আইন ও বিচারখুলনাজেলা সংবাদসারাদেশ

পুলিশের সহায়তায় নড়াইলের সেই মুক্তিযোদ্ধা ফিরে পেলেন বসতঘর

মোঃ সাব্বির জমাদ্দার, স্টাফ রিপোর্টারঃ

বিভিন্ন গণমাধ্যম সংবাদ প্রচারের পর জমা- জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে নড়াইলের কালিয়ার সেই মুক্তিযোদ্ধা এস এম মতিয়ার রহমানের বসতঘর দখল মুক্ত করেছে কালিয়া থানা পুলিশ ।
শুক্রবার দুপুরে তালাখুলে দখল মুক্ত করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে ।
এর আগে ৩০ মার্চ বিরোধীরা তার বসত ঘরের তালা ভেঙ্গে দখল করে নিলে মুক্তিযোদ্ধা মতিয়ার রহমান গত ১০ এপ্রিল ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ করেন ।
মতিয়ার রহমান উপজেলার বিলধুড়িয়া গ্রামের মৃত মমিন উদ্দিন শেখের ছেলে ।

অভিযোগের বিবরণে জানা যায়, পক্ষঘাত রোগে আক্রান্ত হয়ে মতিয়ার রহমান দীর্ঘদিন যাবত অসুস্থ্য থাকার সুযোগে প্রতিবেশীমো.শাহাজান শেখ একখন্ড জমি নিয়ে তার সাথে বিরোধ সৃষ্টি করে । একজন অসুস্থ্য ও অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে তাকে একটি বীর নিবাস উপহার দেয়া হয়েছে ।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী বীর নিবাস হস্তান্তর করলে মতিয়ার তার বসতঘরটি তালাবদ্ধ করে স্বপ্নের বীর নিবাসে চলে যান ।
সেই সুযোগটি হাতছাড়া করেনি শাহাজাহান ও তার সহযোগীরা । ৩০ মার্চ বিকাল ৫ টার দিকে শাহাজানের নেতৃত্বে৫/৭ জন দূবৃত্ত মতিয়ারের তালাবদ্ধ বসত ঘরের তালা ভেঙ্গে মুক্তিযোদ্ধার বসতঘরটি দখল করে ঘরে থাকা মালামাল লুটে নেয় ।

ঘটনার সাথে ওই দিনই সন্ধ্যায় তিনি বড়নাল পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের আইসির কাছে দখলদার উচ্ছেদসহ আইনী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার না পেয়ে ইউএনওর কাছে অভিযোগ করে ।

পরে তিনি অভিযোটি ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য কালিয়া থানায় পাঠন । এরপর ১৫ দিন পর শুক্রবার দুপুর ২ টার দিকে কালিয়া থানার ওসির হস্থক্ষেপে জবর দখলকৃত বসতঘরটি দখল মুক্ত করে মতিয়ার রহমানের কাছে হস্থান্তর করেন ।

মতিয়ার রহমান সন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, তার বসতঘরটি অবৈধ দখল মুক্ত হওয়ায় তিনি আনন্দিত । ন্যায় বিচার পেয়ে সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি ।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডকাউন্সিলের সাবেক কমান্ডার শেখ নজরুল ইসলামসহ স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা প্রশাসনের ভুমিকার প্রশংসা করেছেন ।
কালিয়া থানার ওসি শেখ তাসমীম আলম বলেছেন, মুক্তিযোদ্ধার বসতঘর জবর দখলের অভিযোগটি জানতে পেরে উভয় পক্ষকে থানায় ডেকে বসতঘরটি দখল মুক্ত করা হয়েছে । একজন মুক্তিযোদ্ধার সমস্যার সমাধান করতে পেরে তিনি আনন্দিত ।

কালিয়ার ইউএনও ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি রুনু সাহা বলেছেন, একজন মুক্তিযোদ্ধাকে আইনী সহায়তা দিয়ে তার অধিকার সংরক্ষন করাই প্রশাসনের মূললক্ষ । অতি অল্প সময়ের মধ্যে পুলিশ তার সমস্যার সমাধান করায় তিনি পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button