সৃজনশীল

বিদ্রোহী কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর ২০২২

বিদ্রোহী কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর: কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘অগ্নিবীণা’ কাব্যগ্রন্থ থেকে ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি সংকলন করা হয়েছে। ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে বিদ্রোহী কবিতাটি রচনা করা হয়। সাপ্তাহিক বিজলী পত্রিকায় বিদ্রোহী কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয়। বিদ্রোহী কবিতাটি প্রকাশের পর কাজী নজরুল ইসলামের কবি খ্যাতি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। বিদ্রোহী কবিতার শব্দার্থ ও বিদ্রোহী কবিতার জ্ঞানমূলক প্রশ্ন পড়ার পরে বিদ্রোহী কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর জানা জরুরী। 
বিদ্রোহী কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর ২০২২

ইতিমধ্যে যদি বিদ্রোহী কবিতার ব্যাখ্যা পড়ে থাকেন তাহলে বিদ্রোহী কবিতার মূলভাব বুঝতে পেরেছেন। যদি বিদ্রোহী কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর খুজে থাকেন তাহলে আজকের আর্টিকেলটি আপনার জন্য সহায়ক হবে। বিদ্রোহী কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর জানার পাশাপাশি আপনি আমাদের ব্লগে জানতে পারবেন বিদ্রোহী কবিতার শব্দার্থ ও জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর। 

বিদ্রোহী কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

সৃজনশীল প্রশ্ন নম্বর ০১

চট্টগ্রামের ন্যাশনাল স্কুলের গণিতের শিক্ষক সূর্যসেনের মুক্ত ও স্বাধীন ভারত ছিল একমাত্র আকাঙ্ক্ষা। তাইতো আমরা দেখতে পাই ব্রিটিশদের এদেশ থেকে তাড়াবার জন্য মাস্টারদা প্রাণের বিনিময়ে একটি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ বিপ্লবী বাহিনী গড়ে তুলেছিলেন। উপমহাদেশের স্বাধীনতার প্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্যে দিয়ে স্বাধীনতার ঘোষণা উচ্চারিত হয়েছিল সর্বাধিনায়ক সূর্যসেনের কণ্ঠ থেকে। চট্টগ্রামকে তিনদিন স্বাধীন রেখেছিলেন তিনি

ক. বিদ্রোহী কবিতা কত সালে প্রকাশিত হয়?
খ. কবি নিজেকে বেদুইন বলেছেন কেন?
গ. উদ্দীপকের সঙ্গে কোন দিক থেকে ‘বিদ্রোহী’ কবিতার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকটি ‘বিদ্রোহী’ কবিতার সমগ্রভাবের ধারক হতে পেরেছে কি? তোমার মতামত দাও।

 সৃজনশীল প্রশ্ন নম্বর ০১ এর উত্তর সমূহ

ক উত্তর:  বিদ্রোহী কবিতাটি ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়।

খ উত্তর:  অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে নিরন্তর সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার মানসিক দৃঢ়তার দিকটি তুলে ধরতেই কবি নিজেকে বেদুইন বলে আখ্যায়িত করেছেন ।
বেদুইন হলো আরবের যাযাবর জাতি। এদের স্থায়ী কোনো আবাস নেই। কঠিন মরুভূমির বুকে এরা প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করে টিকে থাকে। মরুভূমির বিরূপ পরিবেশ বা শত প্রতিকূলতা তাদের দমন করতে পারে না। আলোচ্য অংশে কবি হতোদ্যম না হয়ে বেদুইনদের জীবনযুদ্ধের সাথে নিজের তুলনা করে অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে নিজের দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেছেন।
গ উত্তর: অপশক্তির বিরুদ্ধে আপসহীন মনোভাবের দিক থেকে উদ্দীপকের সঙ্গে ‘বিদ্রোহী’ কবিতার সাদৃশ্য রয়েছে।
‘বিদ্রোহী’ কবিতায় কবি বিদ্রোহের স্বরূপ উন্মোচনে প্রয়াসী হয়েছেন। পরাধীন ভারতবর্ষে ব্রিটিশ বেনিয়া শোষক গোষ্ঠী এবং তাদের এদেশীয় দোসরদের শোষণ-নির্যাতনে সামাজিক বৈষম্য প্রকট আকার ধারণ করে। ঔপনিবেশিক শাসনের জাঁতাকলে নিষ্পেষিত মানুষের আর্তনাদ ব্যথিত করে কবিচিত্তকে। ফলে কবি এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। তিনি আপসহীনভাবে এদেশ থেকে অন্যায় অবিচার দূর করার দৃঢ় সংকল্প প্রকাশ করেন।
উদ্দীপকের সূর্যসেনের কর্মকাণ্ড অন্যায়ের বিরুদ্ধে দ্রোহের বহিঃপ্রকাশ তিনি ব্রিটিশ বেনিয়ামুক্ত স্বাধীন ভারত চেয়েছেন। ব্রিটিশদের অন্যায় অত্যাচারে ভারতবর্ষের মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠলে সূর্যসেন দেশ থেকে তাদের বিতাড়নের জন্য বিপ্লবী বাহিনী গড়ে তোলেন। তিনি ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে উপমহাদেশের স্বাধীনতার প্রথম পতাকা উত্তোলন করেন। অসীম সাহস এবং আপসহীন মনোভাব নিয়ে তিনি ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ-সংগ্রাম চালিয়ে যান। বিরুদ্ধ শক্তির কাছে মাথা নত না করার এই দৃঢ়তা উদ্দীপকের সঙ্গে কবিতাকে সাদৃশ্যপূর্ণ করে তুলেছে।
ঘ উত্তর: দ্রোহচেতনা ও আপসহীনতার মনোভাব ব্যতীত অন্যান্য দিক অনুপস্থিত থাকায় উদ্দীপকটি ‘বিদ্রোহী’ কবিতার সমগ্রভাবের ধারক হতে পারেনি।
‘বিদ্রোহী’ কবিতায় কবির দ্রোহচেতনার পাশাপাশি অর্ফিয়াসের বাঁশির সুরে মানুষকে বিমোহিত করার প্রসঙ্গও ফুটে উঠেছে। তাছাড়া কবিতায় মানবপ্রেম ও সাম্যচেতনাও প্রকাশ পেয়েছে। কবির মধ্যে দ্রোহ ও প্রেম দুই-ই উপস্থিত রয়েছে। সেজন্যই তিনি এক হাতে বাঁশের বাঁশরি আর অন্য হাতে রণতূর্য থাকার কথা বলেছেন। সর্বোপরি পুরাণে উল্লিখিত বিভিন্ন চরিত্রের মাধ্যমে কবি নিজের বিদ্রোহী রূপ প্রকাশ করেছেন আলোচ্য কবিতায়।
উদ্দীপকে বিপ্লবী সূর্যসেনের প্রতিবাদী চেতনার কথা তুলে ধরা হয়েছে। সূর্যসেন ব্রিটিশ বেনিয়াদের অত্যাচার-নির্যাতনের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেছেন। তিনি স্বাধীন ভারতবর্ষের প্রত্যাশায় বিপ্লবী বাহিনী গড়ে তুলেছেন। ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে সূর্যসেনের এই বিদ্রোহী চেতনা তাঁকে করে তুলেছে স্বাধীন ভারতবর্ষের সূর্যসন্তান ।
‘বিদ্রোহী’ কবিতায় কবির প্রেম ও দ্রোহচেতনার প্রকাশ ঘটেছে। কিন্তু উদ্দীপকে কেবল সূর্যসেনের দ্রোহচেতনাই বিদ্যমান । কবিতায় অপশক্তির বিরুদ্ধে কবির বিদ্রোহী চেতনার স্বরূপ, ঐতিহ্যচেতনা, ধ্বংসাত্মক রূপ, সৃষ্টির লক্ষ্যে ধ্বংসলীলাসহ নানাবিধ বিষয় স্থান পেয়েছে। এছাড়াও কবির অন্তহীন সংগ্রামী চেতনার মাধ্যমে কবিতার সমাপ্তি টানা হয়েছে। আর উদ্দীপকে বিদ্রোহী চেতনার বাইরে এসব বিষয়গুলো অনুপস্থিত । ফলে উদ্দীপকটি ‘বিদ্রোহী’ কবিতার সমগ্রভাবের ধারক হতে পারেনি।

সৃজনশীল প্রশ্ন নম্বর ২

“আমি যুগে যুগে আসি, আসিয়াছি পুনঃ মহাবিপ্লব হেতু 

এই স্রষ্টার শনি মহাকাল ধূমকেতু! 
সাত-সাতশ নরক-জ্বালা জ্বলে মম ললাটে। 
মম ধূম-কুণ্ডলী করেছে শিবের ত্রিনয়ন ঘন ঘোলাটে। 
আমি স্রষ্টার বুকে সৃষ্টি পাপের অনুতাপ-তাপ হাহাকার 
আর মর্ত্যে শাহারা-গোবী-ছাপ 
আমি অশিব তিক্ত অভিশাপ।”
ক. বিদ্রোহী কবিতাটি কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
খ. ‘যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দন-রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না’— একথা বলার কারণ কী?
গ. উদ্দীপকের সাথে ‘বিদ্রোহী’ কবিতার সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “উদ্দীপকটি বিদ্রোহী’ কবিতার সমগ্রভাব ধারণ করে না” মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার করো।

সৃজনশীল প্রশ্ন নম্বর ২ এর উত্তর সমূহ

ক উত্তর: সাপ্তাহিক বিজলী পত্রিকায় বিদ্রোহী কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।

খ উত্তর: নির্যাতিত ও নিপীড়িত মানুষের দুঃখকষ্ট ও আর্তচিৎকার বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত কবি বিপ্লব-প্রতিবাদ চালিয়ে যাবেন বোঝাতে তিনি প্রশ্নোক্ত কথা বলেছেন।
অসাম্য ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে কবির বিদ্রোহ নিরন্তর। যেখানেই তিনি অত্যাচার ও অনাচার দেখেছেন, সেখানেই বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। নিপীড়কের বিরুদ্ধে এবং আর্ত-মানবতার পক্ষে প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছেন তিনি। তাঁর হুংকারে কেঁপে উঠেছে অত্যাচারীর ক্ষমতার মসনদ । অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করতে করতে ক্লান্ত হয়ে গেলেও উৎপীড়িত মানুষের পক্ষে বিপ্লব-প্রতিবাদ অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি। এ বিষয়টিকে স্পষ্ট করতেই তিনি প্রশ্নোক্ত চরণটির অবতারণা করেছেন।
গ উত্তর: উদ্দীপকের সাথে ‘বিদ্রোহী’ কবিতার সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি হচ্ছে বিদ্রোহ চেতনা ।
‘বিদ্রোহী’ কবিতায় নানা ব্যঞ্জনায় কবির বিদ্রোহের স্বরূপ ফুটে উঠেছে। যেখানেই অন্যায়-অত্যাচার দেখেছেন, সেখানেই তিনি বিদ্রোহের অগ্নিমন্ত্রে ফুঁসে উঠেছেন। বিশেষ করে পরাধীন মাতৃভূমিতে বিজাতীয় শাসকদের আগ্রাসন ও শোষণ-নির্যাতন তাঁকে পীড়িত করেছে। সংগত কারণেই এই অপশক্তির বিরুদ্ধে দ্রোহ ঘোষণা করেছেন তিনি। বস্তুত, মানুষ হয়ে মানুষের ওপর প্রভুত্ব ফলানো সামন্ত প্রভুদের ধ্বংসের মধ্যেই তিনি মুক্তির নতুন আলো দেখতে পেয়েছেন।
উদ্দীপকের কবিতাংশে বিপ্লবী মানসের বারংবার ফিরে আসার কথা বলা হয়েছে। কালের খেয়ালে ব্যক্তি মানুষের মৃত্যু হলেও বিপ্লবী চেতনার মৃত্যু নেই। সময় পরিক্রমায় তা একজন থেকে অন্যজনে সঞ্চারিত হয়। ফলে বিপ্লবীর বজ্রকঠোর আহ্বানে পরিবেশ ঘোলাটে হয়ে আসে। শিব বা মহাদেবের ত্রিনয়নও তখন অন্ধকারে ঢেকে যায়। প্রভুত্ব ফলানো নরপিশাচদের জীবন অভিশপ্ত হয়ে ওঠে বিপ্লবীদের প্রত্যাঘাতে। তথাকথিত সামন্ত প্রভুদের কাছে তারা যেন মূর্তিমান অভিশাপে পরিণত হয়। 
বিপ্লব-বিদ্রোহের এই বিধ্বংসী রূপটি আলোচ্য কবিতায়ও একইভাবে ফুটে উঠেছে। সেখানে বীর ধর্মের অনুসারী কবি সামন্ত প্রভুদের তৈরি সকল নিয়ম ও শৃঙ্খল ভেঙে ফেলতে প্রয়াসী হয়েছেন । অর্থাৎ উদ্দীপক ও ‘বিদ্রোহী’ কবিতা উভয় ক্ষেত্রেই বিদ্রোহী চেতনার বহিঃপ্রকাশ লক্ষ করা যায়। এটিই উদ্দীপকের সঙ্গে আলোচ্য কবিতার সাদৃশ্যপূর্ণ দিক ।
ঘ উত্তর: উদ্দীপকের কবিতাংশে কেবল বিদ্রোহী চেতনার দিকটি ফুটে ওঠায় তো ‘বিদ্রোহী’ কবিতার সমগ্রভাবকে ধারণ করতে পারেনি।
আলোচ্য কবিতাটি কবির বিদ্রোহী চেতনার এক অনন্য প্রকাশ। বিদ্রোহের স্বরূপ উদ্ঘাটনে কবিতাটি অনন্য মাইলফলকও বটে। তবে এ কবিতায় শুধু দ্রোহ চেতনাই নয়, সেখানে বিদ্রোহী হিসেবে কবির আত্মপরিচয়, প্রেম ও দ্রোহের স্বরূপসহ বিচিত্র বিষয় উপস্থাপিত হয়েছে। এছাড়াও কবিতাটিতে আর্ত-মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে কবি প্রত্যয়
ব্যক্ত করেছেন।
উদ্দীপকের কবিতাংশে বিদ্রোহী চেতনার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। অন্যায় ও অসাম্য ঘোচাতে সেখানে বিপ্লবী সত্তার পুনরুত্থানের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। এই বিদ্রোহী সত্তা অকুতোভয় ও মানবকল্যাণে নিবেদিত। শত প্রতিবন্ধকতাও তার পথ রুদ্ধ করতে পারে না। অন্যায়ের প্রতিভূদের জন্য সাক্ষাৎ অভিশাপ হিসেবে আবির্ভূত হয় সে। আলোচ্য ‘বিদ্রোহী’ কবিতায়ও কবি তাঁর বিদ্রোহী সত্তার এমন বৈশিষ্ট্যের কথাই তুলে ধরেছেন। যেখানে পরাধীন জন্মভূমিতে ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ধ্বনিত হয়েছে।
‘বিদ্রোহী’ কবিতায় কবি দ্রোহ করেছেন সমাজে বিরাজমান অপশাসন ও অচলায়তনের বিরুদ্ধে। তাঁর বিশ্বাস, এই অচলায়তন ভেঙেই একদিন দেখা মিলবে মুক্তিপথের। একইভাবে, উদ্দীপকের কবিতাংশেও কবি মহাবিপ্লবের কথা বলেছেন। অর্থাৎ উভয়স্থানে বজ্রনির্ঘোষ বিপ্লবের কথা প্রকাশিত হলেও কবিতাটির ব্যাপ্তি উদ্দীপকের কবিতাংশের তুলনায় ব্যাপক। তাছাড়া এ কবিতায় মানবতাবোধে উদ্ভাসিত কবির সদম্ভ উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। মুহূর্তের জন্যও তিনি অপশক্তির কাছে মাথা নিচু করতে রাজি নন। সর্বোপরি কবির বিপ্লব-প্রতিবাদের পেছনে রয়েছে মানুষের প্রতি তাঁর অপরিসীম ভালোবাসা। আলোচ্য কবিতার এ সকল বিষয় উদ্দীপকের কবিতাংশে উঠে আসেনি। সে বিবেচনায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

বিদ্রোহী কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন নম্বর ০৩

(i) শ্বেত শত বাসিনী ন রক্তাম্বরধারিণী মা,
ধ্বংসের বুকে মাসুক মা তোর
সৃষ্টির নব পূর্ণিমা।
(ii) এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।
ক. ভীম’ শব্দের অর্থ কী?
খ. কবি নিজেকে মহাভয় বলে অভিহিত করেছেন কেন?
গ. উদ্দীপক (i)-এর সাথে ‘বিদ্রোহী’ কবিতার সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “উদ্দীপক (ii)-এর বক্তব্য যেন ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় কবির মনোভাবের সমদর্শী”- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করে।

সৃজনশীল প্রশ্ন নম্বর ০৩ এর উত্তর সমূহ

ক উত্তর: ‘ভীম’ শব্দের অর্থ ভীষণ বা ভয়ানক ।

খ উত্তর: অন্যায় অবিচার নিয়ে অপশক্তির মনে ভীতি সঞ্চারের উদ্দেশ্যেই কৰি নিজেকে ‘মহাভয়’ বলে অভিহিত করেছেন
পরাধীন ভারতবর্ষে সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত শোষিত, বঞ্চিত ও অত্যাচারিত হতে দেখেছেন কবি। এভাবে মানুষকে নিপীড়িত হতে দেখে সংক্ষুব্ধ হয়ে কবি বিদ্রোহের পথ বেছে নেন। এরই ধারাবাহিকতায় অন্যায় ও অসাম্য ঘোচাতে অত্যাচারীর মনে তিনি ভীতির সঞ্চার করতে। চান। এ লক্ষ্যে সকল অপশক্তির মনে ভয় হিসেবে আবির্ভূত হতে চান তিনি। এ জন্যই কবি নিজেকে মহাভয়’ বলে অভিহিত করেছেন
গ উত্তর: উদ্দীপকে ধ্বংসের মধ্য দিয়ে নতুন পৃথিবী সৃষ্টির বিষয়টি উঠে এসেছে, যা ‘বিদ্রোহী’ কবিতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
“বিদ্রোহী’ কবিতায় কবির মুখে নিরন্তর বিদ্রোহের বাণী উচ্চারিত হয়েছে। কিন্তু তিনি যে কেবল বিদ্রোহই করে যাবেন তা নয়। তাঁর দ্রোহের মূল কারণ সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠা। তিনি যে বারংবার তাঁর ধ্বংসকামী মনের পরিচয় দিয়েছেন; তার কারণ শোষণ-বর্ণনাহীন সাম্যবাদী সমাজ প্রতিষ্ঠা। তিনি মনে করেন, বিদ্রোহ অর্থাৎ ধ্বংসের মধ্য দিয়েই নতুন
সমাজ গড়ে উঠবে।
(i) নং উদ্দীপকের কবিতাংশে দেবীর বিধ্বংসী রূপের ভজনা করা হয়েছে মহৎ উদ্দেশ্যেই। মায়ের শ্বেতশুভ্র রূপ যতই আকর্ষণীয় হোক না কেন, যুগের প্রয়োজনে তাঁর রক্তমাখা রূপই নজরুলের কাম্য। যুগের দাবি মেটাতেই তাঁকে পরতে হবে রক্তাম্বর। কবি মনে করেন, অত্যাচারীকে ধ্বংস করে ন্যায়পরায়ণ পৃথিবী প্রতিষ্ঠিত হবে দেবীর হাতে। আলোচ্য ‘বিদ্রোহী’ কবিতায়ও কবি এ বিষয়ে আলোকপাত করেছেন। কবি সেখানে অত্যাচারী ব্রিটিশ রাজশক্তিসহ সকল অপশক্তির ধ্বংস কামনা করেছেন। পাশাপাশি তিনি স্বপ্ন দেখেছেন শোষণ-বঞ্চনাহীন এক নতুন পৃথিবীর । সকল অশুভকে মুছে দিয়ে সেই নতুন দিনের প্রত্যাশাতেই তাঁর নিরন্তর সংগ্রাম-বিদ্রোহ। সে বিবেচনায় উদ্দীপকটিতে আলোচ্য কবিতায় উঠে আসা ধ্বংসের মধ্য দিয়ে নতুন দিনের সূচনার দিকটিই ফুটে উঠেছে।

বিদ্রোহী কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর 

ঘ উত্তর:  (ii) নং উদ্দীপকে দেশকে স্বাধীন করতে বঙ্গবন্ধুর অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করার আপসহীন মানসিকতা প্রকাশ পেয়েছে, যা ‘বিদ্রোহী’ কবিতার কবির মনোভাবের সমদর্শী।
‘বিদ্রোহী’ কবিতায় আত্মজাগরণে উন্মুখ কবির সদম্ভ বিদ্রোহী সত্তার আত্মপ্রকাশ ঘোষিত হয়েছে। আলোচ্য কবিতায় কবি বিদ্রোহকে একটি আদর্শিক রূপ দান করেছেন। তাঁর মতে, অপশক্তি যতোই শক্তিশালী হোক না কেন একজন বিদ্রোহীকে মাথা নত না করার মানসিকতা থাকতে হবে। এমনটি হলে বাধা যতো বড়োই হোক না কেন তা খুব সহজেই অতিক্রম করা যাবে।
(ii) নং উদ্দীপকে দেখা যায়, বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার জন্য সংগ্রামের ডাক দিয়েছেন। তিনি দেশের মানুষের মুক্তির জন্য, তাদের স্বাধীনতার জন্য শৈরাচারী শাসকের বিরুদ্ধে বিপ্লবের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি যে আদর্শকে লালন করেন তার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে তাঁর এই ঘোষণায়। তাঁর দ্রোহ নিপীড়ক অপশক্তির বিরুদ্ধে। অর্থাৎ নৈতিক আদর্শবোধের ক্ষেত্রে তিনি আপসহীন। তাঁর দৃঢ় ব্যক্তিত্বের পরিচয় এখানে ফুটে উঠেছে। যেমনটি আমরা দেখতে পাই আলোচ্য কবিতার কবির চেতনায়।
‘বিদ্রোহী’ কবিতায় কবি সকল অনিয়মের বিরুদ্ধে আপসহীন মনোভাব ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় কবি সকল অনিয়মের বিরুদ্ধে আপসহীন মনোভাব ব্যক্ত করেছেন । কবির এই দুর্দমনীয় ও বিধ্বংসী বিদ্রোহী কবিসত্তার মূল প্রেরণা কবির মানবতাবোধ। মানবপ্রেমের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়েই তিনি বিদ্রোহ করেছেন অনাচার ও অসাম্যের বিরুদ্ধে। এক্ষেত্রে তিনি আপসহীন মনোভাব পোষণ করেন। একইভাবে, উদ্দীপক (ii)-এর বঙ্গবন্ধুর ঘোষণায় ফুটে উঠেছে সাধরণ মানুষকে অত্যাচারীর কবল থেকে রক্ষার নির্দেশনা। অর্থাৎ ‘বিদ্রোহী’ কবিতার কবি এবং উদ্দীপক (ii)-এর বঙ্গবন্ধু আদর্শবোধের চেতনায় আপসহীন ও বিধ্বংসী। ফলাফল যাই হোক তাঁরা কোনোমতেই অপশক্তির কাছে মাথা নত করবেন না। এদিক বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযথ।

সৃজনশীল প্রশ্ন নম্বর ০৪

“মুক্তি আলোকে ঝলমল করে আঁধারের যবনিকা দু’শ বছরের নিঠুর শাসনে গড়া যে পাষাণবেদি নতুন প্রাণের অঙ্কুর জাগে তারই অন্তর ভেদী। নব ইতিহাস রচিব আমরা মুছি কলঙ্ক লেখা।”

ক. ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে? 
খ. কবি নিজেকে ‘অনিয়ম উচ্ছৃঙ্খল’ বলেছেন কেন?
গ. উদ্দীপকে ‘বিদ্রোহী’ কবিতার যে বিষয়টি ফুটে উঠেছে, তা ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকের কবিতাংশটি ‘বিদ্রোহী’ কবিতার মূলভাবকে কতটুকু প্রতিফলিত করতে পেরেছে? যৌক্তিক বিশ্লেষণ করো।

সৃজনশীল প্রশ্ন নম্বর ০৪ এর উত্তর সমূহ

ক উত্তর: ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি ‘অগ্নিবীণা’ কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে।

খ উত্তর: নিয়ম-শৃঙ্খলার বেড়াজালে আবদ্ধ থেকে অন্যায়, অত্যাচার ও অবিচারের বিরুদ্ধে লড়াই করা সম্ভব নয় বলে কবি নিজেকে ‘অনিয়ম উচ্ছৃঙ্খল’ অভিহিত করে শৃঙ্খল ভাঙার বার্তা দিয়েছেন।পরাধীন ভারতবর্ষে ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণের জাঁতাকলে মানুষকে নিষ্পেষিত হতে দেখে কবির হৃদয় ক্ষতবিক্ষত হয়েছে। তিনি দেখেছেন, অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গেলেই আইন ও বাধ্যবাধকতার বেড়াজালে মানুষকে নাকাল হতে হয়। সংগত কারণেই তিনি আইনের এই বেড়াজাল ভেঙে বেরিয়ে আসতে চেয়েছেন। শুধু তাই নয়, এ লক্ষ্য সামনে রেখেই তিনি অনিয়ম দিয়ে প্রচলিত নিয়মকে এবং উচ্ছৃঙ্খলতা দিয়ে শৃঙ্খলিত ও প্রথাবদ্ধ জীবনব্যবস্থাকে ভাঙতে চেয়েছেন । এজন্যই কবি নিজেকে ‘অনিয়ম উচ্ছৃঙ্খল’ বলে অভিহিত করেছেন।
গ উত্তর: উদ্দীপকে ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় উঠে আসা ধ্বংসের মধ্য দিয়ে নতুনের সূচনার বিষয়টি ফুটে উঠেছে।
“বিদ্রোহী’ কবিতায় নিরন্তর বিদ্রোহের বাণী উচ্চারিত হলেও তা লক্ষ্যহীন নয়। কবি জন্মজন্মান্তরে শুধু বিদ্রোহই করে যাবেন, বিষয়টি এমন নয়; বরং তাঁর ঈন্সিত শোষণ ও বঞ্চনাহীন সমাজ বিনির্মাণের মধ্য দিয়ে এ বিদ্রোহেরও অবসান ঘটবে। এছাড়াও তিনি বিদ্রোহ করতে গিয়ে বারবার ধ্বংসকামী মনোভাবের পরিচয় দিয়েছেন, নিজেকে নানা বিধ্বংসী রূপে কল্পনা করেছেন । তবে তাঁর এই বিধ্বংসী রূপ সাম্যবাদী সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই চালিত।
উদ্দীপকের কবিতাংশে ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ শাসন-শোষণের অবসান কামনা করা হয়েছে। কবি মনে করেন, সেদিন হয়তো খুব দূরে নয়, যখন এ অন্ধকার যুগের পরিসমাপ্তির মধ্য দিয়ে আলো ঝলমলে নতুন দিনের সূচনা হবে। জাতীয় জীবনের কলঙ্করেখা মুছে গিয়ে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হবে সেদিন, সূচনা হবে সোনালি ভবিষ্যতের। 
আলোচ্য ‘বিদ্রোহী’ কবিতায়ও কবি এ বিষয়ে আলোকপাত করেছেন। কবি সেখানে অত্যাচারী ব্রিটিশ রাজশক্তিসহ সকল অপশক্তির ধ্বংস কামনা করেছেন। পাশাপাশি তিনি স্বপ্ন দেখেছেন শোষণ-বঞ্চনাহীন এক নতুন পৃথিবীর। সকল অশুভকে মুছে দিয়ে সেই নতুন দিনের প্রত্যাশাতেই তাঁর নিরন্তর সংগ্রাম বিদ্রোহ। সে বিবেচনায় উদ্দীপকটিতে আলোচ্য কবিতায় উঠে আসা ধ্বংসের মধ্য দিয়ে নতুন দিনের সূচনার দিকটিই ফুটে উঠেছে।
ঘ উত্তর: উদ্দীপকের কবিতাংশটি ‘বিদ্রোহী’ কবিতার মূলভাবকে আংশিক প্রতিফলিত করতে পেরেছে।
“বিদ্রোহী’ কবিতায় অন্যায় ও অসাম্যের বিরুদ্ধে কবির দ্রোহের স্বরূপ ফুটে উঠেছে। এ কবিতায় পরাধীন ভারতবর্ষের সমস্যাসংকুল আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবেশে বিপর্যস্ত জাতির মুখপাত্র হিসেবে কবি নিজেকে উপস্থাপন করেছেন। মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসাই কবিকে এমন অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে। সর্বোপরি কবিতাটিতে তিনি অপশক্তির কুপ্রভাব দূর করে একটি বৈষম্যহীন ও শান্তিপূর্ণ সমাজ বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখেছেন।
উদ্দীপকে দুইশ বছরের ব্রিটিশ শাসন-শোষণের অন্ধকার অধ্যায়কে পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা দেওয়া হয়েছে। মুক্তির আলোকে জাতীয় জীবন ঝলমলে হয়ে ওঠার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে সেখানে। কবির বিশ্বাস, ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ শাসনের পাষাণবেদি একদিন ধ্বংস হবেই, সূচনা হবে নতুন দিনের। একইভাবে, ‘বিদ্রোহী’ কবিতার কবিও অপশাসন ও সামাজিক অচলায়তনের বিরুদ্ধে দ্রোহ করেছেন। তবে কবির ধ্বংসকামী বিদ্রোহী রূপটি শোষণ-নির্যাতনবিহীন এক নতুন পৃথিবী প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই চালিত।
‘বিদ্রোহী’ কবিতা ও আলোচ্য উদ্দীপক উভয়ক্ষেত্রেই অপশক্তির ধ্বংস কামনা করা হয়েছে। তবে এই ধ্বংসের মূল উদ্দেশ্য বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আলোকোজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে অগ্রসর হওয়া। তবে এটিই আলোচ্য কবিতার একমাত্র বিষয় নয়। কেননা, এ বিষয়টি ছাড়াও সেখানে কবির দ্রোহের স্বরূপ এবং এর অন্তর্গত প্রেরণা হিসেবে মানবতাবোধকে চিহ্নিত করা হয়েছে। উদ্দীপকের কবিতাংশে এ সকল বিষয়ের উল্লেখ নেই । তাছাড়া কবিতাটির বিস্তৃত পরিসরে উঠে আসা নানা চিত্রকল্প এবং পৌরাণিক অনুষঙ্গের যে ব্যবহার আমরা দেখতে পাই, উদ্দীপকের কবিতাংশে তা অনুপস্থিত। সে বিবেচনায় উদ্দীপকটি আলোচ্য কবিতার আংশিক ভাবকে প্রতিফলিত করে ।

বিদ্রোহী কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

সৃজনশীল প্রশ্ন নম্বর ০৫

“হয় ধান নয় প্রাণ’ এ শব্দে সারাদেশ দিশাহারা,
একবার মরে ভুলে গেছে আজ
মৃত্যুর ভয় তারা।
শাবাশ, বাংলাদেশ, এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়
জ্বলে পুড়ে মরে ছারখার
তবু মাথা নোয়াবার নয় ।
ক. কবি কী ছাপিয়ে ছুটে যেতে চান?
খ. কবি নিজেকে ‘অবমানিতের মরম বেদনা’ বলেছেন কেন? 
গ. উদ্দীপকের কবিতাংশের সঙ্গে ‘বিদ্রোহী’ কবিতার সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকের কবিতাংশে প্রতিফলিত চেতনা ‘বিদ্রোহী’ কবিতার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে কি? বিশ্লেষণ করো।

সৃজনশীল প্রশ্ন নম্বর ০৫ এর উত্তর সমূহ

ক উত্তর: কবি মহাকাশ ছাপিয়ে ছুটে যেতে চান।

খ উত্তর: অবমানিত মানুষের বেদনাকে নিজের মাঝে অনুভব করায় কবি নিজেকে ‘অবমানিতের মরম বেদনা’ বলেছেন।
কবি বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন মূলত আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক অচলায়তনের বিরুদ্ধে। তিনি লক্ষ করেছেন, পরাধীন জাতি নানারূপ ভেদ-বৈষম্যের বেড়াজালে আবদ্ধ। সমাজের একটি শ্রেণি হর্তাকর্তা হয়ে বাকিদের ওপর হুকুম জারি করছে, আর তাদের হাতে প্রতিনিয়ত লাঞ্ছিত ও নির্যাতিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। লাঞ্ছিত ও অপমানিত মানবাত্মার এই অন্তর্ঘাতনাকে গভীরভাবে উপলব্ধি করেছেন কবি। প্রশ্নোক্ত চরণটিতে তাদের প্রতি কবির সহমর্মিতার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।
গ উত্তর: উদ্দীপকের কবিতাংশটি ‘বিদ্রোহী’ কবিতার কবির বিদ্রোহী চেতনার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
‘বিদ্রোহী’ কবিতায় আত্মজাগরণে উন্মুখ কবির সদম্ভ আত্মপ্রকাশ ঘোষিত হয়েছে। কবিতায় কবি সগর্বে নিজের বিদ্রোহী কবিসত্তার প্রকাশ ঘটিয়ে ঔপনিবেশিক ভারতবর্ষের শাসকদের শাসন ক্ষমতার ভিত কাঁপিয়ে দেন । কবি আলোচ্য কবিতায় সকল অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে তীব্র
প্রতিবাদ ঘোষণা করেছেন। তিনি অত্যাচারীর উৎপীড়ন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত শান্ত হবেন না বলেও দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন । উদ্দীপকের কবিতাংশে অধিকার আদায়ে বাঙালির দৃঢ় প্রত্যয়ের দিকটি উঠে এসেছে। তাঁরা তাদের প্রাপ্য ধানের জন্য জীবন দিতেও প্রস্তুত। এখানে বাঙালির স্বাধীন বিদ্রোহী সত্তার দিকটি উন্মোচিত হয়েছে। তারা এত অত্যাচারিত হয়েছে যে, আজ আর মৃত্যুর ভয়ে ভীত নয়।
বাঙালির এমন সাহসী সত্তার জাগরণে পুরো পৃথিবী অবাক হয়েছে। আলোচ্য কবিতাতেও কবির এমন চেতনার জাগরণই আমরা প্রত্যক্ষ করি। উদ্দীপকের কবিও বাঙালির মতো কোনোমতেই অন্যায়ের কাছে মাথা নত করবেন না। সুতরাং উদ্দীপকের কবিতাংশের সঙ্গে বিদ্রোহী’ কবিতার সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি হচ্ছে এর বিদ্রোহী চেতনায় ।
ঘ উত্তর: উদ্দীপকের কবিতাংশে প্রতিফলিত চেতনা ‘বিদ্রোহী’ কবিতার কবির অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করার মানসিকতার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে।
‘বিদ্রোহী’ কবিতায় কবি সকল অন্যায় অনিয়মের বিরুদ্ধে তাঁর বিদ্রোহী কবিসত্তার প্রকাশ ঘটিয়েছেন। আর এ বিদ্রোহ ঘোষণা করতে গিয়ে বিভিন্ন ধর্ম, ঐতিহ্য, ইতিহাস ও পুরাণের শক্তি উৎস থেকে উপকরণ নিয়ে নিজের বিদ্রোহী সত্তার অবয়ব রচনা করেছেন তিনি। কবিতার শেষে তিনি অত্যাচারীর অবসান কামনা করেছেন। তিনি এও ঘোষণা করেন, উৎপীড়িত জনতার ক্রন্দনরোল যতদিন পর্যন্ত প্রশমিত না হবে ততদিন তাঁর বিদ্রোহী সত্তা শান্ত হবে না।
উদ্দীপকের কবিতাংশে বাঙালির আপসহীন মানসিকতার দিকটি ফুটে উঠেছে। তারা তাদের প্রাপ্য ধানের জন্য জীবন পর্যন্ত দিতে পারে, তবু তাদের ন্যায্য অধিকার ছাড়বে না। দীর্ঘদিন ধরে অত্যাচারিত হওয়ার ফলে মৃত্যুর ভয়কেও এখন তারা ভুলে গেছে। আজ তারা তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন। আর তাই জ্বলে-পুড়ে ছারখার হলেও অন্যায়ের কাছে মাথা নত করবে না তারা। “বিদ্রোহী’ কবিতার কবির ক্ষেত্রেও আমরা এমন দৃঢ়চেতা মনোভাবই লক্ষ করি।
“বিদ্রোহী’ কবিতায় কবির যে বিদ্রোহী সত্তার জাগরণ আমরা লক্ষ করি, উদ্দীপকের কবিতাংশে বর্ণিত বাঙালির আত্মজাগরণে তারই প্রতিফলন ঘটেছে। উভয়স্থানে অন্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ধ্বনিত হয়েছে। ‘বিদ্রোহী’ কবিতার কবি যেমন তাঁর বিদ্রোহী সত্তার প্রকাশ ঘটিয়ে ঔপনিবেশিক ভারতবর্ষে শাসকদের শাসন ক্ষমতার ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছেন, তেমনি উদ্দীপকে বাঙালিজাতি চরম অত্যাচারের সম্মুখীন হয়েও মাথা নত না করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। অর্থাৎ উদ্দীপক ও আলোচ্য কবিতায় একই চেতনা কাজ করেছে, আর তা হলো অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ় মনোভাব। সুতরাং উদ্দীপকের কবিতাংশে প্রতিফলিত চেতনা ‘বিদ্রোহী’ কবিতার কবির অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করার মানসিকতার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে ।

সৃজনশীল প্রশ্ন নম্বর ০৬

বেজে উঠল কি সময়ের ঘড়ি? 
এসো তবে আজ বিদ্রোহ করি, 
আমরা সবাই যে যার প্রহরী
কোটি করাঘাত পৌঁছোক দ্বারে
উঠুক ডাক । 
উঠুক তুফান মাটিতে পাহাড়ে
জ্বলুক আগুন গরিবের হাড়ে
ভীরুরা থাক ।

ক. ‘নিশাবসান’ শব্দের অর্থ কী?

খ. কবি নিজেকে ‘ক্ষ্যাপা দুর্বাসা’ বলেছেন কেন? ব্যাখ্যা করো ।
গ. উদ্দীপকের কবিতাংশের সঙ্গে ‘বিদ্রোহী’ কবিতার সাদৃশ্য নিরুপণ করো।
ঘ. উদ্দীপকের কবিতাংশটি ‘বিদ্রোহী’ কবিতার মূলভাবকে কতটা প্রতিফলিত করতে পেরেছে? উত্তরের পক্ষে মতামত দাও।

সৃজনশীল প্রশ্ন নম্বর ০৬ এর উত্তর সমূহ

ক উত্তর: নিশাবসান’ শব্দের অর্থ- রাতের শেষ বা অবসান।

 
খ উত্তর: কবি বিদ্রোহের বাণী ছড়িয়ে অপশক্তির প্রতিভূদের মনে ভয় ধরিয়ে দিতে নিজেকে ‘ক্ষ্যাপা দুর্বাসা’ বলেছেন।
পুরাণ মতে, দুর্বাসা অত্যন্ত কোপন-স্বভাব বিশিষ্ট একজন মুনি। অনেকেই তাঁর কোপানলে দগ্ধ হন। ইনি তাঁর স্ত্রীকে শাপ দিয়ে ভস্ম করেন। তাঁর শাপে দেবরাজ ইন্দ্রও শ্রীভ্রষ্ট হন। ক্রোধের বশবর্তী হয়ে দুর্বাসা অনেক সময় উন্মত্তের মতো কাজ করতেন। ফলে দেবতারা পর্যন্ত তাঁকে ভয় পেতেন । আলোচ্য কবিতায় কবি বিদ্রোহী হিসেবে অন্যায় ও অসাম্য সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ভীতি সঞ্চারের উদ্দেশ্যেই নিজেকে ‘ক্ষ্যাপা দুর্বাসা’ বলে অভিহিত করেছেন।
গ উত্তর: দ্রোহ চেতনার দিক থেকে উদ্দীপকের কবিতাংশের সাথে ‘বিদ্রোহী’ কবিতার সাদৃশ্য প্রতীয়মান হয় ।
‘বিদ্রোহী’ কবিতায় কবি বিবিধ, উপমায় ও প্রকরণে তাঁর বিদ্রোহী চেতনাকে মূর্ত করে তুলেছেন। ঔপনিবেশিক ভারতবর্ষে সামাজিক নানা অসংগতি ও অন্যায়-অত্যাচার কবিকে আহত করেছিল। এমন পরিস্থিতির বিপরীতে শোষণ-বৈষম্যহীন এক শান্তিপূর্ণ পৃথিবীর লক্ষ্যে কবি বিদ্রোহ করেছেন। কবির এই দ্রোহ মূলত মানবমুক্তির লক্ষ্যে শান্তিপ্রিয় মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ।
উদ্দীপকের কবিতাংশে দ্রোহের আহ্বান জানানো হয়েছে। কবিতাংশটির কবি মনে করেন, এটাই দ্রোহের প্রকৃষ্ট সময়। আর তাই সকল অত্যাচার অনাচারের অবসানকল্পে সাহসী ও প্রতিবাদী জনতাকে নিয়ে অত্যাচারীর দ্বারে কঠিন করাঘাত করতে চান তিনি। একইভাবে, ‘বিদ্রোহী’ কবিতায়ও কবি অন্যায়, অসাম্য ও সামাজিক অনাচারের বিরুদ্ধে উচ্চারণ করেছেন দ্রোহের পঙক্তিমালা । আর্ত ও নিপীড়িত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠাই তাঁর এই দ্রোহের মূল উদ্দেশ্য। অর্থাৎ উদ্দীপক ও আলোচ্য কবিতা উভয়ক্ষেত্রেই কবিদ্বয় সামাজিক অচলায়তনের বিরুদ্ধে দ্রোহ করেছেন। এ দিক থেকে উদ্দীপকের কবিতাংশের সাথে ‘বিদ্রোহী’ কবিতার সাদৃশ্য পাওয়া যায়।
ঘ উত্তর: উদ্দীপকের কবিতাংশটি ‘বিদ্রোহী’ কবিতার মূলভাবকে আংশিক প্রতিফলিত করেছে বলেই আমি মনে করি।
‘বিদ্রোহী’ কবিতায় কবি বিদ্রোহকে একটি আদর্শ ও চেতনা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। নিরন্তর বিদ্রোহের মধ্য দিয়ে তিনি প্রচলিত নিয়মকানুনের শৃঙ্খলকে ভেঙে ফেলতে চেয়েছেন। এক্ষেত্রে তিনি অত্যন্ত দৃঢ়চেতা মনোভাব রাখেন। ধ্বংসের মধ্য দিয়ে নতুন দিনের সূচনাই কবির মূল লক্ষ্য। এসবের পেছনে কবিমনে একটি বিষয়ই ক্রিয়াশীল ছিল । তা হলো আর্তমানবতার কল্যাণ ।
উদ্দীপকের কবির বিদ্রোহী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। অন্যায় ও অসাম্য দূর করে সাম্য, প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই তাঁর এই দ্রোহ। এ লক্ষ্যে প্রতিবাদী মনোভাবাপন্ন সকলকে সাথে নিয়ে তিনি এগিয়ে যেতে চান। প্রচণ্ড করাঘাত করতে চান অত্যাচারীর দ্বারে। কবির বিশ্বাস, সাহসীরা তাঁর সঙ্গে এগিয়ে আসবে। এক্ষেত্রে ভীরুদের তিনি সঙ্গী করতে চান না। একইভাবে, আলোচ্য কবিতাতেও কবি সামাজিক অচলায়তনের বিরুদ্ধে দ্রোহ ঘোষণা করেছেন।
“বিদ্রোহী’ কবিতায় কবির বিদ্রোহী সত্তার স্বরূপ প্রকাশিত হয়েছে। বৈষম্য ও শৃঙ্খলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী এই কবিসত্তা দুর্দমনীয় ও বিধ্বংসী। আর তার মূলগত প্রেরণা কবির মানবতাবোধ। মানবপ্রেমের আদর্শে উজ্জীবিত হয়েই তিনি বিদ্রোহ করেছেন অনাচার ও অসাম্যের বিরুদ্ধে। এক্ষেত্রে তিনি আপসহীন মনোভাব পোষণ করেন। উদ্দীপকের কবিতাংশে দ্রোহের এমন উদ্দেশ্যের কথা জানা যায় না। সেখানে কেবল বিদ্রোহের বাণীই উচ্চারিত হয়েছে। আলোচ্য কবিতার মতো আদর্শ বা মানবপ্রেমের কথা সেখানে নেই। সে বিবেচনায় উদ্দীপকটি ‘বিদ্রোহী’ কবিতার আংশিক ভাবকেই ধারণ করে।

বিদ্রোহী কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন নম্বর ০৭

তুমিই আমার মাঝে আসি’ অসিতে মোর বাজাও বাঁশি, আমার পূজার যা আয়োজন তোমার প্রাণের হবি।’
ক. অর্ফিয়াসের পিতা এ্যাপোলো ছাড়া অন্য কে হতে পারে বলে মত পাওয়া যায়?
খ. আমি বিদ্রোহী, আমি বিদ্রোহী-সুত বিশ্ব-বিধাতৃর’- ব্যাখ্যা করো । 
গ. উদ্দীপকে ফুটে ওঠা বিদ্রোহের বীজ ‘বিদ্রোহী’ কবিতার সাথে কীভাবে সম্পর্কিত? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “প্রেম ও দ্রোহের সমন্বয় উদ্দীপক ও ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় সমান্তরালরূপে প্রকাশিত হয়েছে”- বিশ্লেষণ করো। 

সৃজনশীল প্রশ্ন নম্বর ০৭ এর উত্তর সমূহ

ক উত্তর: অফিয়াসের পিতা এ্যাপোলো ছাড়া থ্রেসের রাজা ইগ্রাস হতে পারে বলে মত পাওয়া যায়।

খ উত্তর: অন্যায় ও অসাম্যের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী চেতনার ধারক হিসেবে কবি নিজেকে বিদ্রোহী পুত্র বা সুত বলে অভিহিত করেছেন।
পরাধীন ভারতবর্ষে তখন আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় কারণে সমাজে শক্ত আসন গেড়েছে অন্যায়-অত্যাচার ও বৈষম্য। সংগত কারণেই সমাজে জেঁকে বসা এই বৈষম্য ও অচলায়তনকে ভাঙতে চেয়েছিলেন কবি। এ লক্ষ্যেই তিনি উচ্চারণ করেন দ্রোহের পঙক্তিমালা । তাঁর এই দ্রোহ কোনো নির্দিষ্ট গণ্ডিতে আবদ্ধ নয়। অত্যাচারীর বিরুদ্ধে তিনি বিধ্বংসী রূপ নিয়ে আবির্ভূত হন। বিদ্রোহী চেতনার ধারক হিসেবে অন্যায় ও অসাম্যের বিরুদ্ধে তাঁর এই নিরন্তর দ্রোহের বিষয়টি বোঝাতেই কবি নিজেকে বিশ্ব-বিধাতার বিদ্রোহী-সুত বা বীর পুত্র বলে অভিহিত করেছেন।

বিদ্রোহী কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

গ উত্তর: উদ্দীপকে ফুটে ওঠা বিদ্রোহের বীজ অর্থাৎ প্রেমানুভূতির দিকটি কবির বিদ্রোহের প্রেরণা হিসেবে প্রতীয়মান হওয়ার দিক থেকে ‘বিদ্রোহী’ কবিতার সাথে সম্পর্কিত।

‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি পরাধীনতা ও অচলায়তনের বিরুদ্ধে কবির দুর্মর দ্রোহের বহিঃপ্রকাশ । আত্মানুসন্ধানী কবি পরাধীন ভারতবর্ষের শৃঙ্খলিত জীবন ও বৈষম্যকে প্রত্যক্ষ করেছিলেন নিবিড়ভাবে। সংগত কারণেই আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক এই অচলায়তনের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছিলেন তিনি কিন্তু একটু খেয়াল করলেই দেখা যায়, কবির দ্রোহের বীজ লুকিয়ে আছে তাঁর প্রেমানুভূতিতে। মানুষের প্রতি ভালোবাসাই তাঁকে দ্রোহের পথে চালিত করেছে।
উদ্দীপকের কবিতাংশে প্রেয়সীর প্রতি কবির গভীর ভালোবাসা ব্যক্ত হয়েছে। কবির বিদ্রোহী সত্তা প্রেয়সীর অনুরাগের স্পর্শেই প্রেমিক সত্তায় পরিণত হয়েছে পক্ষান্তরে, প্রিয়ার প্রেমই তাঁর বিদ্রোহের অনুঘটক। অর্থাৎ বিদ্রোহী কবি প্রেমিক কবিরই রূপান্তর মাত্র। একইভাবে, আপন সত্তার পরিচয় দিতে গিয়ে বিদ্রোহী’ কবিতার কবি বলেছেন— “মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণ-তূর্য।” অর্থাৎ প্রেম এবং দ্রোহ এ দুয়ের সমন্বয়েই কবির অস্তিত্ব পূর্ণতা লাভ করে। মানুষের প্রতি ভালোবাসার কারণেই তিনি দ্রোহ করেছেন। সংগত কারণেই কবির এই দ্রোহ তার প্রেমিক সভারই ভিন্ন রূপ। 
উদ্দীপকের কবিতাংশেও দ্রোহের মাঝে প্রেমের সন্নিবেশ ঘটতে দেখা যায়। সে বিবেচনায় উদ্দীপকে ফুটে ওঠা বিদ্রোহের বীজ তথা প্রেমানুভূতি কবির বিদ্রোহের প্রেরণা হিসেবে আলোচ্য কবিতার সাথে সম্পর্কিত।
ঘ উত্তর: প্রেম ও দ্রোহের সাবলীল প্রকাশ দেখে বলা যায় যে, উক্তিটি যথার্থ। 
‘বিদ্রোহী’ কবিতার মূলসুর বিদ্রোহী চেতনা হলেও সেই বিদ্রোহের বীজ লুক্কায়িত আছে প্রেমে। কেননা, মানুষের প্রতি ভালোবাসা না থাকলে কেউ অন্যের দুঃখ-বেদনা নিজের মাঝে অনুভব করতে পারে না। কবিও …তার ব্যতিক্রম নন। তিনি সর্বগ্রাসী বিদ্রোহী রূপ ধারণ করেছেন মূলত প্রেমের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েই। মানুষের প্রতি তাঁর অকৃত্রিম ভালোবাসাই তাঁকে দ্রোহের পথে চালিত করেছে।

উদ্দীপকের কবিতাংশে কবির প্রেমানুভূতির প্রকাশ ঘটেছে। কবির প্রেয়সীর করস্পর্শে তাঁর বিদ্রোহের বা যুদ্ধের অসি বাঁশিতে রূপ নেয়। অর্থাৎ কবির কাছে অসি আর বাঁশি সমার্থক; যখন যেটা প্রয়োজন, তখন সেটার ব্যবহার করেছেন তিনি। তবে কবির অস্তিত্বজুড়ে রয়েছে তাঁর প্রেমিক সত্তা। এই প্রেমিক সত্তাই তাঁকে দুর্মর দ্রোহের পথ দেখিয়েছে, যার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে ‘বিদ্রোহী’ কবিতায়। বিদ্রোহী রূপে তাঁর যে বিধ্বংসী রূপ, তা মূলত প্রেমময় একটি সুন্দর পৃথিবী বিনির্মাণের লক্ষ্যে। তাই কবির কাছে প্রেম আর দ্রোহ সমার্থক।
‘বিদ্রোহী’ কবিতায় ও উদ্দীপকে যুগপৎ প্রেম ও দ্রোহ প্রকাশিত হয়েছে। আসলে যার হৃদয়ে প্রেম নেই, তার পক্ষে বিদ্রোহী হয়ে ওঠা সম্ভব নয়। আলোচ্য কবিতার কবির ক্ষেত্রেও বিদ্রোহের বীজ অঙ্কুরিত হয়েছে মানবপ্রেমকে কেন্দ্র করেই। অর্থাৎ নিপীড়িত মানুষের হাহাকারই কবিকে অত্যাচারীর বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়েছে। উদ্দীপকের কবিতাংশেও আমরা কবিচিত্তের প্রেমময় রূপটি প্রত্যক্ষ করি। প্রেয়সীর ভালোবাসায় নিমগ্ন কবির যুদ্ধের অসিই যেন রূপ নেয় বাঁশিতে, তাঁর অন্তরে বেজে চলে সেই মোহন বাঁশির সুর । অর্থাৎ আলোচ্য কবিতা বা উদ্দীপকের কবিতাংশ উভয় ক্ষেত্রে দ্রোহের অন্তরালে কবিদ্বয়ের প্রেমময় রূপটিই প্রতিভাত হয়। সে বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযথ।

আশাকরি বিদ্রোহী কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর জেনে উপকৃত হয়েছেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button