথা বললেই আসে ছাপাখানার কথা। পূর্বে বিভিন্ন ফাইল, বইপুস্তক হাতে লিখে প্রকাশ করা হত। এটি সর্বপ্রথম ১৪৪০ সালে জন গুটেনবার্গ আবিষ্কার করেন। কম্পিউটার আবিষ্কারের সাথে সাথে এর বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে ছাপাখানা আমাদের বাড়িতেই ব্যবহার করতে পারি যা প্রিন্টার হিসেবে পরিচিত।
ক্যালকুলেটর: প্রতিদিনের হিসাবের কাজে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় ক্যালকুলেটর। নবম শতকে চীনে আবিষ্কৃত ক্ষুদ্র ক্যালকুলেটর অ্যাবাকাস। সর্বপ্রথম ১৬৪২ সালে গণিতবিদ ব্লেইসি প্যাসকেল ক্যালকুলেটর আবিষ্কার করেন। আধুনিক ক্যালকুলেটর আবিষ্কার ১৯৬৩ সালে এবং এর আবিষ্কারক বেল পাঞ কোম্পানি।

বিদ্যুৎ: বিজ্ঞানের সকল আবিষ্কারের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার বিদ্যুৎ। বিদ্যুৎ আবিষ্কার ছাড়া আমাদের ব্যবহৃত প্রায় সকল আবিষ্কার বিফলে পরিণত হতো। বিদ্যুৎ কে আবিষ্কার করেছে তা সঠিকভাবে বলা দুরূহ। খ্রিষ্টপূর্ব ৬০০ থেকে শুরু করে খ্রিষ্টাব্দ ১৯৩৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন গবেষণার ফলে আজকের অবস্থানে বিদ্যুৎ।
টেলিফোন: আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল ১৮৭০ সালে টেলিফোন আবিষ্কার করেন। এটি আবিষ্কারের পেছনে ছিলেন অ্যান্টনি মিউকি, ফিলিপ রিস, ইলিশা গ্রে এবং আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল। কিন্তু ১০ মার্চ ১৮৭৬ সফলভাবে টেলিফোন আবিষ্কার করেন আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল ।
বৈদ্যুতিক বাতি: বিদ্যুৎ আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে মানুষ এর বিভিন্ন ব্যবহার শুরু করে। এর থেকেই আবিষ্কার বৈদ্যুতিক বাতির। এর আবিষ্কারক আমেরিকান বিজ্ঞানী টমাস আলভা এডিসন। সর্বপ্রথম মানুষ সফলভাবে বৈদ্যুতিক বাতির ব্যবহার শুরু করে ১৮৭৯ সালে। আর বর্তমানে পৃথিবীর প্রায় সকল মানুষ বৈদ্যুতিক বাতি ব্যবহার করে। 

মানব কল্যাণে বিজ্ঞান রচনা ২০ পয়েন্ট

কম্পিউটার: যুগে যুগে বিখ্যাত কিছু আবিষ্কার হয়েছে যা মানুষের জীবনকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করেছে। তেমনি এক বিস্ময়কর আবিষ্কার কম্পিউটার। কম্পিউটার আবিষ্কার যেন মানুষের জীবনে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। যুগান্তকারী এই কম্পিউটারের আবিষ্কারক হাওয়ার্ড আইকেন। ডেস্কটপ কম্পিউটার সর্বপ্রথম মানুষের হাতে আসে ১৯৭৪ সালে। পরবর্তীতে ১৯৮১ সালে অ্যাডাম অসবর্ন ল্যাপটপ আবিষ্কার করেন।
টেলিভিশন: মানুষের বিনোদন জোগাতে বিজ্ঞানের সর্বপ্রথম আবিষ্কার টেলিভিশন। এর আবিষ্কারক জন লেজি বেয়ারড, ফার্নসয়রথ এবং জরিকিন। টেলিভিশনের ব্যবহার সর্বপ্রথম শুরু হয় ১৯৫৮ সালে। এটিতে শোনার পাশাপাশি ছিল দেখার সুবিধা। আবিষ্কারের শুরু থেকে টেলিভিশনের গঠন পরিবর্তন হচ্ছে। একসময়কার বারো ইঞ্চি লম্বা টিউবযুক্ত টেলিভিশন থেকে আজ আমরা পঞ্চাশ ইঞ্চির চেয়েও বড় এলসিডি টেলিভিশন দেখতে পাই।
বিমান: বিমানের ধারণা আসে মূলত রাইট ভ্রাতৃদ্বয়ের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে। ১৯০৩ সালের ১৭ই ডিসেম্বর অরভিল এবং উইলভার রাইট প্রথম মানুষের আকাশে ওড়ার সম্ভাব্যতা নিয়ে পরীক্ষা চালান। আর বাণিজ্যিকভাবে ১৯১১ সালে অ্যারোপ্লেন আবিষ্কার করা হয়। বর্তমানে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়ার সবচেয়ে দ্রুতগামী মাধ্যম হচ্ছে এরোপ্লেন। অ্যারোপ্লেনের নীতির ওপর ভিত্তি করেই জেট বিমান, রকেট ইত্যাদি আবিষ্কৃত হয়েছে। বর্তমানে বিমানের যাত্রী সংখ্যার সঠিক হিসাব নেই। তবে ধারণা করা হয় বিমান যাতায়াতকারী যাত্রীর সংখ্যা ১.৫ বিলিয়ন।
এয়ারকন্ডিশন: বছরের সকল সময় আরামদায়ক আবহাওয়া সৃষ্টিতে ব্যবহৃত যন্ত্র এয়ারকন্ডিশন । বর্তমান উন্নত বিশ্বের বেশিরভাগ মানুষ অফিস, বাড়িঘরে এয়ার কন্ডিশন ব্যবহার করে থাকে। আমেরিকান বিজ্ঞানী উইলিস কারিয়ার এটি আবিষ্কার করেন। তিনি ১৯০২ সালে একটি প্রিন্টিং এর দোকানের অতিরিক্ত আর্দ্রতা কমাতে একটি পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। এটিই বর্তমানে এয়ারকন্ডিশন হিসেবে সমগ্র বিশ্বে ব্যবহৃত হচ্ছে।
ক্রেডিট কার্ড: বর্তমানে বড় বড় বিপণিতে কেনাকাটা করতে নগদ টাকার পরিবর্তে একটি কার্ড ব্যবহার করা হয়। এটি কোনোকিছু ক্রয় করে বিপণিবিতানে বসে শুধু একটি কার্ড দিয়ে দাম পরিশোধ করা যায়। আর এই প্লাস্টিক কার্ডই ক্রেডিট কার্ড। সর্বপ্রথম ১৯২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এর ব্যবহার সফলভাবে শুরু হয়। সর্বপ্রথম ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারী যুক্তরাষ্ট্রের জন বিগিন ।
ডিজিটাল ক্যামেরা: ১৯৭৫ সালে স্তেভেন সাসন ডিজিটাল ক্যামেরা আবিষ্কার করেন। সর্বপ্রথম আবিষ্কৃত ডিজিটাল ক্যামেরা ছিল ০.০১ মেগা পিক্সেল ক্ষমতাসম্পন্ন। আর আজ আমরা ১৬০ মেগা পিক্সেল ক্ষমতাসম্পন্ন ক্যামেরা ব্যবহার করে থাকি। এমনকি বর্তমানে মোবাইল ফোনেও ডিজিটাল ক্যামেরার সুবিধা রয়েছে।
ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব: বর্তমানে যেকোনো প্রয়োজনে আমরা ইন্টারনেটের সাহায্য নিয়ে থাকি। আর ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের কাছে শব্দটি খুব পরিচিত। আর এই শব্দ তিনটির পূর্ণ রূপ ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব সর্বপ্রথম ১৯৯০ সালে ব্রিটিশ বিজ্ঞানী টিম বারনারস লি এটি আবিষ্কার করেন। বর্তমানে সারাবিশ্বে ১.৯ বিলিয়ন মানুষ এটি ব্যবহার করে থাকে। এই শব্দ তিনটি দ্বারাই সকল ওয়েবসাইট তৈরি হচ্ছে আর আমরা পেয়ে যাচ্ছি আমাদের প্রয়োজনীয় তথ্য।
অটোমোবাইল: মানুষের চলার পথকে আরও অনেক আরামদায়ক এবং দ্রুত করতে বিজ্ঞানের আবিষ্কার অটোমোবাইল অন্যতম। কার্ল বেলজ এবং ডেইলমলারের আবিষ্কৃত অটোমোবাইল খুব জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। আর এজন্য অটোমোবাইলের আবিষ্কারক হিসেবে বিবেচনা করা হয় কার্ল বেনজকে।
মোবাইল ফোন বা স্মার্ট ফোন: বর্তমান সময়ে মানুষের জীবনের একটি অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে মোবাইল ফোন। বহুল ব্যবহৃত এই যন্ত্রটির আবিষ্কার কৌশল এসেছে আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেলের টেলিফোন আবিষ্কারের মাধ্যমে। সর্বপ্রথম তারহীন এই মোবাইল ফোন বাজারে আসে ১৯৮৩ সালে। আর এটি প্রথম বাজারজাত কোম্পানি করে। মটোরলা কোম্পানি। বর্তমানে বিশ্বের শতকরা ৭৫ ভাগ মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করে থাকে।
এটিএম: জরুরি বা ছুটির দিনে ব্যাংকে গচ্ছিত টাকা উঠানোর একটি বিশেষ পদ্ধতি এটিএম বা অটোমেটেড টেলার মেশিন। বিজ্ঞানী লুথার জর্জ সিমজান এটি আবিষ্কার করেন। এখানে একটি পিন কোডের মাধ্যমে গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়। বর্তমানে বিশ্বের সকল দেশে এটি বহুলভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
রেফ্রিজারেটর: কোনো খাবার দীর্ঘদিন টাটকা রাখতে বহুল ব্যবহৃত যন্ত্রের নাম রেফ্রিজারেটর। সর্বপ্রথম উইলিয়াম কুলেন ১৭৮৪ সালে রেফ্রিজারেটরের ডিজাইন করেন। কিন্তু এর কোনো ব্যবহারিক প্রয়োগ হয়নি। পরবর্তীতে ১৮০৫ সালে আমেরিকান উদ্ভাবক অলিভার ইভান রেফ্রিজারেটরের নকশা করেন। সবচেয়ে উন্নত, রেফ্রিজারেটর আবিষ্কার করেন আফ্রিকান-আমেরিকান বিজ্ঞানী থমাস এস্ক্রিন এবং জন স্ট্যান্ডার্ড।

ই-কমার্স: বিজ্ঞানের আশীর্বাদের ফলে ব্যবসায়-বাণিজ্যেও এসেছে নতুন ধারা। ই-কমার্সের মাধ্যমে মানুষ এখন ঘরে বসেই তার প্রয়োজনীয় কেনাকাটা করতে পারছে। মানুষ আর আগের মতো বাজার বা শপিংমলে যাওয়ার চেয়ে ই-কমার্সকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

মানব কল্যাণে বিজ্ঞান রচনা ২০ পয়েন্ট

গৃহস্থালি কাজে বিজ্ঞান: দৈনন্দিন বিভিন্ন প্রয়োজনে ও সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনযাপনে বাড়িঘরে মানুষ বিজ্ঞানের অবদানকে ব্যবহার করে চলেছে। রান্নার কাজে প্রাকৃতিক গ্যাস, বৈদ্যুতিক হিটার প্রভৃতি ব্যবহার করা হয়। এছাড়া গবাদি পশুর বর্জ্য থেকে রান্নার কাজে ব্যবহার উপযোগী বায়োগ্যাস তৈরির প্রযুক্তি জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বৈদ্যুতিক পাখা, বিজলিবাতি চালানো; মোবাইল ফোন ও চার্জার লাইট চার্জ দেওয়া; টেলিভিশন, ওয়াটার হিটার, প্রেসার কুকার, রাইস কুকার, এয়ার কুলার প্রভৃতি ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার জনজীবনে অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। মোটকথা বিজ্ঞান মানবজীবনে আশীর্বাদ রূপে তাদের গৃহস্থালি কর্মকাণ্ডকে স্বাচ্ছন্দ্যময় করেছে।
শিক্ষাব্যবস্থায় বিজ্ঞানের ভূমিকা: শিক্ষাক্ষেত্রেও বিজ্ঞানের রয়েছে বিস্তর। অবদান। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমে প্রজেক্টরের সাহায্যে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। ইন্টারনেটের আবিষ্কার শিক্ষাক্ষেত্রে এনেছে সুদূরপ্রসারী বিপ্লব। যেকোনো তথ্য বর্তমানে গুগল অনুসন্ধানের মাধ্যমে অতি সহজেই শিক্ষার্থীর হাতের নাগালে পৌঁছে যাচ্ছে। এসব কিছুই মূলত বিজ্ঞানের অবদান।
চিকিৎসাক্ষেত্রে বিজ্ঞান: মানুষকে সুস্থ করা ও জটিলরোগ উপশমে চিকিৎসাবিজ্ঞান নিত্য নতুন আবিষ্কারের মাধ্যমে মানুষকে সেবা দিয়ে যাচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তির আবিষ্কারের ফলে চশমা ব্যবহার ছাড়াই মানুষ আজ স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাচ্ছে। স্ট্রেপটোমাইসিন, পেনিসিলিন, এক্স-রে প্রভৃতি আজ মৃত্যুপথযাত্রীকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে ব্যাপক ভূমিকা পালন করছে। কর্নিয়া (অক্ষিগোলকের স্বচ্ছ আবরণ), বৃক্ক, অস্থিমজ্জা, হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস এবং যকৃতের মতো অঙ্গপ্রতঙ্গ প্রতিস্থাপনে চিকিৎসাবিজ্ঞান আজ সফল।
কর্মস্থল ও পরিবহনক্ষেত্রে বিজ্ঞান: অফিস-আদালত, কলকারখানা, শপিংমল, দোকান-পাট প্রভৃতি ক্ষেত্রে প্রতিদিন প্রতিনিয়ত বিজ্ঞান সৃষ্ট প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে। প্রিন্টার ও ফটোস্ট্যাট মেশিন এসব প্রতিষ্ঠান সমূহের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তৈরি পোশাক শিল্প ও বিভিন্ন কলকারখানায় শ্রমিকরা বৈদ্যুতিক যন্ত্রের সাহায্যে তাদের দৈনন্দিন নির্ধারিত কাজগুলো সম্পন্ন করছেন। বড় শপিংমলগুলোতে গ্রাহকদের নিরাপত্তা রক্ষা ও সুবিধার্থে সি.সি. ক্যামেরা, লিফট, এস্কেলেটর প্রভৃতি ব্যবহৃত হয়, যা বিজ্ঞানের আবিষ্কার। এছাড়া স্থানিক দূরত্ব অতিক্রমে ও জনগণের কল্যাণে বাস, ট্রাক, মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার, লঞ্চ, স্টিমার প্রভৃতি আবিষ্কৃত হয়েছে। বেতার যন্ত্র, ভিডিও চ্যাট, মোবাইল ফোন প্রভৃতির মাধ্যমে যোগাযোগের স্থানিক দূরত্ব হ্রাস পেয়েছে।
কৃষি ও শিল্পের প্রসারে বিজ্ঞান: অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষের দিকে এবং ঊনবিংশ শতাব্দীর সূচনালগ্নে শিল্পবিপ্লবের মাধ্যমে কৃষির আধুনিকায়নের সূচনা ঘটে। প্রাচীন আমলের কাঠের লাঙলের পরিবর্তন বর্তমানে কৃষকদের হাতে এসেছে কলের লাঙল, ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলার ইত্যাদি। সেচ ব্যবস্থায় ব্যবহৃত হচ্ছে বিদ্যুৎশক্তিচালিত পাম্প। কৃষিতে পচা আবর্জনা ও গোবরের সাথে ব্যবহার হচ্ছে আধুনিক রাসায়নিক সার। গবেষণার মাধ্যমে কৃষকদের হাতে উচ্চফলনশীল বীজ সরবরাহ করা হচ্ছে। বিজ্ঞানের
অকল্যাণকর দিকসমূহ: কল্যাণকর দিকের পাশাপাশি বিজ্ঞানের অকল্যাণকর দিকও কম নয়। বিজ্ঞানকর্তৃক আবিষ্কৃত স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রগুলো যখন কাজ করতে শুরু করেছে, তারপর থেকেই অসংখ্য মানুষ বেকার হয়ে পড়েছে। দ্রুত শিল্পায়ন, যন্ত্রশিল্প কারখানা ইত্যাদি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলকে দূষিত করতে ও প্রাকৃতিক পরিবেশকে বিনষ্ট করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। পরিবেশবিদদের আশঙ্কা এ দূষণ প্রক্রিয়া অব্যহত থাকলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হবে যা জীবজগতের ওপর বিভিন্ন ধরণের বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, রাশিয়ার চেরনোবিলে পারমাণবিক দুর্ঘটনায় যে তেজস্ক্রিয় পদার্থ নির্গত হয়েছিল তা পরিবেশকে মারাত্মকরূপে দূষিত করেছিল এবং এতে অসংখ্য মানুষ পঙ্গু হয় ও মারা যায়। বিজ্ঞানের কোনো কোনো বিস্ময়কর আবিষ্কার মানুষের জন্য আশীর্বাদ না হয়ে অভিশাপে পরিণত হয়েছে।
উপসংহার: বিজ্ঞান মানুষকে করেছে স্বনির্ভরশীল এবং স্বাভাবিকের চেয়ে অধিক ক্ষমতাধর। বিজ্ঞানের আবিষ্কার ও অবদানসমূহকে মানুষ কোন পথে ব্যয় করবে তা নির্ভর করে মানুষের ইচ্ছার ওপর। যদিও বিজ্ঞানের সৃষ্টি হয়েছে মহৎ উদ্দেশ্যে তথা মানবকল্যাণে। মানুষ যদি কেবল মানবকল্যাণে বিজ্ঞানকে ব্যবহার করে তবেই এর সার্থকতা প্রতিপন্ন হবে। শিক্ষা, চিকিৎসা, গৃহস্থালি কাজকর্ম, কৃষি, শিল্প, আণবিক শক্তি প্রভৃতি ক্ষেত্রে বিজ্ঞানের যে অবদান তা কোনোভাবেই অস্বীকার করার উপায় নেই। বিজ্ঞান আমাদের জীবনে প্রতিটি ক্ষেত্রে বর্তমানে এমনভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে যে, বিজ্ঞান ছাড়া আমরা এক পাও এগুতে পারব না। তাই জয় হোক বিজ্ঞানের।
মানব কল্যাণে বিজ্ঞান রচনার ২০ টি পয়েন্ট দেওয়া হল আশা করি শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে। মানব কল্যাণের বিজ্ঞান রচনা টি ভালোভাবে আয়ত্ত করলে পরীক্ষায় পূর্ণ মার্ক পাওয়া যাবে। তাই মানব কল্যাণে বিজ্ঞান রচনার ২০ টি পয়েন্ট ভালো হবে পড়তে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button