জ্ঞানমূলক

বিলাসী গল্পের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

বিলাসী গল্পের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর: শরৎচন্দ্রের রচিত বিলাসী গল্পটি প্রথম ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। বিলাসী গল্পে ব্যতিক্রমধর্মী দুইজন মানব মানবির চরিত্রের অসাধারণ প্রেমের কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে। যা জাতিগত বিভেদের সংকীর্ণ সীমা পেরিয়ে গেছে। বিলাসী গল্পে সংঘটিত ঘটনাগুলো বিভিন্ন চরিত্রের মধ্যে সংঘাতের মাধ্যমে কাহিনীর অগ্রসর হয়েছে। বিলাসী গল্পে বিলাসী ও মৃত্যুঞ্জয়ের প্রেমের কাহিনী রচিত হয়েছে। যেখানে জাতিগত সংকীর্ণতা দূরে ঠেলে একে অপরের কাছে এসেছে। বিলাসী গল্পের খুড়া হল মিত্তির বংশের। 
বিলাসী গল্পের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

বিলাসী গল্পের মূল বিষয়বস্তু হলো জাতিগত সংকীর্ণতাকে দূরে ঠেলে দিয়ে মৃত্যুঞ্জয় ও বিলাসী একে অপরের সাথে ঘর বেধেছে  বিলাসী গল্পে দেখানো হয়েছে সকল মানুষই সমান। জাতিগত সংকীর্ণতা আমাদের দূরে ঠেলে দেয়। বিলাসী গল্পের মূল বিষয়বস্তু জানার পরে বিলাসী গল্পের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন অথবা বিলাসী গল্পের mcq জানার প্রয়োজন পড়ে। আপনি যদি বিলাসী গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তরে পূর্ণ নম্বর পেতে চান তাহলে আপনার জন্য বিলাসী গল্পের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন পড়া আবশ্যক হয়ে যায়। কেননা সৃজনশীল প্রশ্নের ১০ নম্বর পেতে হলে বিলাসী গল্পের জ্ঞানমূলক প্রশ্নগুলোর উত্তর জানাও আবশ্যক হয়ে যায়। বিলাসী গল্পের জ্ঞানমূলক প্রশ্নের উত্তর জানার পাশাপাশি বিলাসী গল্পের mcq প্রশ্নের উত্তর জানতে হবে।

বিলাসী গল্পের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর 

বিলাসী গল্পের mcq অথবা বিলাসী গল্পের জ্ঞান মূলক প্রশ্নের উত্তর সার্চ করে থাকেন জানার জন্য। আজকে বিলাসী গল্পের জ্ঞানমূলক প্রশ্নের উত্তর গুলো দেওয়া হল আশা করি কাজে লাগবে। তাহলে চলুন শুরু করা যাক।
১. ‘বিলাসী’ গল্পের লেখকের নাম কী?
উত্তর : ‘বিলাসী’ গল্পের লেখকের নাম শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।

২. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কোন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর : শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় দেবানন্দপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

৩. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর : শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় হুগলি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন ।

৪. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় জীবিকার তাগিদে কোথায় গিয়েছিলেন?
উত্তর : শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় জীবিকার তাগিদে বর্মা (মিয়ানমার) গিয়েছিলেন।

৫. শরৎচন্দ্রের প্রথম গল্পের নাম কী? উত্তর : শরৎচন্দ্রের প্রথম গল্পের নাম ‘মন্দির’।

৬. শরৎচন্দ্রের শ্রেষ্ঠ উপন্যাস কোনটি?
উত্তর : শরৎচন্দ্রের শ্রেষ্ঠ উপন্যাস ‘শ্রীকান্ত’ ।

৭. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কত খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন?
উত্তর : শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৯৩৮ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

৮. ‘বিলাসী’ গল্পটি কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
উত্তর : ‘বিলাসী’ গল্পটি ‘ভারতী’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

৯. মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা কে?
উত্তর : মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা সম্রাট বাবর ।

১০. কলার ছড়াকে ‘বিলাসী’ গল্পে কী নামে উপস্থাপন করা হয়েছে?
উত্তর : কলার ছড়াকে ‘বিলাসী’ গল্পে রন্ডার কাঁদি নামে
উপস্থাপন করা হয়েছে।

১১. বর্তমানের কোন শ্রেণিকে পূর্বে ফোর্থ ক্লাস বলা হতো? উত্তর : বর্তমানের সপ্তম শ্রেণিকে পূর্বে ফোর্থ ক্লাস বলা হতো।

১২. মৃত্যুঞ্জয়ের পোড়োবাড়িতে কিসের বালাই নেই? 
উত্তর : মৃত্যুঞ্জয়ের পোড়োবাড়িতে প্রাচীরের বালাই নেই’।

১৩. ন্যাড়া প্রায় কত মাস মৃত্যুঞ্জয়ের খবর নেয়নি? 
উত্তর : ন্যাড়া প্রায় দুই মাস মৃত্যুঞ্জয়ের খবর নেয়নি ।

১৪. দেশের কতজন নরনারী ঐ পল্লিগ্রামেরই মানুষ? 
উত্তর : দেশের নব্বই জন নরনারী ঐ পল্লিগ্রামেরই মানুষ।

১৫. কত মিনিট পরে মৃত্যুঞ্জয় একবার বমি করে দিল? 
উত্তর : প্রায় পনেরো-কুড়ি মিনিট পরে মৃত্যুঞ্জয় একবার বমি করে দিল ।

১৬. মৃত্যুঞ্জয়কে সাপে কাটলে কতজন দেবদেবীর দোহাই
পড়া হয়?
উত্তর : মৃত্যুঞ্জয়কে সাপে কাটলে তেত্রিশ কোটি দেবদেবীর দোহাই পড়া হয়।

১৭. ‘বিলাসী’ গল্পটি কার জবানিতে বর্ণিত হয়েছে? 
উত্তর : ‘বিলাসী’ গল্পটি ন্যাড়ার জবানিতে বর্ণিত হয়েছে।

১৮. ‘বিলাসী’ গল্পের ন্যাড়া কয় ক্রোশ পথ হেঁটে স্কুলে যেত? উত্তর : ‘বিলাসী’ গল্পের ন্যাড়া দুই ক্রোশ পথ হেঁটে স্কুলে যেত।

১৯. মৃত্যুঞ্জয়ের বাগানটা কত বিঘার ছিল? উত্তর : মৃত্যুঞ্জয়ের বাগানটা কুড়ি-পঁচিশ বিঘার ছিল।

২০. বিলাসী কীভাবে আত্মহত্যা করে? উত্তর : বিলাসী বিষপানে আত্মহত্যা করে।

২১. কাকে অন্নপাপে দায়ী করা হয়েছে? উত্তর : মৃত্যুঞ্জয়কে অন্নপাপে দায়ী করা হয়েছে।

২২. ফুলদানিতে জল দিয়ে ভিজিয়ে রাখা বাসিফুলের মতো কে?
উত্তর : ফুলদানিতে জল দিয়ে ভিজিয়ে রাখা বাসিফুলের মতো বিলাসী।

২৩. ‘রোগা মানুষ সমস্ত রাত খেতে পাবে না’- কে সমস্ত রাত খেতে পাবে না?
উত্তর : ‘মৃত্যুঞ্জয় সমস্ত রাত খেতে পাবে না. 
২৪. সন্ন্যাসীগিরিতে ইস্তফা দিয়েছিল কে?
উত্তর : সন্ন্যাসীগিরিতে ইস্তফা দিয়েছিল ন্যাড়া।

২৫. গোর্খা সাপ ধরে পোষার শখ ছিল কার?
উত্তর : গোর্খরা সাপ ধরে পোষার শখ ছিল ন্যাড়ার।

২৬. ‘প্রত্নতাত্ত্বিক’ অর্থ কী?
উত্তর : ‘প্রত্নতাত্ত্বিক’ অর্থ পুরাতত্ত্ববিদ।

২৭. ‘অমার্জনীয়’ শব্দটির অর্থ কী?
উত্তর : ‘অমার্জনীয়’ শব্দটির অর্থ ক্ষমার অযোগ্য।

২৮. ‘বিলাসী’ গল্পের মৃত্যুঞ্জয় কোন ক্লাসে পড়? উত্তর : ‘বিলাসী’ গল্পের মৃত্যুঞ্জয় থার্ড ক্লাসে পড়ত।

২৯. মৃত্যুঞ্জয়ের কিসের বাগান ছিল?
উত্তর : মৃত্যু জয়ের আম-কাঁঠালের বাগান ছিল।

৩০. মৃত্যুঞ্জয় কয় মাস শয্যাগত ছিল?
উত্তর : মৃত্যুঞ্জয় দেড় মাস শয্যাগত ছিল ।

৩১. মৃত্যুঞ্জয় কোন বংশের ছেলে?
উত্তর মৃত্যুঞ্জর মিত্তির বংশের ছেলে।

৩২. মৃত্যুঞ্জয় কার বাড়িতে সাপ ধরতে গিয়েছিল?
উত্তর : মৃত্যুঞ্জয় গোয়ালার বাড়িতে সাপ ধরতে গিয়েছিল।

৩৩. সাপের দেবীর নাম কী? 
উত্তর সাপের নাম মনসা।

৩৪. সাপুড়েদের সবচেয়ে লাভের ব্যবসায় কোনটি? উত্তর : সাপুড়েদের সবচেয়ে লাভের ব্যবসায় শিকড় বিক্রি করা

বিলাসী গল্পের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর 

প্রশ্ন: ইহা আর একটি শক্তি বলতে কি বোঝানো হয়েছে?

উত্তর: ইহা আর একটি শক্তি’— কথাটি দ্বারা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার প্রকৃত ভালোবাসার প্রসঙ্গকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
স্বামী-স্ত্রী বহু বছর একত্রে বসবাস করলেও সত্যিকারের ভালোবাসার সন্ধান খুব কম যুগলই পায়। আলোচ্য গল্পে প্রসঙ্গক্রমে গল্পকথক তাঁর এক আত্মীয়ার উদাহরণ টেনেছেন। সেই নারী স্বামীর সাথে পঁচিশ বছর ঘর করেছে। অথচ স্বামীর মৃতদেহ আগলে পাঁচ মিনিটও একাকী থাকার সাহস তার নেই। এর কারণ প্রকৃত ভালোবাসার সম্পর্কের অনুপস্থিতি। স্বামীর মৃতদেহের কাছে থাকার জন্য প্রয়োজন ছিল ‘আর একটি শক্তি’ অর্থাৎ খাঁটি ভালোবাসা। প্রশ্নোক্ত উক্তিটির মধ্য দিয়ে এ বিষয়টিই ইঙ্গিতময় হয়ে উঠেছে।
প্রশ্ন: ‘বাস্তবিক যমরাজ চেষ্টার ত্রুটি কিছু করেন নাই।’ উক্তিটির ব্যাখ্যা দাও ।
উত্তর : মৃত্যুর দুয়ার থেকে মৃত্যুঞ্জয়ের ফিরে আসা বোঝাতে উল্লিখিত উক্তিটি করা হয়েছে।
‘বিলাসী” গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র পিতৃ-মাতৃহীন মৃত্যুঞ্জয় একসময় কঠিন অসুখে পড়ে। অনেকদিন পর্যন্ত শয্যাগত থেকে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। এমতাবস্থায় মৃত্যুঞ্জয়ের খুড়া এগিয়ে না এলেও মালোপাড়ার এক বুড়ো মালো তার চিকিৎসা করে এবং তার মেয়ে বিলাসী সেবা করে মৃত্যুঞ্জয়কে যমের মুখ থেকে ফিরিয়ে আনে। যমরাজের হাত থেকে সেই যাত্রায় বেঁচে যায় মৃত্যুঞ্জয়, কিন্তু যমরাজ যে চেষ্টার কোনো ত্রুটি করেননি তার প্রমাণ মৃত্যুঞ্জয়কে দেখলেই বোঝা যায়। ন্যাড়া মৃত্যুঞ্জয়কে দেখতে এসে তার কঙ্কালসার শরীর দেখেই বুঝেছে যমরাজ বাস্তবিকই তাঁর চেষ্টার কোনো ত্রুটি করেননি ।
প্রশ্ন: ‘অ্যা এ হইল কী? কলি কি সত্যই উল্টাইতে বসিল? – ব্যাখ্যা কর ।

উত্তর : কায়স্থের ছেলে মৃত্যুঞ্জয় সাপুড়ের মেয়েকে বিয়ে করলে এবং তার হাতে ভাত খেলে ছেলে-বুড়ো সবাই উল্লিখিত উক্তিটি করে।
মৃত্যুঞ্জয় অসুস্থ হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়লেও প্রতিবেশীরা তো দূরের কথা, মৃত্যুঞ্জয়ের জ্ঞাতি খুড়াও কোনো খোঁজখবর নেননি। মালোপাড়ার সাপুড়েকন্যা বিলাসী মৃত্যুঞ্জয়কে সেবা দিয়ে সুস্থ করে তোলে । মৃত্যুঞ্জয় প্রেমের প্রতিদানে বিলাসীকে বিয়ে করে। এর পর থেকে সমাজে এ নিয়ে কথা শুরু হয়। নিচু জাতের মেয়ে বিলাসীকে বিয়ে করাকে তারা অন্যায় মনে করে। ফলে হিন্দু পুরাণমতে কলি যুগে যে অন্যায়, অসত্য ও অধর্মের বাড়াবাড়ি ঘটবে, এর প্রমাণ সম্মুখে দেখে ছেলে-বুড়ো সবার মুখেই এক কথা— ‘অ্যা এ হইল কী? কলি কি সত্যই উল্টাইতে বসিল?
প্রশ্ন: “ভয় পাইবার আর সময় পাইলাম না।”- উক্তিটির প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা কর ।

উত্তর : বাল্যবন্ধু মৃত্যুঞ্জয়কে দেখা শেষে বাড়ি ফেরার পথে ‘বিলাসী’ গল্পের কথক ন্যাড়া উদ্ধৃত উক্তিটি করেছে।
মৃত্যুঞ্জয় একবার কঠিন রোগে আক্রান্ত হলে একদিন সন্ধ্যার অন্ধকারে ন্যাড়া মৃত্যুঞ্জয়কে দেখতে পোড়োবাড়িতে যায়। আম বাগানের মধ্য দিয়ে অন্ধকার রাতে ফেরার পথে কিছুটা হলেও ভয় পাচ্ছিল। কিন্তু বিলাসীর সাহসের কথা মনে পড়তেই তার ভয় দূর হয়ে গেল । কেবল ভাবতে থাকল, একটি মৃতপ্ৰায় রোগী নিয়ে এমন স্থানে একা একটা মেয়ের রাত পাড়ি দেওয়া কত কঠিন কাজ! মৃত্যুঞ্জয় তো যেকোনো মুহূর্তে মারা যেতে পারত। তখন নিশ্চয়ই মেয়েটিকে মৃতদেহের পাশে বসে একাকীই রাত কাটাতে হতো। এর পরিপ্রেক্ষিতে ন্যাড়া বিলাসীর সাহসের উৎস হিসেবে আবিষ্কার করল মৃত্যুঞ্জয়ের প্রতি তার সীমাহীন ভালোবাসা। সেই ভালোবাসার জোরেই সে ভয়কে জয় করতে পেরেছে। তাই নিজের ওপর বিরক্ত হয়ে সে উক্তিটি করে।
প্রশ্ন: ‘বাঙালির বিষ’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে? 

উত্তর : ‘বাঙালির বিষ’ বলতে বাঙালির ক্ষণস্থায়ী কোধ বা বিদ্বেষকে বোঝানো হয়েছে।
বাঙালির রাগ আছে, হিংসা-বিদ্বেষ আছে। কিন্তু তা কখনো দিনের পর দিন বা দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে না। মনের মধ্যে প্রতিশোধ না নেওয়া পর্যন্ত তা পুষে রাখে না। রাগ বা হিংসার বশে কারও কোনো ক্ষতি বা খুনখারাবিও করে না। বাকবিতণ্ডা বা অকথ্য গালাগালের মধ্যেই তা সীমাবদ্ধ এবং ক্ষণস্থায়ী সাপের বিষ যেমন অব্যর্থভাবে কার্যকর অর্থাৎ কামড় দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা মৃত্যুর ঘণ্টা বাজিয়ে দেয়, বাঙালির কথার বিষ এমন অব্যর্থভাবে কার্যকর নয়।
প্রশ্ন: কোথায় আমার মধ্যে একটুখানি দুর্বলতা ছিল’ ব্যাখ্যা কর?

উত্তর : বিলাসী ও মৃত্যুঞ্জয়ের প্রতি ন্যাড়ার একটু দুর্বলতা ছিল প্রশ্নোক্ত উক্তিটির মধ্য দিয়ে এ কথাই বোঝানো হয়েছে
মৃত্যুঞ্জয় বিলাসীকে বিয়ে করলে মৃত্যুঞ্জয়ের খুড়া অন্নপাপের শাস্তি দিতে গ্রামের লোকদের নিয়ে তার বাসায় হাজির হন। গল্পকথক ন্যাড়াও তাদের সঙ্গে ছিল। খুড়ার নির্দেশে তারা বিলাসীকে টেনেহিচড়ে গ্রামের বাইরে নিয়ে যেতে থাকে। নানাভাবে তারা বিলাসীকে অত্যাচার করতে থাকলেও ন্যাড়া বিলাসীর গায়ে হাত দিতে পারেনি। বরং বিলাসীকে অত্যাচারিত হতে দেখে তার কান্না পায়। কারণ মনে মনে সে তাদের প্রতি ছিল দুর্বল ।
প্রশ্ন: সে তাহার নামজাদা শ্বশুরের শিষ্য- কার কথা বলা হয়েছে?

উত্তর : সে তাহার নামজাদা শ্বশুরের শিষ্য- এখানে মৃত্যুঞ্জয়ের কথা বলা হয়েছে।
ছল গোখরা গল্পকথক ন্যাড়ার ছেলেবেলা থেকেই শখ ছিল গোখরা সাপ ধরে পোষা আর মন্ত্র-সিদ্ধ হওয়া। তার বন্ধু মৃত্যুঞ্জয় সাপুড়েকন্যা বিলাসীকে বিয়ে করে সাপুড়ে পেশা গ্রহণ করেছে। তার শ্বশুর অর্থাৎ বিলাসীর পিতা একজন সাপুড়ে সর্দার। মৃত্যুঞ্জয় তারই শিষ্য। তাই ন্যাড়া মৃত্যুঞ্জয়কে ওস্তাদ হিসেবে পেতে চায়। তাই সে আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে ভাবে মৃত্যুঞ্জয় তার নামকরা শ্বশুরের শিষ্য। সে একজন মস্ত বড় মানুষ

বিলাসী গল্পের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর 

প্রশ্ন : কোন কাজ বিলাসী ভয়ানক আপত্তি করত? ব্যাখ্যা কর। 

উত্তর : লোক ঠকানো ব্যবসায়কে বিলাসী ভয়ানক আপত্তি করত।
সাপুড়েদের সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসায় হলো শিকড় বিক্রয় করা। কিন্তু বিলাসী জানে এগুলোতে কোনো কাজ হয় না। এ জন্য সাপুড়রো মিথ্যাচার করে। তারা লোহার শিক পূর্বে পুড়িয়ে সাপকে বার কয়েক ছ্যাঁকা দেয়। পরে তার সামনে শিকড় তুলে ধরলে সাপ মনে করে এটা সেই লোহার শিক তখন সে পালাতে চায়। তাই বিলাসী চায় না মৃত্যুঞ্জয় ও ন্যাড়া এ লোক ঠকানোর কাজ করে অর্থ উপার্জন করুক।
প্রশ্ন: আমার মন্ত্র পড়ার আর বিরাম নাই- ব্যাখ্যা কর। 

উত্তর : মৃত্যুঞ্জয়কে সাপে কামড়ালে ন্যাড়া অবিরাম মন্ত্র পড়তে থাকে- উক্তিটির মধ্য দিয়ে এ কথাই প্রকাশ পেয়েছে।
সাপ ধরতে গিয়ে মৃত্যুঞ্জয়কে সাপে দংশন করে। তখন বিলাসী ও ন্যাড়া যে যার মতো মৃত্যুঞ্জয়ের চিকিৎসা করতে লাগল। ন্যাড়া বারবার বিষহরির আজ্ঞা মন্ত্রটা পড়তে থাকে। সে একমুহূর্তের জন্য মন্ত্র পড়া থামায় না। সে বুঝতে পারছিল এতে বিশেষ কোনো কাজ হচ্ছিল না তবুও তার মন্ত্র পড়ায় বিরাম ছিল।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button