অপরাধআইন ও বিচারখুলনাজেলা সংবাদসারাদেশ

নড়াইল-যশোর সীমান্তবর্তী বাজারের দোকান ভাংচুর ও লুটপাট ৩ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতিসাধন

মোঃ রাসেল মোল্লা, ষ্টাফ রিপোর্টারঃ

নড়াইল, যশোর সীমান্তবর্তী চাকই, মরিচা, ভবানীপুর, বাজারে গভীর রাতে হামলা চালিয়ে দোকান ঘর ভাংচুর ও লুটপাট অভিযোগ ভূমিদস্যু সৌমিত্র গ্যংয়ের বিরুদ্ধে ।

সরোজমিনে গিয়ে তদন্ত করে জানা যায় , মধুরগাতী গ্রামের হাবিবুর রহমানের বড় ছেলে হুমায়ুন কবীর দীর্ঘ দিন ধরে ওই বাজারে চাউল,কুড়া,ভুসিমাল, তেল মবিলের ব্যবসা করে আসছিলো। প্রতিদিনের মত গত কাল ১৯ এপ্রিল বুধবার রাতে কেনাবেচা শেষে দোকান বন্ধ করে বড়ি চলে যায় হুমায়ুন কবির। একটা অচেনা নাম্বার থেকে দিবাগত রাত্র ২ টার সময় কল আসে এবং তাকে জানানো হয় তার দোকান ঘর ভাংচুর করা হয়েছে। সে দ্রূতগতিতে ঘটনা স্থলে ছুটে এসে দেখতে পায়, দোকানের প্রয়োজনীয় মালামাল বাইরে পড়ে আছে।দোকানের মালামাল লুটপাট ও ক্যাশ টাকা নিয়ে যায়। দোকানের প্রতিটি পিলার উচ্ছেদ্দেশ্যে ভেঙে ফেলা হয়েছে। আসবাবপত্র গুলো ছুড়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে পাশের আবর্জনায় ব্যবসায়িক মালামালের কোন অস্তিত্ব সেখানে পাওয়া যায় নাই সব উধাও। এবং বাজারের নৈশ প্রহরীদের অস্ত্রভয় দেখিয়ে চুপ রাখে।

ক্ষতিগ্রস্ত দোকানি হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের জানান
বাজারের কিছু দোকান ঘর সরকারী জায়গায় স্থাপিত। সরকারি এই জমিতে অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে ব্যাবসা করে আসছে তাদের মধ্যে আমিও ওই স্থানে ব্যাবসা করছি।স্থানীয় একটি প্রভাবশালী ভূমিদস্যু চক্র দীর্ঘ দিন ধরে সরকারি খাস খতিয়ানের জমি জবর দখল করে খেয়ে আসছে।তারই প্ররিপ্রেক্ষিতে এখন আমার দোকানের জায়গা দখলের জন্য এই সন্ত্রাসী বাহিনী অভয়নগর উপজেলার কোদলা গ্রামের সৌমিত্র রায়, এর নেতৃত্বে সিংগাড়ি গ্রামের মিন্টু (কানা মিন্টু)মরিচা গ্রামের আকিজ, চাকই গ্রামে মনিরুল মল্লিক সহ কতিপয় কিছু ভূমিদস্যু সন্ত্রাসী আমার এক্ষতিসাধন করেছে। তাদের এই সন্ত্রাসীমুলক আচরনের কারনে কেউ ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারেনা। সরকারি জমি দখলের জন্য স্থানীয় ভাবে গড়ে তুলেছেন সন্ত্রাসী বাহিনী । আমার দোকানের জায়গা টুকু বন্ধ-বস্ত নেওয়ার জন্য ভূমি অফিসে আবেদন করেছি। বিষয়টি তারা জানতে পেরে আমার দোকান ভাংচুর করেছে।দোকান থেকে নগদ,৬০০০০ টাকা, ১০ বস্তা লাল গাভী ভুসি,২৫ কেজির ১০০ বস্তা চাউল, চার ব্যরেল ডিজেল, ৫০কেজি ওজনের ১০ বস্তা শরিষার খৈল সহ অন্যান্য জিনিসপত্র লূট করে নিয়ে গেছে। এই ঈদের সময় আমি কিভাবে সহ্য করবো সর্বশান্ত হয়ে গেলাম আমি, এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানাই।
এ বিষয়ে নৈশ প্রহরীরা জানান রাত আনুমানিক দেড়টার সময় শব্দ শুনতে পেয়ে আমরা তিনজন সেখানে ছুটে যায়,ওই সন্ত্রাসীরা আমাদের উপস্তিত দেখে অস্ত্র বের করে ভয় দেখিয়ে আমাদের মোবাইল কেড়ে নিয়ে বাজারের পরিত্যক্ত একটি ঘরে আটকে রেখে হুমায়ুনের দোকান উচ্ছেদ করতে ব্যস্ত হয়।আমরা বেচে থাকার তাগিদে তাদের কিছু বলতে পারিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আশেপাশের কিছু দোকানদার জানাই, হুমায়ুন দীর্ঘদিন ধরে এইজায়গায় ব্যবসা করে আসছে, আমাদের জানামতে সে খুবি ভালো মানুষ। আমরা সকালে বাজারে এসে জানতে পারি সৌমিত্র রায় ও তার কিছু সহোযোগি এই কাজ করেছে রাত্রে, তারা এভাবে অনেক জায়গা দখল করে বসে আছে আপনারা খোজ নিলে জানতে পারবেন, আমরা ভাই সাধারণ মানুষ এই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কোন কথা বলতে, কেউ সাহস পায়না।
এ বিষয়ে অভয়নগর থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ নাসির উদ্দীন বলেন লিখিত অভিযোগ পেয়েছি আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button