সারাদেশসিলেট

কুড়িগ্রামে বোরোর বীজতলা তৈরিতে কর্মব্যস্ত কৃষকরা

পাভেল মিয়া, কুড়িগ্রাম জেলা সংবাদদাতাঃ
দেশের উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামের ভারতীয় সীমান্ত ঘেষা উপজেলা ফুলবাড়ী। এ উপজেলায় নেই কোন বৃহৎ শিল্প কারখানা। এই অঞ্চলের বেশিরভাগ মানুষের জীবন-জীবিকা কৃষিনির্ভর। উপজেলার ১২ হাজার ৪৪৫ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ করে জীবন-জীবিকায় টিকে থাকার সংগ্রাম চলছে ৩৮ হাজার কৃষক পরিবাবের।
ধান, গম, পাট, ভুট্টা, সরিষা, আলুসহ বিভিন্ন প্রকার শাক-সবজি চাষাবাদ করেন স্থানীয় কৃষকরা। তবে বেশিরভাগ কৃষক প্রধান ফসল হিসেবে আমন ও ইরি-বোরো মৌসুমে ধান চাষাবাদ করেন। সেই ধারাবাহিকতায় আমন ধান কাটার পরে তাদের ভাবনা এখন বোরো চাষাবাদ নিয়ে।এখন বোরোধান বীজ কেনা, বীজতলা তৈরি ও বীজ বপনে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। আর আসন্ন ইরি – বোরো মৌসুমে জমিতে হাইব্রিড জাতের ধান চাষাবাদে কৃষকদের বেশি আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।
জেলার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, অনেকেই ইতিমধ্যে বীজতলায় বীজ বপন কাজ শেষ করেছেন। কেউ কেউ বীজতলায় বীজ বপন করছেন। কেউ আবার বীজতলা তৈরি করছেন। সবমিলিয়ে বীজতলাতেই কর্মব্যস্ত সময়  পার করছেন ধান চাষিরা।
ফুলবাড়ী উপজেলার ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নের কৃষক হাফেজ শফিক বলেন, তিনি এবারে ৫ বিঘা জমিতে বোরোধান আবাদ করার প্রস্তুতি নিয়েছেন। ধান চাষাবাদ করতে এখন তিনি বীজতলা তৈরি করেছেন। বাজার থেকে হাইব্রিড জাতের ধান বীজ কেনার কাজ শেষ করেছেন। জমিতে চাষ দিয়ে বীজতলা তৈরির কাজ চলছে দুদিন পরে বীজতলায় বীজ বপন করবেন।
সদর ইউনিয়নের চন্দ্রখানা গ্রামের কৃষক বাদল সরকার ও আব্দুল রশিদ মিয়া বলেন, তারা আমন ধান কাটা মাড়াইয়ের কাজ শেষ করেছেন। এখন তারা জমিতে হাইব্রিড জাতের বোরো ধান চাষাবাদের জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বীজতলা তৈরির জন্য জমিতে সেচ দিয়েছেন। পাওয়ার টিলার দিয়ে চাষ দিয়ে বীজতলা তৈরি করছেন।
উপজেলার শাহ বাজার এলাকার কৃষক শাহাজাহান আলী বলেন, তিনি ২৭ বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষাবাদের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। চারার চাহিদা পূরণের জন্য তিনি কৃষি অফিসের পরামর্শে ইতোমধ্যে দেড় বিঘা জমিতে  বীজ বপন কাজ সম্পন্ন করেছেন। বর্তমান আবহাওয়া অনুকূল থাকায় বীজতলা থেকে সুস্থ সবল চারা পাওয়ার আশা করছেন তিনি।
ফুলবাড়ী উপজেলা কৃষি অফিসার নিলুফা ইয়াসমিন জানান, উপজেলায় বোরো মৌসুমে চাষাবাদের জন্য বীজতলায় বীজ বপন কাজ চলমান রয়েছে। এখন পর্যন্ত ৩১৫ হেক্টর জমিতে বীজ বপন করা হয়েছে। সুস্থ সবল চারা উৎপাদন ও চাষাবাদ করে  কৃষকরা যাতে লাভবান হতে পারে সেজন্য আমাদের সকল উপসহকারী কৃষি অফিসারগন মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি আমরা ইরি- বোরো মৌসুমে বঙ্গবন্ধু -১০০, ব্রি ৭৪, ৮৪, ৮৯, ৯২, ৯৬ প্রভৃতি উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান কৃষকের মাধ্যমে চাষাবাদ করে স্থানীয় ভাবে বীজের চাহিদা পূরণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button