সিলেট

ছাতকে চার ডাকাত আটক

 

দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা:

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ সৈয়দেরগাঁও ইউনিয়নের জালালপুর গ্রামে সোমবার রাতে এক দূর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। অস্ত্রধারী ডাকাত দল হানা দিয়ে ২১ভরি স্বর্নালংকার, মোবাইলসেটসহ প্রায় ২২ লাখ টাকার মালামাল লুটে নেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এসময় ডাকাতদের হামলায় আহত ৫ জনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাড়ীর লোকজনের চিৎকারে গ্রামবাসী মাইকে ঘোষনা দিয়ে একত্রিত জনতা ৪ ডাকাতকে আটকের পর গণধোলাই দিয়ে থানা পুলিশের কাছে সৌপর্দ করা হয়েছে। এসময় ডাকাতদের কাছ থেকে ৩ রাউন্ড গুলিসহ একটি দেশীয় পাইপগান, একটি চায়নিজ কুড়াল উদ্ধার করা হয়। আহত ডাকাতদের ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার শেষ রাতে জালালপুর গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাইদুল আলম ডালিমের বাড়ীর গেইট ভেঙ্গে ১৫/২০ জনের আগ্নেয়াস্ত্রধারী ডাকাত ঘরে ডুকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তান্ডব চালায়। এসময় একই ভবনের থাকা হাসনাবাদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হোসাইন মো.মহসিন ও ইতালী প্রবাসী সেলিম আহমদের হানা দিয়ে ৩টি ঘর থেকে প্রায় ২১ ভরি স্বর্নাংকার, ২টি মোবইল ফোন, আড়াই লাখ টাকা সমমুল্যের পাউন্ড ও ডলার, নগদ ৯৩ হাজার টাকাসহ ২২ লাখ টাকার মালামাল লুটে নেয়। ডাকাত দলের তান্ডবে বাড়ীর লোকজন চিৎিকার চেচামেচিতে গ্রামের লোকজন মসজিদের মাইকে ডাকাতের খবর প্রচার করলে গ্রামের লোকজন দল বেঁধে ডাকাতদলকে ধাওয়া করে ৪ জনকে আটক করে। আটককৃত ডাকাতরা হলো, সিলেটের ওসমানীনগর থানার তাজপুর ইউনিয়নের রবিদাস (পালপাড়া) গ্রামের আলিম উল্লাহর ছেলে সাইফুল ইসলাম সফিক (২৩) ও একই থানার গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের কালাসরা (দত্তগাম) গ্রামের মৃত সফর উল্লার ছেলে আনফর আলী আনহর (২৪), জগন্নাথপুর উপজেলার আসারকান্দি ইউনিয়নের ছখতিলক গ্রামের বেলায়াত আলীর ছেলে লাল মিয়া জুয়েল (২৯) ও একই ইউনিয়নের জামালপুর (রোড) গ্রামের মৃত শহিদ উল্লাহর ছেলে সাইফুল মিয়া (২৫)। স্থানীয় জনতার ধাওয়া খেয়ে অন্য ডাকাতরা আগ্নেয়াস্ত্র উচিয়ে ফায়ার করে মালঅমালসহ দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ রাতেই দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। ডাকাতদের বাঁধা দিলে তাদের হামলায় আজাদ মিয়া, সামছুল আলম শাহিন, মাজেদা বেগম ও শিক্ষিকা সুলতানা আক্তার বিউটি আহত হয়। তাদের ৪ জনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ও ১ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, এই ডাকাতির ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের প্রক্রিয়া চলছে। বিষয়টি তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button