জেলা সংবাদরংপুরসারাদেশ

পরিত্যক্ত ও অবহেলিত দখলে থাকা সাতটি বিমানবন্দর নতুন করে চালুর উদ্যোগ

আসার বানি হচ্ছে নতুন করে চালু হতে যাচ্ছে ঠাকুরগাঁওয়ের বিমানবন্দর। দেশের বিভিন্ন জেলায় পরিত্যক্ত অবহেলিত ও দখলে থাকা সাতটি বিমানবন্দর নতুন করে চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।

এর মধ্যে রয়েছে ঈশ্বরদী, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, বগুড়া , শমসের নগর, কুমিল্লা, ও তেজগাঁও বিমানবন্দর দেশের অভ্যন্তরীণ পর্যটন খাতের বিকাশ ও যাত্রী পরিবহন বাড়াতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়। ইতিমধ্যেই এই সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাজ শুরু হয়েছে।

 

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ২০৩০ সালের পরিকল্পনা এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।
আরো জানা গেছে বর্তমানে বিমান উদয়ন ও অবতরণ করছে না।
কয়েকটি রয়েছে বিভিন্ন সংস্থার দখলে। অনেকগুলো বিমানবন্দরের গরু ছাগলসহ গবাদিপশু আবাদেই ঘুরে বেড়াচ্ছে।

 

কোন কোন বিমানবন্দরের চারদিকে বাউন্ডারি দেয়ালসহ কোন ধরনের নিরাপত্তা চৌকিনেই। রানওএ গুলো বর্তমানে যাত্রীবাহী বিমান পরিচালনায় অনুপযুক্ত। পর্যায়ক্রমে গুলোর দৈর্ঘ্য ৬০০০ থেকে ৮ হাজার ফুটের উন্নত করার পরিকল্পনা করেছে কর্তৃপক্ষ।
এছাড়া রানয়ের পিসিয়েন্ট ৩০ থেকে ৬০ ফুট করার টার্গেট আছে। তাহলে এ টি আর কিংবা ড্যাস আট ইউ ৪০ মডেলের ছোট ছোট যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ দিয়ে ফ্লাইট অপারেশন শুরু করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।

 

পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী বিভিন্ন গণমাধ্যমে জানান ঈশ্বরদী বিমানবন্দর মেরামত সংস্কারের পর পুনরায় চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এ কাজের ভূমি অধিগ্রহণের বিষয়ে কাজ চলছে এছাড়া সারা দেশের অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরগুলোর আধুনিকায়ন ও উন্নয়নের ব্যাপক কর্ম পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
মানুষের জীবন যাত্রার মান বেড়েছে শিল্প কারখানার পাশাপাশি দেশবেপি পর্যটন খাতের ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। একের পর এক মেগা প্রকল্প অর্থনিতিক অঞ্চল হচ্ছে।

 

এসব কারণে নতুন নতুন বিমানবন্দরের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। বহু বছর ধরে বন্ধ থাকা ঠাকুরগাঁও, বগুড়া, লালমনিরহাট, কুমিল্লা, এবং শমশেরনগর, বিমানবন্দরের অবকাঠামো পরে আছে।
বেশিরভাগ অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এবং পাকিস্তান আমলে বাণিজ্যিকভাবে বিমান চলাচল কার্যক্রম শুরু হয়।
এদিকে ব্যস্ততার কথা উল্লেখ করে নভো ইয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর পুনরায় চালুর পক্ষে মত দিয়েছেন, তার মতে সতের থেকে আঠারো আসন বিশিষ্ট বিমানগুলো ঢাকা, বগুড়া, এবং ঢাকা ঠাকুরগাঁও রুটে বাণিজ্যিকভাবে চালু করা যেতে পারে।

 

এতে করে ১০ থেকে ১২ জন যাত্রী নিয়েও একটি ফ্লাইট কোনরকম লোকসান ছাড়াই চলাচল করতে পারবে। এমন খবরে ঠাকুরগাঁওয়ের স্থানীয়রা মনে করছেন বিমানবন্দর চালু হলে গড়ে উঠবে কলকারখানা সহ ছোট বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান। আর হবে অর্থনৈতিক জোন।

 

ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ও পর্যটন আকর্ষণে এখানে রয়েছে সম্ভাবনাময় পর্যটন স্পট, কর্মসংস্থান হবে এ অঞ্চলের হাজার হাজার বেকার যুবকের। পাল্টে যাবে মানুষের জীবন যাত্রার মান। মেরুকরণ হবে দেশের অর্থনীতিতে।

 

এ অবস্থায় ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অরুণাংশ দত্ত টিটু বলেন, বিমানবন্দর চালু করার ব্যাপারে বিগত দিনে যারা মন্ত্রিত্বের দায়িত্বে ছিলেন ওরা এসে বিমানবন্দর টা দেখে গেছে এবং এই বিমানবন্দরের কতটা যুক্তিযুক্ত সেটাও তারা প্রদক্ষন করেছে।

 

এ বিষয়ে সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আবু তাহের মোঃ শামসুজ্জামান বলেন প্রশাসনিক কার্যক্রমের কথা,

১৯৪০ সালে ঠাকুরগাঁওয়ের মাদারগঞ্জ এলাকায় নির্মিত হয় বিমানবন্দরটি। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরেও ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত বিমান চলাচল ছিল স্বাভাবিক। তবে ১৯৮০ সালে যাত্রী সংকট দেখিয়ে পুরোপুরি ভাবে বিমান চলাচল বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button