অপরাধআইন ও বিচারখুলনাসারাদেশ

দুর্নীতি আর অর্থলূটপাটের অভিযোগ নড়াইল সেটেলমেন্ট অফিস কর্মীদের বিরুদ্ধে

নড়াইল সদর উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসে চলছে দুর্নীতি আর অর্থ লুটপাট এর লীলা খেলা, কিন্ত দেখার কেউ নাই। খতিয়ান তুলতে গেলে সরকারি রেটের থেকেও বেশি টাকা গুনতে হচ্ছে জনগণকে।

এমনি এক অভিযোগের ভিত্তিতে ওই অফিসে, গিয়ে দেখা যায় প্রত্যন্ত গ্রামঞ্চলের খেটে খাওয়া গরিব মানুষ থেকে শুরু করে প্রতিটি জমির মালিকের থেকে খতিয়ান প্রতি ১৫০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে, যা সরকারি রেট হচ্ছে ১০০ টাকা।

তথ্যটি তদন্ত করার জন্য আমাদের এক প্রতিনিধি সেখান থেকে খতিয়ান আনতে গেলে ওই অফিসের কর্মকর্তা (সার্ভেয়ার) আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে খতিয়ানের মুল্য রাখে ১০০ টাকা, তৎক্ষনাৎ তাকে প্রশ্ন করা হয় আপনি আমার থেকে ১০০ টাকা নিলেন কিন্ত ওই সাধারণ জনগন এর থেকে কেনো ১৫০ টাকা নিলেন সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে ওই সার্ভেয়ার অফিসার কোন উত্তর দিতে পারেনি । নিরবে মাথা নিচু করে বসে থাকেন এবং বিচলিত হয়ে তিনি শুধু বলেন আমার (ভারপ্রাপ্ত, সেটেলমেন্ট অফিসার সেলিম হাসান) স্যার জানে ।

সাংবাদিকদের পদচারণা টের পেয়ে ওই অফিসে মৌরি হিসেবে কর্মরত রহমান মোল্যা এসে হাজির হয় এবং সাংবাদিকদের সাথে দুর্ব্যবহার করতে থাকে এবং সে নিজেকে বিভিন্ন পত্র পত্রিকার প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দেন এবং তিনি বলেন আমরা এই ৫০ টাকা বেশি নিচ্ছি কারন আমাদের চালান খরচ সহ আরো অন্যান্য খরচ আছে। কিন্ত সেই চালান খরচ,বা অন্যান্য খরচ তার কোন সঠিক নথিপত্র দেখাতে পারেনি।

হিসাব মতে একটি মৌজা অর্থাৎ শিমুলিয়া মৌজার হিসাবে, যেখানে খতিয়ান আছে ১০২৮ টি অর্থাৎ প্রতিটি খতিয়ানে যদি ৫০ টাকা করে বেশি নেওয়া হয় প্রায় অর্ধলক্ষ টাকা জালিয়াতের সুযোগ রয়েছে তাহলে নড়াইল সদর উপজেলার যত গুলো মৌজা আছে তার হিসাব জনগনের কাছে স্পষ্ট।

কলোড়া ইউনিয়নের শিমুলিয়া মৌজার খতিয়ান নিতে আসা হাফিজুর বিশ্বাস জানান, আমার থেকে প্রতিটি খতিয়ান ১৫০ টাকা করে নিয়েছে,আমিতো লেখাপড়া জানিনা গরিব মানুষ ওই স্যার যা চাইছে আমি তাই দিছি, আর আমাদের শিমুলিয়ার সবার থেকে ১৫০ টাকা করে নিয়েছে।
একই মৌজার খতিয়ান নিতে আসা ইমলাক বিশ্বাস জানান আমার কাছ থেকে ওই অফিসার ১৫০ টাকা নিয়েছে কিন্ত এখন আমরা শুনলাম যে তার দাম ১০০ টাকা আমার মতো একজন গরিবের থেকে কেনো নিলো আমি জানতে চাই।

শিমুলিয়া মৌজার খতিয়ান নিতে আসা অসহায় সালাম মোল্যা সাংবাদিকদের জানান, আমি গরিব মানুষ এই বুড়ো বয়সে কাজ করে খাই কোথাই একটু সরকারি সাহায্য পাবো তা তো দূরে থাক আমার থেকে আরো, প্রতিটি খতিয়ানে ৫০ টাকা বেশি নিলো আমি মোট ৪ টি খতিয়ান আমার থেকে ৬০০ টাকা নিয়েছে।

এ বিষয়ে( ভারপ্রাপ্ত) সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার সেলিম হাসান বলেন এধরনের টাকা বেশি নেওয়ার কোন নিয়ম নাই। বিষয়টি আমি বিবেচনায় নিয়ে পিষ্কার কে তদন্ত করার জন্য বলেছি।

কিন্ত সেটেলমেন্ট অফিসে সার্বক্ষণিক সিসিটিভি দ্বারা পর্যবেক্ষন করেন ওই সেটেলমেন্ট অফিসার সেলিম হাসান,সুতারং বুঝতে আর বাকি থাকেনা যে এই অপকর্ম আর দুর্নীতির সাথে তিনিও জড়িত।তবে এই দুর্নীতির শীর্ষক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন ওই অফিসের(ভারপ্রাপ্ত) পিষ্কার এমদাদুল হক।

প্রশাসন মহল যদি এ বিষয়ে নজরদারি না করে তবে জনগন প্রতারিত হবে আর এই অশাধু অর্থপিশাচ সরকারি কর্মকর্তাগুলো জনগণের টাকা লুটপাট করে দেশকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিবে

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button