অপরাধআইন ও বিচারজেলা সংবাদরাজশাহীসারাদেশ

ইভটিজিং এর প্রতিবাদ করায় মেয়ের বাবাকে হাতুড়ি পেটা করার অভিযোগ

স্কুলছাত্রীকে ইভটিজিং ও তুলে নেয়ার প্রতিবাদ করায় ওই ছাত্রীর বাবাকে চাইনিজ কুড়াল ও হাতুড়িপেটা করে জখম করার অভিযোগ উঠেছে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতির ভাতিজা সবুজ খানের (১৯) বিরুদ্ধে।

 

হামলায় আহত ওই ছাত্রীর বাবা জাকারিয়ার মাথায় পড়েছে ১২টি সেলাই। এতকিছুর পরও থানা পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা নেয়নি বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

শনিবার (২০ মে) দুপুরে সয়দাবাদ ইউনিয়নের জারিলা গ্রামে সরেজমিন গেলে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

আহত জাকারিয়ার শ্বাশুড়ী রোকেয়া খাতুন বলেন, আমার নাতনী জুথি খাতুন স্থানীয় স্কুলের ৯ম শ্রেণীর ছাত্রী। প্রায় ১ বছর ধরে স্কুল ও রাস্তায় বের হলে জুথিকে উত্যক্ত করে একই গ্রামের মালেশিয়া প্রবাসীর আব্দুল কাদেরের ছেলে সবুজ খান। ইভটিজিং এর বিষয়টি সবুজের পরিবারকে বারবার অবগত করা হয়। একারণে সবুজ রেগে গিয়ে গত (১৭ মে) বুধবার দুপুরে সবুজ খান, রিপন, শুভ ও ইমন চাইনিজ কুড়াল ও হাতুরি দিয়ে জাকারিয়ার উপরে অর্তকিত হামলা চালায়। এসময় হাতুরি ও রড় দিয়ে তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাথারি ভাবে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। স্থানীয়রা জাকারিয়াকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। হাসপাতালে জাকারিয়ার মাথায় ১২টি সেলাই দিয়েছে। পরে জাকারিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার্ড করা হয়েছে। বর্তমানে জাকারিয়া মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।

জাকারিয়ার মেয়ে জুথি খাতুন বলেন, স্কুলে যাওয়ার সময় অভিযুক্তরা প্রতিদিনই আমাকে ইভটিজিং করতো। তুলে নিয়ে যাবার হুমকি দিতো। এর প্রতিবাদ করেছে আমার বাবা। পরে আমার বাবাকে ডেকে নিয়ে হাতুড়ি ও চাইনিজ কুড়াল ও রড় দিয়ে পিটিয়ে আহত করেছে।

জুথি আরো বলেন, এর আগে সবুজ পোড়াবাড়ী স্কুলে এক ছাত্রীকে ইভটিজিং করেছিল। ইভটিজিং করার সময় এক শিক্ষক বাধা দিলে সবুজ সেই শিক্ষককে মারপিট করেছিলো। পরে ঐ শিক্ষক সবুজের নামে মামলা করেছিলো।

অভিযুক্ত সবুজ খানের চাচা গোলবার খান বলেন, স্কুলে যাওয়ার সময় আমার ভাতিজাকে জাকারিয়া মারপিট করেছিলো। বিষয়টি এলাকার মুরুব্বিদের জানানো হয়েছে। পরে ভাতিজা সবুজ ও তার বন্ধুদের সাথে নিয়ে জাকারিয়াকে মারপিট করেছে। বর্তমানে ভাজিতাসহ তার বন্ধুরা বাড়ির বাহিরে আছে।

সয়দাবাদ ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সুমন বাবু বলেন, ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। মারপিটের পরে হাসপাতালে গিয়ে আহত জাকারিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। রোগীর পরিবারের সাথে কথা বলে জানতে পেরেছি বর্তমানে জাকারিয়ার অবস্থা ভালো না।

এবিষয়ে সয়দাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইদুল ইসলাম রাজা বলেন, মারপিটের ঘটনা ঘটেছে শুনেছি। দুপক্ষেকে মিমাংশা করার জন্য বলা হয়েছে।

সয়দাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নবীদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমাকে অবগত করেছে। আমি আহত জাকারিয়াকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য বলেছি। জাকারিয়া সুস্থ্য হলে দুপক্ষের মুরুব্বীদের সাথে নিয়ে মিমাংশা করে নেওয়ার কথা বলেছি।

এবিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির জানান, এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button