কৃষিরংপুর

দেবীগঞ্জে শীতের মৌসুমে সরিষার বাম্পার ফলন

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় বিভিন্ন এলাকায় এবার ব্যাপক সরিষার আবাদ হয়েছে। এসব এলাকা হলুদ রঙের রঙ্গিন হয়ে উঠেছে। প্রকৃতির এক অপার সৌন্দর্য বিরাজ করছে এই জেলায়। সরিষার সুগন্ধে ভাসছে চারিদিক। চাষিরা এবার উচ্চ ফলনশীল জাতের সরিষার আবাদ করছে। ডিজেল, সারসহ অন্যান্য উপকরণের দাম বেশী হওয়ার কারণে আমন এবং বোরোর মাঝামাঝি সময়ে বাড়তি ফসল হিসেবে এই সরিষার আবাদে ঝুকে পড়েছে তারা।

 

এক বিঘা জমিতে সর্বোচ্চ ৩–৪ হাজার টাকা খরচ করে বিঘায় সর্বোচ্চ ৬-৭ মন পর্যন্ত সরিষা ফলন পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন চাষিরা। চাষিরা বলছেন, দেশী জাতের বারি-১৪, ১৫ ও ১৭ বিনা সরিষা ৯ জাতের সরিষার ফলন দ্বিগুণ হয়ে থাকে। জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলায় এলাকার নদী অববাহিকায় চলতি বছর প্রায় ৩৮৫০ হেক্টর জমিতে এই উচ্চ ফলনশীন সরিষার আবাদ করছে চাষিরা। চাষিরা বলছেন, ডিজেলের দাম বৃদ্ধির কারণে এবার সরিষার আবাদ বেড়েছে দ্বিগুণ। বাজারে বর্তমানে প্রতিমণ সরিষা ২৪শ থেকে ৪ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আমন মৌসুম শেষ হবার পরে পরে এই অঞ্চলের জমিতে আলু ও ভূট্টাসহ অন্যান্য আবাদ হতো। সরিষা আবাদে সেচ লাগে না। কিটনাশকও কম লাগে। খুব বেশী সারও দিতে হয় না। তাই সরিষায় লাভ বেশি। আমন কাটার পরেই ৬০-৬৫ দিনের মধ্যেই বাড়তি ফসল হিসেবে এই সরিষার ফলন পাচ্ছে চাষিরা। খুব অল্প সময়ের মধ্যে ফলন পাওয়ার কারণে একই জমিতে বেশ কয়েকটি আবাদও করছেন তারা ।

 

দেবীগঞ্জ উপজেলার রাজার হাট ,শান্তিনগর এলাকার চাষি কামাল উদ্দিন বলেন এবছর ৪ বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করেছি। তিনি জানান, বর্তমানে জ্বালানী তেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে ভুট্টাসহ অন্যান্য আবাদ বাদ দিয়ে সরিষার আবাদ করেছেন। বিঘা প্রতি ৩-৪ হাজার টাকা খরচ করে ৭ মণ পর্যন্ত সরিষার ফলন হবে তিনি আশা করছেন। একই এলাকার অন্যান চাষিদের কথা বলে জানাযায় বিভিন্ন জাতের সরিষা আবাদ করেছেন তারা ।

 

জানান বাজারে ভৈজ্য তেলের দাম বেশি থাকায় তার উৎপাদিত জমির সরিষা মাড়াই করে তিনারা নিজেরাই তেল ব্যবহার করবেন। দেবীগঞ্জ উপজেলার কৃষিবিদ মো: নাঈম মোর্শেদ বলেন ‍উপজেলায় ৩,৮৫০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে । কৃষকরা তিন হাজার পঞ্চাশ হেক্টর জমিতে বারি-১৪, ১৫ ও ১৭,বিনা সরিষা৯জাতের সরিষা চাষ করেছেন।আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় চাষিরা লাভমান হবেন । আরো বলেন এটা কৃষকের বাড়তি লাভ। এই আবাদ তুলে চাষিরা আবার ২টি ফসল করতে পারবে। তিনি আরও বলেন, এবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৩৮৫০ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষাসহ বিভিন্ন তৈলবীজ জাতীয় ফসল উৎপন্ন হচ্ছে। চাষিদের আগ্রহ বাড়ায় কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রনোদনার আওতায় ১৮০০জন কৃষকে ১ কেজি বিজ ,ডিএপি ১০ কেজি ,মপ ১০ কেজি ,সার ,বীজসহ নানা উপকরণ দিয়ে সহায়তা করা হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button